ভারতে সাংবাদিকতা বিশ্ববিদ্যালয়ের চত্বরে তৈরি হচ্ছে গো-শালা

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন অনেক গোশালা তৈরি হয়েছে ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এখন অনেক গোশালা তৈরি হয়েছে

ভারতের জাতীয় সাংবাদিকতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে একটি গোশালা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানকার কর্তৃপক্ষ।

মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে মাখনলাল চর্তুবেদী রাষ্ট্রীয় পত্রকারিতা বিশ্ববিদ্যালয়টি অবস্থিত।

শহরের বাইরে, প্রায় ৫০ একর জমি নিয়ে তারা একটি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস তৈরি করছে। সেখানেই এই গোশালা আর চাষের ক্ষেত তৈরি করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ব্রিজকিশোর কুঠিয়ালা আরএসএসের ঘনিষ্ঠ, আর সেজন্যই দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে গোশালা তৈরি করার প্রস্তাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

মি. কুঠিয়ালা বিবিসিকে জানিয়েছেন, "এই গোশালা থেকে ছাত্রছাত্রীরা দুধ, দই, মাখন খেতে পারবে, আবার গোবর ব্যবহার করা হবে গ্যাস উৎপাদনের প্লান্টে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলে রান্নার গ্যাসও সরবরাহ করা হবে ওই গোবর-গ্যাস প্লান্ট থেকে।"

চাষের ক্ষেত থেকে উৎপাদিত হবে অর্গ্যানিক শাক-সব্জি।

ছবির কপিরাইট Shureh Niyazi
Image caption মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে মাখনলাল চর্তুবেদী রাষ্ট্রীয় পত্রকারিতা বিশ্ববিদ্যালয়

তিনি এটা মানতে চান নি যে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে আরএসএসের কোনও সম্পর্ক আছে।

"আমি আরএসএসের কর্মী, এটা নিয়ে আমি গর্বিত। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে আরএসএসের কথায় এই গোশালা তৈরি হচ্ছে। গরু তো শুধু আরএসএসের বিষয় নয়, গরু সারা ভারতের, সারা পৃথিবীর সম্পত্তি। কংগ্রেসের লোকরাও তো গোরু পালন করে," বলছিলেন উপাচার্য।

সিপিআইএমের মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সম্পাদক বাদল সরোজ এই বিষয়ে একটু মজা করে একটা বিবৃতি দিয়েছেন:

"ভোপালের সাংবাদিকতা বিশ্ববিদ্যালয়ে গোশালা তৈরি হচ্ছে। তদন্তমূলক সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে এবার কি ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে গোবর আর গোমূত্র নিয়ে ডিসার্টেশান পেপার লেখানো হবে?"

গোশালা তৈরির জন্য রীতিমতো খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছে - যাতে গোশালা চালাতে ইচ্ছুক ব্যক্তি বা সংগঠন এগিয়ে আসতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রী অবশ্য বলছেন গোশালা তৈরির আগে বুনিয়াদি সুযোগসুবিধাগুলোর ব্যবস্থা করা উচিত।

"বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গোশালা তৈরি করার অর্থ আছে, অথচ ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষনের টাকা নেই। ক্লাসরুমে বসার জায়গা অপ্রতুল। এভাবেই চলছে সবকিছু," বলছিলেন এক ছাত্র দুর্গেশ গুপ্তা।

আরেক ছাত্র নাম গোপন রাখার শর্তে জানাচ্ছিলেন, "গোশালা খোলার বদলে পড়াশোনার পরিবেশ, সামগ্রী এগুলোর বন্দোবস্ত করা বেশি জরুরি।"

ছবির কপিরাইট Shureh Niyazi
Image caption বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রী বলছেন গোশালা তৈরির আগে বুনিয়াদি সুযোগসুবিধাগুলোর ব্যবস্থা করা উচিত।

তবে একজন ছাত্রী, সুলক্ষণা প্যাটেল জানাছিলেন যে গোশালা খোলার এই সিদ্ধান্ত খুব ভাল।

"একটা ভাল পদক্ষেপ। আমরাও একটা ভাল কাজের সঙ্গে কোনও না কোনও ভাবে যুক্ত হব। বিশ্ববিদ্যালয় যদি গরুদের বাঁচাতে কোনও কাজ করে, তা নিয়ে কারও সমস্যা হওয়ার তো কথা নয়!" বলছিলেন সুলক্ষণা।

স্বাধীনতা সংগ্রামী ও হিন্দি ভাষার বিশিষ্ট কবি-সাংবাদিক মাখনলাল চর্তুবেদীর নামে ভোপালে এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়টি তৈরি হয় ১৯৯০ সালে।

সম্পর্কিত বিষয়