খাগড়াগড় বিস্ফোরণের আসামি আবু সাঈদ ধরা পড়েছে

ছবির কপিরাইট Prasenjit HomeChowdhury
Image caption বর্ধমানের খাগড়াগড়ের এই বাড়িটিতেই বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল

ভারতের বর্ধমানে ২০১৪ সালের এক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার একজন মূল অভিযুক্তকে আজ বগুড়ায় গ্রেফতার করেছে বাংলাদেশের পুলিশ।

বগুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে জানান, গত রাত একটার দিকে নন্দীগ্রাম থানার অমরপুর এলাকা থেকে মোহাম্মদ আবু সাঈদ নামের ওই ব্যক্তিকে ধরা হয়।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমানের খাগড়াগড়ে একটি বাড়িতে ২০১৪ সালের দোসরা অক্টোবর এক বড় আকারের ঘরে-তৈরি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে মৃত্যু হয় শাকিল গাজি এবং করিম শেখ নামে দুই ব্যক্তির। এ ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে বিভিন্ন মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গী তৎপরতা চলার অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত আবু সাঈদ খাগড়াগড় বিস্ফোরণের মামলার তিন নম্বর আসামি।

পুলিশ আরো বলছে, আবু সাঈদ নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবির দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান ছিল। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার চাঁদপুরে ।

ছবির কপিরাইট NIA INDIA
Image caption বর্ধমানে তদন্তকারী এনআইএর দল

আরো বলা হয়, আবু সাঈদ বর্ধমানে 'শ্যামল' নামে পরিচিত ছিল। সে ২০০৫ সালের ১৭ই আগস্ট বাংলাদেশে সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ হয়েছিল - সেই মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি।

পুলিশ বলছে, আবু সাঈদকে এখন রিমান্ডে নিয়ে জ্ঞিাসাবাদ করা হবে।

খাগড়াগড়ের বিস্ফোরণের পর বাংলাদেশিসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে ভারতের পুলিশ। এ ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় জঙ্গী কার্যকলাপ চালানো হত ।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে ওই বছরের ৯ অক্টোবর ঘটনার তদন্তের ভার নেয় এনআইএ, পরে তারা বাংলাদেশেও সফর করেন।

এ ঘটনায় চার্জশিট পেশ করতে গিয়ে তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ আজ দাবি করে, বাংলাদেশে সরকার উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়েই ওই জঙ্গী কার্যকলাপ চালানো হচ্ছিল।

ছবির কপিরাইট .
Image caption খাগড়াগড় বিস্ফোরণের পর বর্ধমানসহ ভারতের বিভিন্ন জেলায় তদন্ত শুরু হয়

ভারতে এনআইএ-র চার্জশিটে বলা হয়েছিল, সহিংসতা ও জঙ্গী কর্মকান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি কট্টরপন্থী শরিয়া-ভিত্তিক ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করাই ছিল জেএমবি-র লক্ষ্য।

২০১৫ সালের মার্চে পেশ করা ওই চার্জশিটে বলা হয়, বাংলাদেশে জঙ্গী কার্যকলাপ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল বলেই জেএমবি-র জঙ্গীরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ঝাড়খন্ডে প্রশিক্ষণ শিবির তৈরি করেছিল।

চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসেবে মোট ২১ জনের নাম ছিল, যার মধ্যে অন্তত ৪ জন বাংলাদেশী নাগরিক।

এনআইএ-র তদন্তে ক্রমশ উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা জঙ্গী নেটওয়ার্কের কথা।

বর্ধমানের পাশাপাশি নদিয়া, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন গ্রামে মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গী প্রশিক্ষণের কথাও প্রকাশ্যে আসে।

শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, আসাম ও ঝাড়খণ্ডেও এর শিকড় খুঁজে পান তদন্তকারীরা।