রোহিঙ্গাদের আবার বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা

উখিয়া সীমান্তের কাছে নাফ নদীর ওপারে এসে জড়ো হয়েছেন রাখাইনের রোহিঙ্গারা ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption উখিয়া সীমান্তের কাছে নাফ নদীর ওপারে এসে জড়ো হয়েছেন রাখাইনের রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সর্বশেষ সহিংসতার পর বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমরা পালিয়ে আবারও বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কয়েকশো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের আবার ঠেলে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

রোহিঙ্গারা প্রথমে টেকনাফের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করে।বৃহস্পতিবার রাত থেকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে প্রবেশের চেষ্টার সময় বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ১৪৬জন রোহিঙ্গাকে ধরে ফেরত পাঠিয়েছে।

বাংলাদেশে টেকনাফ সীমান্ত থেকে বিজিবির কর্মকর্তা লে: কর্ণেল আরিফুল ইসলাম বলছিলেন, রোহিঙ্গারা ছোট ছোট দলে নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। এমন চেষ্টা তারা প্রতিহত করেছেন।

বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আছে বলে এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

আরও পড়তে পারেন:

রাখাইনে উত্তেজনা: সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৭০জন নিহত

রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ করুন, নাগরিকত্ব দিন: কমিশন

কক্সবাজারের উখিয়াতেও সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ডে শুক্রবার বিকেলে শ' দুয়েক রোহিঙ্গা নারী পুরুষ এসেছিলেন। বিজিবি সেখান থেকেই তাদের ফেরত পাঠিয়েছে বলে বাহিনীটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, টেকনাফে এবং উখিয়ায় নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমার সীমান্তে শত শত রোহিঙ্গা নারী পুরুষকে দেখা যাচ্ছে। তারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারেন, এমন ধারণা করা হচ্ছে।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption উখিয়ার শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দারা জানাচ্ছেন রাখাইন রাজ্য থেকে তাদের আত্নীয় স্বজন বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন

উখিয়ার বালুখালী এলাকায় একটি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে লালু জামান হোসেন বলছিলেন, রাখাইন রাজ্য থেকে তার আত্নীয় স্বজন বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এখন রাখাইন রাজ্যে থাকা তাঁর আত্মীয়দের মোবাইল ফোন বন্ধ পাচ্ছেন। ফলে তিনি আত্নীয়দের সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারছেন না।

মিয়ানমার সীমান্তের কাছের টেকনাফের একটি ইউনিয়নের মেম্বার জালাল আহমেদ বলেছেন, বৃহস্পতিবার মধ্য রাতের পর থেকে তারা মিয়ানমারের ভিতর থেকে ব্যাপক গুলির শব্দ শুনেছেন। এরপর সীমান্তে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের চেষ্টা তিনি দেখেছেন।

পরিস্থিতি নিয়ে বিজিবি মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে কথা বলেছে।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলছিলেন, "মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী আমাদের বলেছে যে, তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী কয়েকটি সংগঠন তাদের উপর আক্রমণ করেছে। সেকারণে তারা অ্যাকশন নিচ্ছে। আমরা বলেছি, রোহিঙ্গারা যেন বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা না করে। তারা সহযোগিতা করার কথা বলেছে। তারপরও রোহিঙ্গারা আসার চেষ্টা করেছে।"

গত বছরেই অক্টোবরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ৭০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছেন। এছাড়া কয়েকদশক ধরে ৩০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশে রয়েছেন। ফলে বাংলাদেশ এবার কোনভাবেই রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেবে না বলে কর্মকর্তারা বলছেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, "আমরা তো সবসময় তাদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখে তাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের খাবার দিয়েছি বা সাহায্য করেছি। কিন্তু এতে সমস্যার কোন সমাধান হচ্ছে না। সেজন্য এখন সীমান্তে তাদের ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না।"

এদিকে ইয়াঙ্গুনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে মিয়ানমার সরকারের সাথে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে বলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন।

সম্পর্কিত বিষয়