'আমি আর পাকিস্তানে যেতে চাই না'-উর্দুভাষী আবদুল কাইয়ুম খান

উর্দুভাষী আবদুল কাইয়ুম খান
Image caption উর্দুভাষী আবদুল কাইয়ুম খান

ভারত-ভাগের ফলে ৭০ বছর আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অনেক মুসলমান উর্দুভাষীরা চলে আসেন।

এদের বেশিরভাগ ছিলেন বিহারের অধিবাসী। বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে তারা বিহারী নামে পরিচিত।

বিহারীদের একাংশের আশা ছিল পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের নাগরিক হবেন। আব্দুল কাইয়ুম খান তাদের মধ্যে একজন।

যিনি দেশ ভাগের পর পূর্ব পাকিস্তানে এসে পাকিস্তানের নাগরিক হওয়ার অনেক চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেই আশা তার পূরণ হয় নি।

সৈয়দপুরের হাতিখানা কায়েম ক্যাম্পে আবদুল কাইয়ুম খানের বসবাস।

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর মি. খান এবং তার সাত ভাই চলে আসেন এই পারে। তাদের পূর্ব পাকিস্তানে আসার মূল কারণ ছিল কয়েকটি।

মি. খান বলছিলেন "সেই সময় বিহারের হিন্দু মুসলমান দাঙ্গা একটা বড় কারণ আমাদের এপারে চলে আসার জন্য। তারপর ভাষা এবং ধর্ম আরো দুইটি কারণ"।

Image caption সৈয়দপুরের হাতিখানা কায়েম ক্যাম্পে আবদুল কাইয়ুম খানের সাথে কথা বলছেন ফারহানা পারভীন

মি. খানের ভাষায় "পাকিস্তান আমাদের দেশ আছে, ইন্ডিয়া হিন্দুদের দেশ আছে। তো আমরা আমাদের দেশে আসতে চেয়েছি।

কিছুদিন পর থেকে গেল বাঙ্গালী-বিহারী মারামারি-কাটাকাটি"।

মি. খান এবং তাঁর ভাইদের সম সময়ের ইচ্ছা ছিল পাকিস্তান রাষ্ট্রের নাগরিক হওআর।

তিনি বলছিলেন "আমাদের ক্যাম্প করে দিল আইসিআরসি (ইন্টারন্যাশনাল রেডক্রস সোসাইটি)। পাকিস্তান যাবো, পাকিস্তান যাবো এটাই ছিল আমার মুখের বুলি। কিন্তু আজ পর্যন্ত যেতে পারিনি"।

পাকিস্তান সরকার তাদের যেমন নেয়নি তেমনি তারা বিহারে পূর্ব-ভিটায় ফিরে যেতে পারেননি।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ১৯৪৭ সালে অনেকেই ভারত ছেলে চলে আসেন

২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার উর্দুভাষীদের জাতীয় পরিচয় পত্র তৈরি করে দেয়।

"আমরা কী করতাম? আমরা যাইতে পারছি না, কাউকে বলতে পারছি না। তারপর বললাম ঠিক আছে আমাদের কার্ড করে দাও" বলছিলেন তিনি।

মি. খানকে জিজ্ঞেস করেছিলাম এখনো কি যেতে চান পাকিস্তানে?

উত্তরে তিনি বললেন " আমাদের মন ভাঙ্গে গেছে। আমরা হাজার বার পাকিস্তানের নাম মুখে নিয়েছি কিন্তু পাকিস্তান একবারো আমাদের নাম নেয় নি"।

আমরা পাকিস্তানকে দেখতে চাইনা, ওখানে যেমন বোমা হামলা হচ্ছে, মানুষ মরছে প্রতিদিন- এখানে তো তেমনটা নেই। এখানে যাই হোক কিছু করে খেতে পারছি, থাকার জায়গা তো একটা পাইছি"।