ছাত্রী নির্যাতনে শিক্ষককে খুঁজছে পুলিশ

শিক্ষার্থী পায়ে নির্যাতনের চিহ্ন।
Image caption শিক্ষার্থী পায়ে নির্যাতনের চিহ্ন। (ফটো: এটিএন বাংলা)

বাংলাদেশে এক মাদ্রাসায় ছাত্রীদের নির্যাতনের অভিযোগে ঐ মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তারকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে রাজধানী ঢাকার কদমতলা এলাকার ঐ মাদ্রাসার ছাত্রীরা ছুটির সময় বাড়িতে নামাজ না পড়ায় তাদের ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতন না করার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এই ঘটনা ঘটেছে।

তবে এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুরাবাড়িয়া গ্রামের মো. মুজিবুর রহমান দুই মেয়েকে নিয়ে থাকেন রাজধানী ঢাকার কদমতলা এলাকায়।

তার দুই মেয়েকেই লেখাপড়ার জন্য ভর্তি করেন ঢাকার পূর্বাঞ্চলে কদমতলার নামাশামপুরের তাইমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসায়।

কদমতলা থানার পুলিশ জানায় ১০ দিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকার পর গত পহেলা মে মঙ্গলবার সকালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার মাদ্রাসায় উপস্থিত ১৪ ছাত্রীর কাছে জানতে চান ছুটিতে বাড়িতে তারা নিয়মিত নামাজ পড়েছে কিনা।

তাদের মধ্যে কয়েকজন নামাজ পড়তে পারেনি বলে জানালে তাদের উত্তপ্ত খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।

নির্যাতনের শিকার ছাত্রী ফাতেমার বাবা মো. মুজিবুর রহমান বলেন, ''১লা মে সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর প্রিন্সিপাল জিজ্ঞেস করে ছাত্রীরা নামাজ পড়েছে কিনা। আমার দুই মেয়ে ছিল সেখানে।''

''এক মেয়ে বলেছে সে নামাজ পড়তে পারে নাই। তখন ঐ প্রিন্সিপাল বলেন নামাজ পড় নাই, দোজখের আগুন কেমন সেইটা এখন বুঝবা।''

এ ঘটনায় কদমতলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা শাকের মো. জুবায়ের বিবিসিকে জানান, ছোট ছোট বাচ্চারা নামাজ নিয়মিত না পড়ায় ঐ প্রধান শিক্ষক তাদের এই শাস্তি দেয় বলে তারা প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছেন।

Image caption নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার বাংলাদেশের নারীরা

''ছাত্রীদের বয়স ৮ থেকে ১২-এর মধ্যে। এর আগে মাদ্রাসা বন্ধ ছিল এবং ১লা মে সকালে খোলার পর জেসমিন আক্তার জানতে চায় কারা কারা নামাজ পড়ে নাই।''

''অনেকেই বলে যে তারা নামাজ পড়তে পারেনি, তখন অভিযুক্ত জেসমিন আক্তার তাদের বলে যে আজ এমন শিক্ষা দেব যে জীবনে আর নামাজ কাজা করবে না। এরপর গ্যাসের চুলায় খুন্তি গরম করে তাদের পায়ে ছ্যাঁকা দেয়া হয়।''

পুলিশ জানায় তাইমুল কুরআন মাদ্রাসা নামাশামপুরের এক বাড়িতে আবস্থিত চার কক্ষের বাসায় অভিযুক্ত জেসমিন আক্তার ও তার স্বামী স্থানীয় এক মসজিদের পেশ ইমামকে নিয়ে বসবাস করতেন। একটি কক্ষে মাদ্রাসার কার্যালয় এবং অন্য দুই কক্ষে ক্লাস নেয়া হতো।

মি. জুবায়ের বলেন ঘটনা সকালে ঘটলেও তারা জানতে পারেন দুপুরে এবং উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা নিয়ে কান্নাকাটি করলেও তাদের আটকে রাখা হয়েছিল মাদ্রাসায়।

এই ঘটনার পর নির্যাতনের শিকার এক ছাত্রীর বাবা আবদুল জলিল কদমতলা থানায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে বলে পুলিশ জানায়।

অভিযুক্ত জেসমিন আক্তারকে ধরতে পুলিশ অভিযান চলছে।

বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায়শই শিক্ষার্থীদের উপর শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে থাকে।

তবে নির্যাতন না করার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও এমন ঘটনা আবারো ঘটলো।