‘বেওয়ারিশ’ নয় বোন হিসেবে দাফন করতে চায় পরিবার

বাংলাদেশে প্রতি বছরই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
Image caption বাংলাদেশে প্রতি বছরই নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশে চলন্ত বাসের মধ্যে এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার পর টাঙ্গাইলের মধুপুরে তাঁকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছিল।

মৃত তরুণীর ভাই তাঁকে পুনরায় দাফনের জন্য মরদেহ উদ্ধারের জন্য আদালতে আবেদন করেন।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ বৃহস্পতিবার টাঙ্গাইলের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এই আদেশ দেন।

পুলিশ বলছে মরদেহ উত্তোলন করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের জন্য ব্যবস্থা নিতে নিহত তরুণীর বড় ভাই গতকাল বুধবার থানায় আবেদন করেন।

তাঁর আবেদনটি আজ আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে রাস্তার পাশে জঙ্গল থেকে পুলিশ গত শনিবার সকালে তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করার পর বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে।

তরুণীর ভাই হাফিজুর রহমান বিবিসিকে বলেন তাঁদের বোনকে বেওয়ারিশ হিসেবে না , স্বজন বা বোন হিসেবে দাফন করতে চান তাঁরা। সেই কারণেই মরদেহ তোলার আবেদন করেছিলেন।

ঐ তরুণীর বাড়ি সিরাজগঞ্জের তাড়াশে। এখন তাঁর পরিবার মরদেহটি সেখানে দাফন করবে।

বগুড়া আজিজুল হক কলেজ থেকে লেখাপড়া করার পর ঐ তরুণী একটি বহুজাতিক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। একইসাথে ঢাকায় একটি ল কলেজে পড়তেন।

এই তরুণীর বড় ভাই হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, তাঁর বোন শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় অংশ নিতে শুক্রবার বগুড়া গিয়েছিলেন।

সেখান থেকে সন্ধ্যায় এক সহকর্মীর সাথে কর্মস্থল ময়মনসিংহে যাওয়ার জন্য ছোঁয়া পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন। তাঁর সহকর্মী টাঙ্গাইলে এলেঙ্গায় নেমে যান।

মি: রহমান বলেছেন, তাঁর বোনের সাথে শুক্রবার রাত ১০:৩০ পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল।

ভারতের ‘নোটবন্দী’ কি তাহলে ব্যর্থ?

নৌকা ডুবে ১৭জন রোহিঙ্গা নারী ও শিশু নিহত

আইএসের কাছ থেকে পালিয়ে এসে পাপমুক্তির চেষ্টা দুই তরুণীর

রোহিঙ্গা নারীরা জানেন না স্বামী-সন্তানরা কোথায়

এরপর বাসের হেলপার ফোন ধরে তা বন্ধ করে দিয়েছিল।

হাফিজুর রহমান বলেছেন, গ্রেফতারকৃতরা তাঁর বোনকে ধর্ষণের পর গলা টিপে এবং ঘাড় মটকে হত্যার যে বর্ণনা আদালতে দিয়েছে, আদালতে তা শুনে তিনি শিউরে উঠেছিলেন।

"এত নির্মমভাবে ধর্ষণের পর ঘাড় মটকে হত্যা করেছে। আদালতে আসামীরা যখন বর্ণনা দেয়, আমার তখন কলিজা ফেটে যাচ্ছিল। শুনে মনে হচ্ছিল, এরা পশুর চেয়েও অধম। এদের সর্বোচ্চ শাস্তি আমি চাই।"

মামলাটি দায়ের করেছে হাফিজুর রহমান। পুলিশ বলেছে এখন মামলায় অল্প সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেয়া সম্ভব হবে।

এরপর সোমবার ঐ তরুণীর বড় ভাই পুলিশের কাছে তরুণীর মৃতদেহের ছবি দেখে তাঁকে শনাক্ত করেন।

তখন পুলিশ তদন্ত করে ছোঁয়া পরিবহন নামের একটি বাসের চালক এবং হেলপারসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের তিনজন মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।