মাঠে ময়দানে
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

ম্যানচেস্টার সিটি কি প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সেরা দল?

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ক'দিন আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারানোর পর অনেকেই বলছেন, এ দলটিই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এ যাবৎকালের সেরা দল। কথাটা কতটা সত্যি?

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটি ক'দিন আগে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারানোর পর অনেকেই বলছেন, এ দলটিই ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এ যাবৎকালের সেরা দল।

এবার লিগে টানা ১৬টি ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে - যা প্রিমিয়ার লিগের নতুন রেকর্ড । সবশেষ ম্যাচে টটেনহ্যামকেও তারা হারিয়েছে ৪-১ গোলে।

প্রিমিয়ার লিগ পয়েন্ট তালিকায় তারা এখন শীর্ষস্থানে, দ্বিতীয় স্থানে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আছে ১১ পয়েন্ট পেছনে।

ছবির কপিরাইট Laurence Griffiths
Image caption ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা

ম্যানেজার পেপ গার্দিওলা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তার প্রথম মওসুমে খুব একটা ভালো করতে পারেন নি।

কিন্তু এবার দেখা যাচ্ছে যে তিনি তার দলটিকে দিয়ে এমন এক ধরণের ফুটবল খেলাচ্ছেন, যা একই সাথে সুন্দর এবং আক্রমণাত্মক।

ইংলিশ ফুটবল যদিও গতি ও শক্তিনির্ভর স্টাইলের জন্য পরিচিত - কিন্তু অনেকেই বলেছেন, ম্যানচেস্টার সিটির খেলা দেখে তাদের গার্দিওলার কয়েক বছর আগের বার্সেলোনার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে।

ছবির কপিরাইট Laurence Griffiths
Image caption পেপ গার্দিওলা এবার ম্যানচেস্টার সিটিকে দারুণ এক দল হিসেবে গড়ে তুলেছেন

এবারের ম্যানচেস্টার সিটি কতদূর যেতে পারবে? আর সত্যিই কি এটিই ইংলিশ ফুটবলে এযাবৎকালের সেরা দল?

লন্ডনে ফুটবল বিশ্লেষক মিহির বোস বলছিলেন, প্রিমিয়ার লিগে অতীতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি বা আর্সেনালেরও খুব ভালো দল ছিল। সর্বকালের সেরা না হলেও এবারের ম্যানচেস্টার সিটি দলটিকে অন্যতম সেরা বলাই যায়।

তিনি বলছেন, পেপ গার্দিওলা তার নিজের 'পজেশন-ভিত্তিক ফুটবলকে' এবার খুব ভালোভাবে ম্যানচেস্টার সিটি দলে প্রয়োগ করেছেন। এ ধরণের ফুটবল খেলার মত খেলোয়াড়ও এ দলে আছে।

তার কথায়, এবার সিটি যেমন খেলছে তাতে তারা হয়তো লিগ, এফএ কাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সবকিছুই জিততে পারে। তবে সত্যি কতদূর যাবে তারা এটা দেখা যাবে মওসুমের শেষ নাগাদ।

ছবির কপিরাইট GLYN KIRK
Image caption হেড করলে ফুটবলারদের বেশি বয়েসে স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে, এমন আশংকার কথা বলেছেন অনেকে

ফুটবল হেড করলে কি বেশি বয়েসে স্মৃতিভ্রংশের মতো মস্তিষ্কের সমস্যা হতে পারে?

ফুটবল খেললে , বিশেষ করলে হেড করলে কি বেশি বয়েসে ফুটবলারদের ডেমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ হতে পারে? একজন সাবেক ফুটবলারের মৃত্যুর পর অনেক দিন ধরেই এমন অভিযোগ উঠছিল। এখন এ নিয়ে এক গবেষণা শুরু হয়েছে ব্রিটেনে।

ব্যাপারটা নিয়ে বেশ কিচুদিন ধরেই ইংলিশ ফুটবল মহলে কথা বার্তা হচ্ছিল।

প্রথম কথা ওঠে ২০০২ সালে ওয়েস্ট ব্রম দলের সাবেক ফুটবলার জেফ এ্যাস্টল মারা যাবার পর - যিনি হেড করার জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

ডাক্তার উইলি স্টুয়ার্ট তার রিপোর্টে বলেছিলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভারী চামড়ার ফুটবল হেড করার কারণে এ্যাস্টলের মস্তিষ্কের ক্ষতি হয়েছে, এবং এটা সেই ধরণের ক্ষতি যা প্রায়ই মুষ্টিযোদ্ধাদের হয়ে থাকে।

এর পর বেশ কিছু সাবেক ইংলিশ ফুটবলারের পরিবারের লোকের অভিযোগ তুলতে শুরু করেন যে তারা বৃদ্ধ বয়েসে স্মৃতিভ্রংশের মতো মস্তিষ্কের সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছে, এবং দীর্ঘদিন ফুটবল খেলার সূত্রে হেড করার কারণেই এটা হয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হোক।

ছবির কপিরাইট JEAN-FRANCOIS MONIER
Image caption বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত এ আশংকার কোন সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পান নি

একই কথা বলেছেন পেশাদার ফুটবলার সমিতির প্রধানও।

ফুটবলারদের আত্মীয়দের যারা অভিযোগ তুলেছেন তাদের একজন হলেন সাবেক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা নবি স্টাইলস -এর ছেলে জন স্টাইলস।

"আমার বাবার অবস্থা খুবই খারাপ, আমি নিশ্চিত যে দীর্ঘদিন ধরে ফুটবল হেড করার জন্যই এটা হয়েছে। তবে এটা আমার মত। আমি ক্ষুব্ধ এ কারণে যে জেফ এ্যাস্টল মারা যাবার পর থেকে এটা সবাই জানে। করোনার বলেছিলেন বল হেড করার জন্য তার সমস্যা আরো বেড়েছে, কিন্তু তখন এ নিয়ে কিছুই করা হয় নি। "

এখন ইংলিশ ফুটবল এসোসিয়েশন এবং পেশাদার ফুটবলারদের সমিতি পিএফএ-র অর্থায়নে একটি গ্লাসগোভিত্তিক গবেষণা দল এ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে।

এ নিয়ে বিবিসির জন্য জন্য একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন সাবেক ইংলিশ তারকা ফুটবলার এ্যালান শিয়ারার।

শিয়ারার বলছেন, "এই জরিপ অনেক দিন আগেই করা উচিত ছিল, তবে আগের কথা নিয়ে এখন আর কিছু বলে লাভ নেই। আমরা যেটা করতে পারি তা হলো ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে পারি। এতে সময় লাগবে, তবে আশা করতে পারি যে আমরা এর মধ্যে দিয়ে সেই সব প্রশ্নের উত্তর পাবো যা আমাদের অনেক আগেই পাওয়া উচিত ছিল।"

নিউরো সায়েন্সের একজন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন হার্ডি বলছেন, ফুটবলারদের হেড করার কারণে তাদের স্মৃতিভ্রংশের ঝুঁকি বেড়ে যায় এমন কথার সুনিশ্চিত প্রমাণ এখনো নেই।

"আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না যে এটা হেড করার জন্যই হয়। আমরা এরকম কিছু জানি না। ফুটবলারদের মাথায় আঘাত লাগলে তারা কোন কোন সময় জ্ঞান হারিয়েছেন, বা আহত হয়েছেন, এমন ঘটে। কিন্তু এটা বল হেড করার জন্য হয়েছে এটা আমরা নিশ্চিত ভাবে বলতে পারি না। তবে আমাদের মনে রাখা উচিত যে এই খেলোয়াড়রা প্রতিদিন ফুটবল অনুশীলন করেন। এবং কোন কোন সময় তারা প্রতিদিনি বল হেড করার অনুশীলন করেন।"

আমেরিকায় ইতিমধ্যেই ১১ বছরের কম বয়েসিদের ফুটবল হেড করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেকে বলেন ইংল্যান্ডেও এমন পদক্ষেপ নেয়া হোক, যদিও এখনো এরকম কিছু করা হয় নি।

বাংলাদেশের সাবেক ফুটবলার এবং পরে জাতীয় দলের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম মানিক এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি এরকম কিছু দেখেন নি।

তিনি বলেন, ব্যাপারটা নিয়ে গবেষণা হচ্ছে এটা ভালো কথা - তবে তার অভিজ্ঞতায় তিনি প্রবীণ ফুটবলারদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশের সমস্যা দেখেন নি।

"বেশি বয়েসে যদি এরকমের সমস্যা হয়ও - তার কতটা স্বাভাবিক বার্ধক্যজনিত কারণে আর কতটা ফুটবল হেড করার জন্য তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ এখনো হয় নি।"

"এর ফলে ফুটবলের আকর্ষণ কমে যাবে এটা মনে করার কোন কারণই নেই।"

এবারের মাঠে ময়দানে পরিবেশন করেছেন পুলক গুপ্ত।

সম্পর্কিত বিষয়