ঢাকার সিনেমা হল মধুমিতার ৫০ বছর: সেই রমরমা অবস্থা আর নেই

ছবির কপিরাইট Madhumita/Facebook
Image caption মধুমিতা সিনেমা হলের যাত্রা শুরু ১৯৬৭ সালে

ঢাকার সিনেমা হল মধুমিতার আজ ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে।

মালিকপক্ষ জানিয়েছে, চলচ্চিত্র জগতের কিছু মানুষকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মধুমিতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করবেন তারা। প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার ইফতেখার-উদ্দিন নওশাদ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদেরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন যেখানে তিনি মধুমিতায় ক্লিওপেট্রা ছবিটি দেখার স্মৃতিচারণ করেছেন।

কিন্তু মধুমিতা সিনেমা হলের হলের শুরুর ইতিহাসটা কেমন ছিল?

হলের মালিক ইফতেখার-উদ্দিন নওশাদ জানান, তার বাবা একজন শিল্পপতি ছিলেন তাদের একটি কেমিকেল কারখানাও ছিলো। তার মাথাতেই মধুমিতা সিনেমা হলের আইডিয়াটা আসে।

"তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বলাকা সিনেমা হলে তখন মহানগর ছবিটি মুক্তি পেয়েছিলো। ছবিটি দেখতে চেয়েও তিনি তার টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন নি। তখন তিন সিনো হল নির্মাণের জিদ ধরেন। তখনই ১৯৬৭ সালে এই হলটি তিনি নির্মাণ করেন।"

মি. নওশাদ জানান, তার পিতা সিনেমার লোক না হলেও তিনি সিনেমা দেখতে ভালোবাসতেন। তিনি এমন সিনেমা-পগল ছিলেন যে ছবি দেখতে কলকাতায়ও চলে যেতেন।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption ঢাকায় সিনেমার পোস্টার। মধুমিতার মালিক বলছেন, ছবির সংখ্যা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে

গত কয়েক বছরে বাংলা সিনেমার জনপ্রিয়তায় বেশ ভাটা পড়েছে। কমে গেছে হলে গিয়ে সিনেমা দেখা দর্শকের সংখ্যাও।

এর চাপ পড়েছে সিনেমা হলের উপরেও। ব্যবসা করতে না পেরে কয়েকটি সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে গেছে।

মধুমিতাও এর বাইরে নয়। হলের মালিক জানান, ব্যবসার অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে ভর্তুকি দিয়ে সিনেমা হলটি চালাতে হচ্ছে।

"আমাদের সোনালী সময় চলে গেছে। বিখ্যাত শিল্পী পরিচালক প্রযোজকরাও আর নেই। কেউ কেউ মারা গেছেন। কেউ গেছেন অবসরে। টেলিভিশনে তারকা তৈরি হলেও সিনেমাতে সেভাবে তারকা আসেনি। এখন শুধু সাকিব খানকে দিয়েই চলছে।"

তিনি জানান ছবির সংখ্যাও এখন আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

তিনি জানান, আগে যেখানে বছরে ১০০টি ছবি হতো এখন হয় ৩০টির মতো। "তার মধ্যে ৫/১০টা ছবি হলে চালানোর যোগ্য। এই পরিস্থিতিতে সিনেমার হলের সংখ্যা ১২০০ থেকে ৩০০-তে নেমে এসেছে।"

মি. নওশাদ জানান, একসময় যেমন সিনেমা হলে টিকেটের কালোবাজারির ব্যবসা হতো সেটাও এখন আর সেভাবে নেই। তবে যদি ভালো ছবি হয় তাহলে শুক্রবার সন্ধ্যায় এখনও এটা কিছুটা রয়ে গেছে।

তিনি জানান, সিনেমার এই হালের কারণে বর্তমান সরকার বিনোদন কর পুরোপুরি উঠিয়ে দিয়েছে।

মধুমিতার মালিক বলেন, বাংলাদেশের সিনেমার জন্যে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভারতীয় সিনেমা।

ছবির কপিরাইট Getty Images
Image caption মধুমিতার মালিক বলছেন, সিনেমাতে তেমন কোন তারকাও নেই এখন যার আকর্ষণে লোকজন হলে যাবেন

"টিভি স্ক্রিনে আমরা সবকিছু দেখছি। ১৬০টি চ্যানেল। আমরা চাচ্ছি ভারতীয় ছবি যদি নির্ধারিত কিছু সংখ্যায় সিনেমা হলে আসে, বাংলা ও হিন্দি মিলিয়ে, ৫২ সপ্তাহের মধ্যে ৩০টি সপ্তাহে, তাহলে সিনেমা হলগুলি আবার জেগে উঠবে।

"আইয়ুব খান ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে ভারতয়ি ছবি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। কিন্তু তার আগে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় বাংলা, হিন্দি, পাকিস্তানি উর্দু ছবির পাশাপাশি হলিউডের ছবিও দেখানো হতো। তখন সিনেমা হলের ব্যবসা ছিলো রমরমা," বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এক সময় ভালো সিনেমার প্রতিযোগিতা ছিলো। যে আগুনে পুড়ি, আবির্ভাব, নীল আকাশের নীচে, এতোটুকু আশার মতো ছবি পেয়েছি। কিন্তু এখন প্রতিযোগিতা নেই। আবর্জনা তৈরি হচ্ছে। ফলে দর্শকরাও হল থেকে চলে গেছেন।

মধুমিতার ৫০ বছর হয়েছে। আরও ৫০ বছর চলবে কীনা জানতে চাইলে হলের মালিক মি. নওশাদ বলেন, "আমার সন্দেহ আছে। আমার পরের পজন্মের এটা অব্যাহত রাখার ইচ্ছে আছে বলে আমার মনে হয় না।"

সম্পর্কিত বিষয়