রোহিঙ্গা হত্যাকান্ডে জড়িত সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে মিয়ানমার

ছবির কপিরাইট Handout
Image caption দিন ইন হত্যাকান্ডে এই ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যা করা হয়

মিয়ানমার বলছে, তারা ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার সাথে জড়িত ১৬ জন লোকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

এদের মধ্যে সৈন্য ও বেসামরিক লোক রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত চলার সময় এই রোহিঙ্গাদেরকে ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।

মিয়ানমারের সৈন্যরা ইতিমধ্যই স্বীকার করেছে যে তাদের কিছু সৈন্য হত্যাকান্ডে অংশগ্রহণ করেছে।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন মিয়ানমার সফরের সময় দেশটির নেত্রী অং সান সুচির সাথে দেখা করে বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পূর্ণাঙ্গ এবং স্বাধীন তদন্ত হওয়া দরকার।

যে ঘটনায় সামরিক বাহিনী সহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে মিয়ানমার ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে, সেটি ইন দিন ম্যাসাকার নামে পরিচিত।

ওই ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রয়টার্স বার্তা সংস্থা। এ কারণে সংস্থার দুজন সাংবাদিককে আটকে রেখেছে মিয়ানমার।

মিয়ানমার সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মোট সাত জন সৈন্য, তিন পুলিশ সদস্য এবং ছয় জন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে তারা এই ঘটনায় ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে।

তবে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, তাদের এই পদক্ষেপের সঙ্গে রয়টার্সের রিপোর্টের কোন সম্পর্ক নেই - কারণ রয়টার্স রিপোর্ট করার অনেক আগে থেকেই তারা এ নিয়ে তদন্ত করছিল।

এই দশজন রোহিঙ্গাকে হত্যার ঘটনার ব্যাপারে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী এর আগে যে দাবি করেছিল, তার সঙ্গে রয়টার্সের অনুসন্ধানের বিরাট ফারাক আছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

রোহিঙ্গা 'গণহত্যার খবরের কারণে' রয়টার্সের সাংবাদিক আটক

ছবির কপিরাইট EPA
Image caption আটক দুই রয়টারের সাংবাদিক

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য হচ্ছে, এরা একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তারা হামলা করেছিল।

কিন্তু রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, একটি সাগর সৈকতে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে যাওয়া শত শত মানুষের মাঝখান থেকে সামরিক বাহিনী এই দশজনকে ধরে নিয়ে আসে।

মিয়ানমার সরকার এই ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে এমন এক সময়, যখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী বরিস জনসন সেদেশ সফর করছেন।

মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সূচীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মিস্টার জনসন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধ সংঘটিত সহিংসতার স্বাধীন এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ফিরে আসার ব্যবস্থা করারও আহ্বান জানান।

মিয়ানমার যাবার আগে বরিস জনসন বাংলাদেশ সফর করেন এবং কক্সবাজারে একটি শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করেন।

বিবিসির সংবাদদাতা বলছেন, মি. জনসন অং সান সুচির সাথে বৈঠকের সময় মিয়ানমারে আটক থাকা রয়টারের দু'জন সাংবাদিকের কথা তুলবেন বলে আশা করা হচ্ছিল।

কয়েকদিন আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক রিপোর্ট করে যে মিয়ানমারে গণহত্যার উপর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তাদের দু'জন সাংবাদিককে আটক করে রাখা হয়েছে।

এই দু'জন সাংবাদিক গত বছর ২রা সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্যে ১০ জনকে হত্যার ঘটনা তুলে ধরেন।

তাদের খবর অনুযায়ী, ওই গ্রামে অভিযানের সময় রোহিঙ্গা পুরুষদের একটি দল নিজেদের জীবন বাঁচাতে একটি জায়গায় গিয়ে জড়ো হয়। তখন ওই গ্রামের কয়েকজন বৌদ্ধ পুরুষ একটি কবর খনন করার নির্দেশ দেন। তারপর ওই ১০ জন রোহিঙ্গা পুরুষকে হত্যা করা হয়। বৌদ্ধ গ্রামবাসীরা অন্তত দুজনকে কুপিয়ে এবং বাকিদেরকে সেনাবাহিনী গুলি করে হত্যা করে।

অফিসিয়াল সিক্রেসি অ্যাক্ট বা সরকারি গোপনীয়তা আইন ভঙ্গ করার অভিযোগে সাংবাদিক ওয়া লো এবং চ সো উ-কে গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

ইসরায়েলের সাথে কিছু আরব দেশের 'গোপন মৈত্রী'?

হজে গিয়েও যৌন হয়রানি: টুইটারে নারীদের প্রতিবাদ

সৌদি নারীদের বোরকা পরতে হবে না

ভারতে একবছরে ২০ হাজার কন্যাশিশুকে ধর্ষণ

সম্পর্কিত বিষয়