সীমান্তে ভারতের বিরুদ্ধে বিজয় দাবী করছে চীন

ছবির কপিরাইট AFP
Image caption গত দুই মাস ধরে ভারত-চীন সীমান্তে উত্তেজনা চলছিল।

চীন বলছে, ভারতের সাথে সীমান্তে বিবদমান এলাকা থেকে ভারতীয় সৈন্যদের প্রত্যাহার করা হয়েছে।

ফলে সীমান্ত নিয়ে দু'দেশের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে উত্তেজনা চলছিল সেটির অবসান হয়েছে বলে চীন মনে করছে।

বেইজিং-এ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, "সীমান্ত লঙ্ঘনকারী ভারতীয় সৈন্যদের তাদের নিজের সীমানার ভেতরে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।"

ভারত বলছে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতার পর ভারতীয় সেনাদের সীমান্ত থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে।

গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে চীন ডোকলাম সীমান্তে একটি রাস্তা নির্মাণ করার উদ্যোগ নিলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামী সপ্তাহে চীন সফরে যাবার আগে সীমান্ত নিয়ে দুপক্ষের মাঝে সমঝোতার ঘোষণা এলো।

সীমান্তের যে জায়গাটি নিয়ে ভারত এবং চীনের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়েছিল সেটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য সিকিম এবং ভুটানের সাথে সংযোগস্থলে অবস্থিত।

এ জায়গাটি ভুটান তাদের সীমান্ত বলে দাবী করে এবং তাদের দাবীকে সমর্থন করছে ভারত। কিন্তু চীন মনে করে সে জায়গাটি তাদের সীমান্তের অংশ।

সীমান্তে উত্তেজনা শুরুর পর থেকে ভারত ও চীন পরস্পরকে সে এলাকা থেকে সরে যাবার জন্য সতর্ক করে দিচ্ছিল।

সাংহাই থেকে বিবিসির সংবাদদাতা রবিন ব্র্যান্ট জানিয়েছেন, চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তাদের পরিষ্কার বিজয় দাবী করছে।

কারণ ভারতীয় সৈন্যদের 'সীমান্ত লঙ্ঘনকারী' হিসেবে বর্ণনা করেছে চীন।

দিল্লী থেকে বিবিসির সংবাদদাতা সঞ্জয় মজুমদার জানাচ্ছেন, চীনের জন্য এটি দৃশ্যত একটি বিজয় হলেও ভারতের সংবাদমাধ্যম কিংবা সরকার বিষয়টি সেভাবে দেখছে না।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনের সাথে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চলেছে তার ফলাফল হিসেবেই এ সৈন্য প্রত্যাহার হয়েছে।

বাস্তবে কী ঘটেছে সেটি বোঝা বেশ কঠিন। কারণ কোন পক্ষ ছাড় দিয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যাচ্ছে না।

তবে অনেকে মনে করেন, চীনের সাথে সীমান্ত নিয়ে উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতের দিকে না গিয়ে শেষ হওয়ায় ভারত আপাতত স্বস্তি বোধ করবে।

কারণ সামরিক এবং অর্থনৈতিক শক্তির বিবেচনায় চীন ভারতের চেয়ে এগিয়ে আছে।

কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। চীন সীমান্তে যে রাস্তা নির্মাণ শুরু করেছিল সেটি কি তার বাদ দেবে নাকি কাজ এগিয়ে নেবে? এ প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলছে না।

আরো পড়ুন

ভারতের বিতর্কিত ধর্মগুরু রাম রহিমের ১০ বছরের সাজা

বাঙালি সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে হুশিয়ার, বার্মার গণমাধ্যম