বাংলাদেশে নিখোঁজের চার মাস পর এবার ‘গ্রেপ্তার’ বিএনপি নেতা

সৈয়দ সাদাত আহমেদ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছবির কপিরাইট সৈয়দ সাদাত আহমেদ ফেসবুক
Image caption সৈয়দ সাদাত আহমেদ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

চার মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকা বিএনপির নেতা ও ব্যবসায়ী সৈয়দ সাদাত আহমেদকে এবার 'গ্রেপ্তার' করেছে পুলিশ।

পুলিশ বলছে, মিঃ আহমেদ ২০১৫ সালে করা একটি মামলার আসামি, সে কারণে তাকে 'গ্রেপ্তার' করা হয়েছে।

তবে, মিঃ আহমেদের স্ত্রী লুনা সাদাত আহমেদ দাবী করেছেন তার স্বামীর বিরুদ্ধে কোন মামলা ছিল না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, গত রাতে রামপুরা সেতুর পূর্ব পাশে খুঁজে পাওয়া গেছে মিঃ আহমেদকে।

বাংলাদেশে গত কয়েক মাসে ব্যবসায়ী, রাজনীতিক, সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ ১৫ জন মানুষ নিখোঁজ হন। গত কয়েকদিনের মধ্যে নিখোঁজ এমন তিনজনের সন্ধান মিলেছে।

প্রায় চারমাস নিখোঁজ থাকার পর গত সপ্তাহে হঠাৎ করে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এমএম আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে ২০শে ডিসেম্বর দুমাসেরও বেশি নিখোঁজ থাকার পর সাংবাদিক উৎপল দাসকে নারায়ণগঞ্জের ভুলতায় পাওয়া যায়।

প্রায় দেড়মাস নিখোঁজ থাকার পর ২২শে ডিসেম্বর ফিরে আসেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বার হাসান সিজার

গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, শনিবার রাতে রামপুরা সেতুর পাশ থেকে মিঃ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আজই তাকে আদালতে তোলা হবে এবং ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ আরো জানিয়েছেন গ্রেপ্তারের সময় মিঃ আহমেদের কাছে একটি ল্যাপটপ, তিনটা মোবাইল ফোন এবং বেশ কয়েকটি ব্যাংকের চেক ছিল।

২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি রমনা থানায় দায়ের হওয়া গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে, মিঃ আহমেদের স্ত্রী লুনা সাদাত আহমেদ বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, তার স্বামীর নামে কোন মামলা ছিল না।

গতরাতে টেলিভিশনে নিউজ স্ক্রলে ভেসে ওঠা শিরোনাম থেকে মিঃ আহমেদের খোঁজ জানতে পারে পরিবার।

এর আগে গত ২২শে আগস্ট বিকেলে বিমানবন্দর সড়কের বনানী ফ্লাইওভারের নিচে সাদা পোশাকের কয়েকজন লোক গাড়ি থামিয়ে মিঃ আহমেদকে তুলে নিয়ে যায় বলে তিনি জানান।

সেসময় গাড়িতে মিঃ আহমেদের ছেলে এবং ড্রাইভার ছিল। পরে তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন।

লুনা সাদাত আহমেদ জানিয়েছেন, নিখোঁজ হবার পর থেকে কোন ধরণের যোগাযোগই হয়নি মিঃ আহমেদের সঙ্গে।

কথিত অপহরণকারী বা অন্য কেউই এ সময়ের মধ্যে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।

মিঃ আহমেদ বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি।

তিনি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবিএন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আরো পড়ুন:

নিখোঁজের চারমাস পর 'গ্রেপ্তার' কল্যাণ পার্টি নেতা

মোবাশ্বার ফিরেছেন: কেন নিখোঁজ ছিলেন তিনি?

'জঙ্গলের মধ্যে টিন-শেড ঘরে আমাকে আটকে রাখে'