বাংলাদেশের হজযাত্রীরা সবাই কি শেষ পর্যন্ত হজে যেতে পারবেন

মক্কায় হাজীদের তাঁবু ছবির কপিরাইট AFP
Image caption মক্কায় হাজীদের তাঁবু

বাংলাদেশে হজযাত্রীদের মধ্যে এখনও সাড়ে তিন হাজার মানুষ ভিসা পাননি। তাদের ভিসা নেয়ার জন্য সময় আরো তিনদিন বাড়ানো হয়েছে।

তবে হজ ফ্লাইট শেষ হবার মাত্র ৮ দিন বাকি থাকতে এখনো ৫২ হাজার যাত্রী হজ ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন।

বিমান বাংলাদেশ বলছে, তারা আরো দুই দিন হজ ফ্লাইট বাড়ানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছেন।

তবে আজ শুক্রবারও যাত্রীর অভাবে একটি ফ্লাইট ছেড়ে যেতে পারেনি।

আগামী ২৬শে অগাস্ট হজযাত্রীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশের শেষ ফ্লাইটটি ছেড়ে যাবার কথা।

কিন্তু হজ ফ্লাইট শুরুর ২৪ দিন পর প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার যাত্রীর মধ্যে এখনও ভিসা পেয়ে ফ্লাইটে ওঠার অপেক্ষায় রয়েছেন ৫২ হাজার মানুষ। এছাড়া ভিসা পাননি এখনো সাড়ে তিন হাজার মানুষ।

এই অবস্থায় ভিসা নেয়ার জন্য আরো তিনদিন সময় বাড়িয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ কার্যক্রমের পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলছেন, এই সময়ের মধ্যে বাকিদেরও ভিসা পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।

"এজেন্সির মালিকরা যদি সময়মত পাসপোর্ট জমা দেয় তবে সেটা একদিনেও সম্ভব," বলেন মি. ইসলাম।

ছবির কপিরাইট BBC BANGLA
Image caption বাংলাদেশে ঢাকার হজ ক্যাম্প

তবে ভিসা পেলেও প্রশ্ন থেকে যাবে তারা হজ ফ্লাইট পাচ্ছেন কিনা।

হজ ফ্লাইট শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত বিমানের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এসব ফ্লাইটে ১৬ হাজারের বেশি যাত্রী হজ পালনের জন্য যেতে পারতেন।

হজ যাত্রীদের বহন করছে বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বিমান চলাচল সংস্থা। বাংলাদেশ বিমান বলছে, ২৬ অগাস্ট পর্যন্ত তাদের হজ ফ্লাইট পরিচালনা করার কথা রয়েছে। তবে এর মধ্যে সবাই যেতে পারবেন কিনা, তা অনেকটা নির্ভর করবে যাত্রীরা ঠিকমত আসছেন কিনা তার ওপরও।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ বলছেন, তারা ফ্লাইটের সময় বাড়ানোর জন্যও আলোচনা করছেন।

"আমরা বিমানের পক্ষ থেকে ২৮শে অগাস্ট পর্যন্ত যাতে হজ ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারি সেজন্য সৌদি সরকারের কাছে আমাদের পক্ষ থেকে অনুরোধ যাবে"।

সৌদি এয়ারলাইন্স ২৮শে অগাস্ট পর্যন্ত হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

মি. মেরাজ বলেন, হজযাত্রী পরিবহনের জন্য বিমানের বিভিন্ন রুটের ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষ থেকে তারা ফ্লাইট পরিচালনার জন্য নতুন ২১টি স্লট নিয়েছেন।

যাত্রীর যোগান পেলে তারা তাদের বরাদ্দকৃত যাত্রীর কোটা পূরণ করতে পারবেন বলে আশাবাদী।

যদিও কিছুদিন আগেই বিমান জানিয়েছিল, ফ্লাইট বাতিল হবার কারণে তারা প্রায় ৪০ কোটি টাকা রাজস্ব হারিয়েছে। মি. মেরাজ বলেন, সেই অঙ্ক এতদিনে আরো বেড়েছে।

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption জেদ্দার বিমান বন্দরে হজযাত্রীদের লাইন (ফাইল চিত্র)

আর্থিক ক্ষতি এবং দুর্ভোগের পরও সব হজযাত্রী শেষপর্যন্ত যেতে পারবেন কিনা জানতে চাইলে হজ এজেন্সিগুলোর সংগঠন, হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম বলেন, প্রতিবছর দেড় থেকে দুই শতাংশ যাত্রী নানা কারণে স্বেচ্ছায় যাত্রা বাতিল করেন। স্বেচ্ছায় যারা যাচ্ছেন না তারা ছাড়া সবাই যেতে পারবেন বলে তিনি মনে করছেন।

শেষপর্যন্ত হজযাত্রী সবাই যেতে পারছেন কিনা তা বোঝা যাবে আরো সপ্তাহখানেক পর।

তবে প্রতিবছর অনেক হজযাত্রী যে তাদের হজ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন, তার অবসান হবে কিনা সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সম্পর্কিত বিষয়