ভারতীয় ধর্মগুরু যৌন নিপীড়ন মামলায় দোষী সাব্যস্ত; রাজ্য জুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption গুরমিত রাম রহিম - ফাইল ছবি

ভারতের জনপ্রিয় ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং পনের বছর আগে দুই মহিলা ভক্তকে ধর্ষণ করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

ভারতের উত্তরের শহর পাঁচকুলা যেখানকার আদালত এই রায় ঘোষণা করেছেন সেখানে রায় ঘোষণার পর ব্যাপক নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।

হরিয়ানা জুড়ে বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার শহরের আকাশে চক্কর দিচ্ছে এবং রাস্তার দুধারে সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তার ভক্তদের দিক থেকে গোলযোগের আশঙ্কা করছে।

নিজেকে একজন আধ্যাত্মিক গুরু হিসাবে দাবি করা মি: সিংয়ের ভক্ত সংখ্যা প্রায় কয়েক লক্ষ।

পনেরো বছর আগে নিজের আশ্রমেই দু'জন নারী ভক্তকে ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আদালতের রায় তার বিরুদ্ধে গেলে গুরমিত রাম রহিম সিং-এর লক্ষ লক্ষ ভক্ত আইন অমান্য করে দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাঁধাতে পারে বলে প্রশাসনের আশঙ্কা।

এর আগেও ওই সম্প্রদায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা বাধিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরমিত রাম রহিমের ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নাম তার আশ্রমের নাম অনুসারেই ডেরা সাচ্চা সৌদা। হরিয়ানার সিরসা শহরে ওই হাই-টেক আশ্রমটি অবস্থিত।

রাজ্য দু'টিতে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নেমেছে ৫৭ হাজার পুলিশ কর্মী - যাদের মধ্যে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ যেমন আছে, তেমনই রয়েছে কেন্দ্রীয় আধা সামরিক বাহিনীও।

দুই রাজ্যের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে এমন দু'শোরও বেশি ট্রেন পরবর্তী তিনদিনের জন্য বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। সব স্কুল-কলেজ আর প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়েছে।

পাঁচকুলা আর চন্ডীগড়ের স্টেডিয়াম ও স্কুলগুলিকে প্রশাসন নিজেদের দখলে নিয়ে অস্থায়ী কারাগার তৈরি করেছে, যাতে প্রচুর সংখ্যায় ওই 'গুরুজী'র ভক্তদের গ্রেফতার করতে হলে তাদের রাখার ব্যবস্থা করা যায়।

হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে

প্রশাসন প্রথমে গুরমিত রাম রহিমের ভক্তদের বিপুল সংখ্যায় জমায়েত নিয়ে কোনও ব্যবস্থা না নিলেও বৃহস্পতিবার পাঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে রাত থেকে নিরাপত্তার চূড়ান্ত কড়াকড়ি শুরু করে।

চণ্ডীগড়-পাঁচকুলা পৌঁছানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়, প্রতিটা গাড়িতে তল্লাশী চলতে থাকে। অন্যদিকে রাতভর পুলিশ কর্মকর্তারা মাইক হাতে রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছেন জমায়েত হওয়া ভক্তদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে।

অনেক রাতে গুরমিত রাম রহিমের একটি ভিডিও বার্তা ইন্টারনেটে প্রকাশ করা হয়, যাতে তিনি শান্তি বজায় রাখার এবং ভক্তদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় বেশীরভাগ ভক্তর কাছেই সেই বার্তা পৌঁছায়নি বলে প্রশাসন মনে করছে।

আজ সকালে ২০-২৫টি গাড়ির বহর নিয়ে নিজের আশ্রম থেকে রওনা হন গুরমিত রাম রহিম সিং। সঙ্গে ছিল তার নিজস্ব কম্যান্ডো বাহিনী।

গুরমিত রাম রহিম হরিয়ানায় গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন। বিজেপির অনেক নেতা-মন্ত্রী-সংসদ সদস্যই ওই ধর্মগুরুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা সামাজিক মাধ্যমে নানা সময়ে প্রকাশ করেছেন।

এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে লক্ষ লক্ষ ভোট রয়েছে বলে মনে করা হয়।

তবে বিতর্ক কখনই পিছু ছাড়েনি গুরমিত রাম রহিমের।

গুরমিত রাম রহিম ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption গুরমিত রাম রহিম একাধারে ধর্মপ্রচারক, সমাজ সংস্কারক, গায়ক, সিনেমার নায়ক ও পরিচালক।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়তে পারেন:

সমুদ্র সৈকত থেকে বালি সরালেই জরিমানা

আলীগের কাঠগড়ায় প্রধান বিচারপতি, পরিণতি কি?

আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় ‘যীশু’কে দেখার দাবি

সম্পর্কিত বিষয়