মহাকাশে ভয়েজারের ৪০ বছর, এখনও সচল
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

মহাকাশ যান ভয়েজারের ৪০ বছর পূর্ণ হলো। সত্তরের দশকের ওই যানটি এখনও যেভাবে কাজ করছে তাতে বিজ্ঞানীরা বিস্মিত হয়েছেন।

ভয়েজার ওয়ান এবং ভয়েজার টু- এই দুটো যান মহাকাশে পাঠানো হয়েছিলো ১৯৭৭ সালে।

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা ভয়েজার ওয়ান উৎক্ষেপণ করে ৫ই সেপ্টেম্বর। এর ঠিক ১৬ দিন পর মহাকাশে পাঠানো হয় তারই টুইন ভয়েজার টু।

কিন্তু ৪০ বছর পরে এখনও এই দুটো যান সৌর জগতের বাইরে থেকে নানা রকমের তথ্য পাঠিয়ে যাচ্ছে। অথচ এই দুটো যানই তৈরি করা হয়েছে সত্তরের দশকের প্রযুক্তি দিয়ে। তারপরেও এটি পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরে অবস্থিত কোন মহাকাশ যান।

প্রায় ২০ দশমিক ৮ বিলিয়ন কিলোমিটার দূরে। আর ঘুরছে ঘণ্টায় ৬১ হাজার কিলোমিটার গতিতে।

ভয়েজারের ডিউটি মিশন কন্ট্রোলার এনরিক মেদিনা বলছেন, এই মহাকাশ যানের প্রযুক্তিতে তিনি দারুণভাবে বিস্মিত হয়েছেন।

"আমার বিস্ময়ে কখনো কোনো বিরতি ঘটেনি। এটা ১৯৭০ এর দশকের প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। প্রকৌশল বিজ্ঞানের ইতিহাসে এই যানটি তৈরি করার ঘটনা বিশাল একটি ব্যাপার," বলেন তিনি।

মাত্র ২০ ওয়াটে চলে ভয়েজারের ট্রান্সমিটার যা কীনা একটি ফ্রিজের লাইট বাল্ব জ্বালাতে যে পরিমাণ বিদ্যুতের প্রয়োজন তার সমান। তারপরেও এই যানটি পাঠাচ্ছে জুপিটারের বিস্ময়কর সব ছবি।

ছবির কপিরাইট NASA/JPL-CALTECH/SSI
Image caption শনির ছবিও এসেছে ভয়েজার থেকে

এই ভায়েজারের মাধ্যমেই প্রথম জানা যায় এই গ্রহের রেড স্পট এবং বড় আকারের ঝড় সম্পর্কে। যানটি যেমন শনি গ্রহের চারপাশের রিং এর ছবি তুলে পাঠিয়েছে, তেমনি আবিষ্কার করেছে এর নতুন নতুন উপগ্রহও।

নেপচুন এবং ইউরেনাসের পাশ দিয়ে উড়ে যাবার সময় এই দুটো গ্রহের প্রচুর ছবি পৃথিবীতে পাঠিয়েছে ভয়েজার টু। ১৯৯০ সালে ভয়েজার ওয়ান মহাকাশ থেকে পৃথিবীর এমন এক ছবি পাঠিয়েছিলো যা দেখে চমকে উঠেছিলো বিজ্ঞানীরা।

এই মহাকাশ যানটি নিয়ে শুনুন নাসার বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সাক্ষাৎকার। শুনতে চাইলে উপরের অডিও লিঙ্কে ক্লিক করুন।

স্মার্ট ন্যাপি ম্যাট

শিশুর শারীরিকভাবে বেড়ে ওঠা বা তার বিকাশের উপর নজর রাখার জন্যে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিশেষ ধরনের ন্যাপি ম্যাট তৈরি করেছে। এটি এক ধরনের বিছানা বা মাদুরের মতো যার উপরে শুইয়ে শিশুর ন্যাপি বদল করা হয়।

এই বিছানাকে বলা হচ্ছে স্মার্ট ন্যাপি ম্যাট। যারা এটি তৈরি করেছেন তারা বলছেন, এর ফলে পিতামাতা এখন তার নবজাতকের স্বাস্থ্যের ওপর নজর রাখতে পারবেন খুব সহজেই।

Image caption ম্যাটের ওপর শুইয়ে দিলে পাওয়া যায় শিশুর স্বাস্থ্যগত বহু তথ্য

এই বিছানার ওপর শিশুকে শুইয়ে দিলেই মোবাইল ফোনে ইন্সটল করা অ্যাপে চলে আসবে নানা রকমের তথ্য। এই দুটো যুক্ত থাকে ব্লু টুথের মাধ্যমে।

যেসব তথ্য পাওয়া যাবে তার মধ্যে রয়েছে- শিশুর ওজন কতো, লম্বায় কতোটুকু হয়েছে, এক সপ্তাহ আগে কতো ওজন ছিলো ইত্যাদি ইত্যাদি।

এক নবজাতকের এরকম একজন মা এরিন মেরানি বলেন, "আমার সন্তান যখন জন্ম নেয় তখন ও খুব ছোট্ট একটা বাচ্চা ছিলো। তার ওজনও খুব একটা বাড়ছিলো না। ফলে আমার দুশ্চিন্তা হচ্ছিলো। কিন্তু এখন আমি ওকে ন্যাপি ম্যাটের ওপর শুইয়ে দিয়ে নিয়মিত ওর ওজন মেপে নিতে পারছি। আমাকে আর শিশু ডাক্তারের কাছে যেতে হচ্ছে না। এই কাজটা আমি করতে পারছি ঘরে বসেই। কোন ঝামেলা ছাড়াই। ফলে এটা একটা বড় রকমের শান্তি।"

এই অ্যাপের সাহায্যে জানা যায় শিশুর ন্যাপি কখন বদল করতে হবে, শিশুটি প্রয়োজন মতো ঘুমিয়েছে কীনা, খেয়েছে কীনা- বলছিলেন এই স্মার্ট ন্যাপি ম্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান হ্যাচ বেবির প্রধান নির্বাহী অ্যান ক্রেডিট ভাইস।

"আমরা নানা রকমের পরামর্শও দেই। অন্যান্য শিশুর বেড়ে ওঠার পাশাপাশি আপনার সন্তানের শারীরিক বিকাশের ব্যাপারেও আমরা নানা রকমের টিপস দিয়ে থাকি। স্বাস্থ্যগত পরামর্শ থেকে শুরু করে শারীরিক নানা বিষয়ে এসব পরামর্শ দেওয়া হয়। তখন পিতামাতারা সহজেই বুঝতে পারেন যে তাদের শিশুর কোথাও কোন সমস্যা হচ্ছে কীনা," বলেন তিনি।

কিন্তু কোন কোন চিকিৎসক বলছেন, এতো তথ্য পিতামাতার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। কারণ এসবের হয়তো কোন প্রয়োজনই ছিলো না।

Image caption শিশুর শারীরিক বিকাশের ওপর নজর রাখার জন্যে এই অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রে সিয়াটল চিলড্রেন্স হসপিটালের চিকিৎসক ড. ওয়েনডি সু সুয়ানসন বলেন, "আপনি যদি এতো সব তথ্য উপাত্তের দিকে খুব বেশি মনোযোগ দেন, তাহলে সারাদিনই আপনাকে এসব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হবে।" "আপনাকে সারাক্ষণই নানা রকমের নম্বরের পেছনে ছুটতে হবে। ফলে আপনি আপনার শিশুকে ঠিক মতো দেখাশোনা করতে পারবেন না, পারবেন না তাকে গান গেয়ে শোনাতে। ফলে আপনার ঘুমও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত অপ্রয়োজনীয় এসব তথ্যে অনেক ক্ষতি হতে পারে পিতামাতার এবং এর পরিণতিতে শিশুরও।"

কিন্তু এই স্মার্ট ন্যাপি ম্যাট প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বলছেন, এর ফলে শিশুর বেড়ে উঠার ওপর নজর রাখার ব্যাপারে পিতামাতার কাজ সহজ হয়ে উঠবে।

তারা বলছেন, এই প্রযুক্তি তারা আরো উন্নত করার চেষ্টা করছেন। যেমন শিশুকে ম্যাটের ওপর শুইয়ে দেওয়ার পর এখন পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করে অ্যাপটি চালু করতে হয়। কিন্তু ভবিষ্যতে হয়তো ফোনটি হাতেই নিতে হবে না।

বিজ্ঞানের আসর পরিবেশন করেছেন মিজানুর রহমান খান: