বাংলাদেশ ও মিয়ানমার কূটনৈতিক সম্পর্কে আবারো টানাপোড়েন

রোহিঙ্গাদের ঢল ছবির কপিরাইট Dan Kitwood
Image caption বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে, জাতিসংঘের হিসেবে গত কয়েক সপ্তাহে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

চলমান রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে আবারো টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার অভিযোগ করেছে মিয়ানমার আবারও আকাশসীমা লংঘন করেছে।

গত সপ্তাহে তিনবার দেশটি বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘন করেছে বলে অভিযোগ বাংলাদেশ সরকারের।।

গতকাল শুক্রবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ড্রোন ও হেলিকপ্টার গত বৃহস্পতিবার এবং এর আগে ১০ ও ১২ই সেপ্টেম্বর তিন দিন বাংলাদেশের আকাশসীমা লংঘন করেছে। আর এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া উইংয়ের মহাপরিচালক গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকাস্থ মিয়ানমার দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে তার কাছে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবাদলিপি হস্তান্তর করেন।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব লংঘনের মতো ঘটনা পুনরায় যাতে না ঘটে সে বিষয় নিশ্চিত করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য প্রতিবাদলিপিতে দাবি জানানো হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

এর আগেও আকাশসীমা লংঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মিয়ানমার।

মিয়ানমার প্র্রেসিডেন্টের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের বুঝতে পারা উচিত সীমান্তের কাছেই সেনাবাহিনী তার কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাস্তুচ্যুত মানুষের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর জন্য।

ইতোমধ্যেই জাতিসংঘ জানিয়েছে যে মিয়ানমারের রাখাইন থেকে প্রায় চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

এত সংখ্যক রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেবার জন্য বাংলাদেশ সরকার রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে।

এদিকে চীন ও ভারত বলেছে, তাদের ভাষায় রাখাইনে সন্ত্রাস দমনে মিয়ানমার সরকার যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে তাদের পূর্ণ সমর্থন আছে।

গত মঙ্গলবার চীন জানিয়েছে যে 'শান্তি ও স্থিতিশীলতা' রক্ষায় মিয়ানমার সরকারের পাশে আছে তারা।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও রাখাইনে 'চরমপন্থী হিংসা'র তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মিয়ানমার সফরে মি: মোদি বলেছেন "রাখাইনে জঙ্গি হিংসায় সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষের যেভাবে প্রাণহানি ঘটছে মিয়ানমারের সঙ্গে সেই উদ্বেগের শরিক ভারতও"।

আর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন যে, মস্কো মনে করে রোহিঙ্গা সমস্যাটা সম্পূর্ণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

ছবির কপিরাইট Str
Image caption আগুনে পুড়ছে রোহিঙ্গা গ্রাম। অ্যামনেস্টি বলছে সেনাবাহিনীই এসব গ্রামে আগুন দিচ্ছে।