'গোলাগুলি থামলেই, সন্ধ্যার পর তাদের ফেরত পাঠানো হবে'

কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্তে অবস্থান করছে ৩২জন রোহিঙ্গা ছবির কপিরাইট MIR SABBIR/BBC BANGLA
Image caption কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্তে অবস্থান করছে ৩২জন রোহিঙ্গা

বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য কক্সবাজার এবং বান্দরবানের সীমান্তে মিয়ানমার থেকে প্রতিদিনই আসছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। তবে তারা বাংলাদেশ অংশে প্রবেশ করলেও ঘিরে রেখেছে বিজিবি।

তবে স্থানীয়রা বলছেন, বিজিবির চোখ এড়িয়ে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে অনেক রোহিঙ্গা প্রতিদিনই দেশে প্রবেশ করছে।

টেকনাফ থেকে বিবিসির সংবাদদাতা মীর সাব্বির জানাচ্ছেন, টেকনাফের বিভিন্ন জায়গা থেকে সীমান্তের ওপারে মংডুতে ধোয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, গত শুক্রবার থেকেই তারা এ রকম ধোয়া দেখছেন। সেখানে হেলিকপ্টারও উড়তে দেখা যাচ্ছে।

কক্সবাজারের টেকনাফের দমদমিয়া সীমান্তে এখন রয়েছে ৩২জন রোহিঙ্গা।

বিজিবির টেকনাফের কমান্ডিং অফিসার আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ''সীমান্তের ভেতরে যেহেতু গোলাগুলি হচ্ছে, তাই তাদের এখনি ফেরত পাঠানো কঠিন। তাই সন্ধ্যার পর তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে।''

আরো পড়তে পারেন:

রাম রহিম সিংয়ের বিশাল আশ্রমের ভেতরে যা আছে

নরখাদকের ভয়ে অস্থির এক গ্রামের চিত্র

ছবির কপিরাইট MIR SABBIR/BBC BANGLA
Image caption বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেই নাফ নদীর ওপারে মিয়ানমারের শহর মংডুতে ধোয়া উড়তে দেখা যাচ্ছে

প্রতিদিনই রাতের আধারে ছোট ছোট নৌকায় করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে। বিজিবি মাঝপথে পেলেও তাদের আবার ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে।

তবে তিনি বলছেন, ''সীমান্তে আমরা নজরদারি অনেক বাড়িয়েছি। কিন্তু তারপরেও অনেক ছোট ছোট এলাকা থেকে হয়তো অনেকে ঢুকে পড়তে পারে।''

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলছে, রবিবার পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে ৫২০০ রোহিঙ্গা শরণর্থী বাংলাদেশে প্রবেশে করেছে। এখনো কয়েক হাজার রোহিঙ্গা সীমান্তের মিয়ারমার অংশে রয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছে।

বিজিবি জানিয়েছে, গতকাল রাতে ৭২জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আর সন্ধ্যায় ফেরত পাঠানো হয়েছে ৪৭৫ জনকে।

এদিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে হাজার খানেক রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। সেখানে তাদের ঘিরে রেখেছে বিজিবি। পরিস্থিতি শান্ত হলেই তাদের আবার ফেরত পাঠানো হবে বলে বিজিবি বলছে।

ছবির কপিরাইট SAM JAHAN
Image caption রোববার বালুখালি শিবিরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

মিয়ানমারের রাখাইনে সম্প্রতি নতুন করে অস্থিরতা দেখা দেয়ার পর বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের কুতুপালং ও পালংখালী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন বহু রোহিঙ্গা।

টেকনাফে পালিয়ে আসা একজন খোদিজা বেগম, ''তাদের গ্রামে নিরাপত্তা বাহিনী ঢুকে পড়ে গুলি চালিয়েছে। তার দুই ভাই মারা গেছে। স্বামী ও তিনি পালিয়ে আসতে পেরেছেন।''

এদের একজন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশের ডেকিবুনিয়া গ্রামের দীন মোহাম্মদ বলছিলেন, "আমাদের দ্যাশে বহুত গোলাগুলি চইলতেছিল, মানুষ মারা গেছে অনেক। দিনে চারবার পাঁচবার করি গোলাগুলি চইলছে। একদিন অপেক্ষা করে দেখছি, কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হয় নাই।"

"সেইজন্য বাড়িঘর ছেড়ে প্রাণ হাতে নিয়া পালাই আসছি। পরিবার নিয়া কয়েক মাইল রাস্তা পায়ে হেটে, তারপর ছোট একটা খাল পার হয়ে আসছি আমরা।"

বাংলাদেশ আশ্রয় না দিলে, কি করবেন দেশে ফিরে গিয়ে, এমন প্রশ্ন শুনে দীন মোহাম্মদের কথা থেমে যায়।

খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে উত্তর দেন, "আমাদের দ্যাশের অবস্থা ভালো হলে চলি যাব। এখন যদি পাঠাই দেয়, একটু অপেক্ষা করি দেখবো আরকি। আমাদের দ্যাশের কি পরিস্থিতি দেখবো, যদি ভালো হয়, তাইলে চলি যাবো।"

ছবির কপিরাইট SAM JAHAN
Image caption সীমান্তে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মোতায়েন বিজিবি সদস্যরা

২৪শে অগাস্ট রাতে মিয়ানমারের রাখাইনে একসঙ্গে ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর ওই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই রাতের পর থেকে এ পর্যন্ত ৯৮ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।

আরও সহিংসতার আশঙ্কায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা নাফ নদী ও স্থল সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা করছে।

সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ অংশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে মিয়ানমারের সীমান্ত রক্ষীদের গুলি করার ঘটনাও ঘটেছে।

বিবিসি বাংলার আরো খবর:

জাপানের ওপর দিয়ে উড়ে গেল উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র

''তারা জিজ্ঞেস করে, আমার বাবা কই, উত্তর দেয়ার ভাষা আমার থাকে না''

মিশরে চালু হলো বিশ্বের প্রথম ফতোয়া বুথ

'তাঁবু আর খাবার যারা দিছে, তাদের চিনি না আমি'

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য