মার্কিন পুরস্কারের ঘোষণায় ভারত খুশী

ছবির কপিরাইট AFP

পাকিস্তানের জঙ্গী গোষ্ঠি লস্কর-ই-তৈয়বার প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণার পর তার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন এই আচরণ ইসলাম ও মুসলিমদের ওপর হামলার সামিল।

মিঃ সাঈদের দাতব্য প্রতিষ্ঠান জামাত-উদ-দাওয়া বলেছে ভারতের উস্কানিতে মার্কিনীরা এই কাজ করেছে।

হাফিজ সাঈদকে ভারত খুঁজছে বহু বছর ধরে। ভারত মনে করে ২০০১ সালে দিল্লীতে পার্লামেন্ট ভবনে হামলা এবং ২০০৮ সাল মুম্বাইতে সন্ত্রাসী হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তিনি। তবে ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় তার নাম থাকলেও পাকিস্তানে তিনি তৎপরতা চালান প্রকাশ্যেই।

হাফিজ সাঈদ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক। আশির দশকে তিনি পাকিস্তানে জঙ্গী গোষ্ঠী লস্কর-এ-তৈয়বা প্রতিষ্ঠা করেন।পরবর্তী দু দশকে লস্কর-এ-তৈয়বা জম্মু এবং কাশ্মীরে যেসব হামলা চালায়, তার পরিকল্পনায় হাফিজ সাঈদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে মনে করা হয়।

২০০১ সালে দিল্লীতে ভারতের পার্লামেন্ট ভবনে সন্ত্রাসী হামলার পর তার সংগঠন মারাত্মক চাপের মুখে পড়ে। ভারত অভিযোগ করে যে এই হামলার পেছনে লস্কর-এ-তৈয়বার হাত আছে এবং ভারতের ক্ষোভ এবং চাপের মুখে পাকিস্তান এই দলটি নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়।

তবে হাফিজ সাঈদ নতুন রূপে আবির্ভূত হন জামাত-উদ-দাওয়ার প্রধান হিসেবে। তিনি দাবি করে থাকেন যে জামাত-উদ-দাওয়া একটি দাতব্য সংস্থা, যেটি তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করছে।

তবে ভারত দাবি করে যে, সেবামূলক কাজের আড়ালে জামাত-উদ-দাওয়া আসলে একটি জঙ্গী সংগঠন। সাড়ে তিন বছর আগে মুম্বাইতে যে জঙ্গী হামলা হয়, সেটির পরিকল্পনায় তার ভূমিকা ছিল। মিস্টার সাঈদ যে পাকিস্তানে প্রকাশ্যে তার তৎপরতা চালিয়ে যেতে পারছেন, তাতে ভারত বেশ ক্ষুব্ধ। ভারতের সন্দেহ পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাই হাফিজ সাঈদকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়।

হাফিজ সাঈদকে ধরিয়ে দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এক কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করায় ভারত স্বাভাবিকভাবেই খুশী। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস এম কৃষ্ণা দিল্লীতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসবাদীদের কাছে একটা কড়া হুঁশিয়ারী বার্তা পাঠাবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামাত-উদ-দাওয়া। সংস্থার এক মুখপাত্র বলেছেন, গোটা বিশ্ব জানে যে হাফিজ সাইদ এমন কোন ব্যক্তি নন যিনি কোন গুহায় বা পাহাড়ে লুকিয়ে আছেন। তিনি পাকিস্তানের জাতীয় এবং ধর্মীয় নেতা। তিনি যে সেবামূলক এবং ধর্মীয় কাজে জড়িত, সেটি প্রকাশ্যেই করছেন, গোপনে নয়।

জামাত উদ দাওয়ার একজন মুখপাত্র এবং হাফিজ সাঈদের ভাই হাফিজ মোহাম্মদ মাসুদ বলেছেন, ভারতীয় প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়েই যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্র কেন হঠাৎ করে হাফিজ সাঈদের মাথার মূল্য ঘোষণা করতে গেল। বিশেষ করে যখন পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক খুবই স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিতে হাফিজ সাঈদ যা করছেন, তা মার্কিন স্বার্থ ক্ষুন্ন করছে। তিনি ডিফেন্স ফর পাকিস্তান নামে একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম থেকে পাকিস্তানে মার্কিন বিরোধী আন্দোলন সংগঠিত করছেন। যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাকে থামাতে চাইছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার ব্যাপারে পাকিস্তান সরকারের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। একজন সরকারী মুখপাত্র শুধু এটুকু জানিয়েছেন যে সরকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে এই জঙ্গী নেতাদের ধরিয়ে দিতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে, তাতে কিছু একটা করার জন্য পাকিস্তান সরকার চাপের মুখে থাকবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।