BBC navigation

সৌদি মেয়েরাও কি এবার অলিম্পিকে?

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 4 জুলাই, 2012 17:33 GMT 23:33 বাংলাদেশ সময়
saudi women

ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো সৌদি আরব অলিম্পিকের আসরে অংশ গ্রহণের জন্য তাদের কয়েকজন মহিলা অ্যাথলিটকে পাঠাতে পারে।

সৌদি আরবের অলিম্পিক কমিটি আসন্ন লন্ডন গেমসের জন্য আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি বা আইওসি-র কাছে তাদের সম্ভাব্য অ্যাথলিটদের যে নামের তালিকা তুলে দিয়েছে, তাতেই কয়েকজন মহিলা অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সৌদি প্রতিনিধিদলে কয়েকজন মহিলা কর্মকর্তার অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়েও লঁসানে আইওসি-র সদর দফতরে এক বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

আইওসি এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা বিশ্বাস করে সৌদি আরব মহিলা অ্যাথলিটদের তাদের দলে নেওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে।

saudi women

সৌদি মহিলা ক্রীড়াবিদ

তারা আরও জানিয়েছে, সৌদির প্রত্যেক আ্যাথলিটের যোগ্যতার মান যাচাই করে এ ব্যাপারে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আইওসি-র নির্বাহী বোর্ডের পরবর্তী বৈঠকে পেশ করা হবে, যেটি কানাডার কিবেক সিটিতে মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে।

সৌদি ছাড়া বিশ্বের অপর দুটি দেশ হল ব্রুনেই ও কাতার – যারা অতীতে কখনও অলিম্পিকের আসরে তাদের মহিলা অ্যাথলিটদের পাঠায়নি।

কিন্তু ২০২০তে অলিম্পিক গেমস আয়োজনের অন্যতম দাবিদার কাতার ফেব্রুয়ারি মাসেই ঘোষণা করেছে, লন্ডনের গেমসে তারা এবার তাদের মহিলা অ্যাথলিটদের পাঠাবে।

এরপর আইওসি-র পক্ষ থেকে কাতারের দুজন মহিলা অ্যাথলিট, সাঁতারু নাদা আকরাজি ও স্প্রিন্টার নুর আল-মালিকিকে লন্ডন অলিম্পিক্সে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ওয়াইল্ড কার্ড আমন্ত্রণও পাঠানো হয়েছে।

"‘আমাদের মেয়েরা যে ধরনের পোশাক পরেন, তাতে কয়েকটা খেলা তাদের জন্য বেশ কঠিন – যেমন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড, সাঁতার বা এমন কী ফুটবল!’"

হাদি সৌয়ান সোমায়লি, সৌদি মহিলা ক্রীড়াবিদ

তবে সৌদি আরব যদি শেষ পর্যন্ত সত্যিই তাদের মহিলা অ্যাথলিটদের অলিম্পিকের আসরে পাঠায়, সেটা হবে সে দেশের নারীসমাজের জন্য বিরাট একটা জয়, তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নপূরণ!

সৌদি আরবের সরকারি স্কুলগুলোতে মেয়েদের খেলাধুলো করা নিষিদ্ধ। মহিলাদের খেলা আয়োজন করে এমন কোনও ক্রীড়া ফেডারেশনও নেই, বেশিরভাগ স্টেডিয়ামে মেয়েরা ঢুকতেও পারেন না।

সৌদি আরবের ইতিহাসে একমাত্র অলিম্পিক পদকের মালিক হলেন হাদি সৌয়ান সোমায়লি, যিনি সিডনি অলিম্পিকের আসরে ৪০০ মিটার হার্ডলসের ফাইনালে রূপোর পদক জিতেছিলেন।

সেই সোমায়লি তাঁর দেশের মহিলাদের সম্ভাবনা নিয়ে বিবিসিকে বলছিলেন, ‘আমাদের মেয়েরা যে ধরনের পোশাক পরেন, তাতে কয়েকটা খেলা তাদের জন্য বেশ কঠিন – যেমন ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড, সাঁতার বা এমন কী ফুটবল!’

সৌদি পতাকা হাতে মেয়েরা

কিন্তু তিনি আশা করেন অন্য ইভেন্টগুলোতে অংশ নিতে সৌদি মহিলাদের কোনও অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, আর খুব শিগগিরি হয়তো তারা সেগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও নামবেন!

কিছুদিন হল জেড্ডাতে জন্ম নিয়েছে জেড্ডা ইউনাইটেড নামে একটি বাস্কেটবল ক্লাব, সৌদির তরুণসমাজের মধ্যে তারা খেলাটার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।

ক্লাবটি হয়তো সরকারিভাবে অনুমোদিত নয়, কিন্তু অনেক মেয়ে সেখানে আসছেন এবং বাস্কেটবলের মধ্যে দিয়ে জীবনের নতুন অর্থ খুঁজে পাচ্ছেন, বলছিলেন ক্লাবটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা দানায়া আল-মিনা।

জেড্ডা ইউনাইটেডের এই মহিলারাই সম্ভবত প্রমাণ করে দিচ্ছেন খুব ধীরে ধীরে হলেও সৌদিতে সংস্কার আসছে, ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সৌদিতে যে আধুনিকতা আনা যায় দেশের তরুণরা সেটাও প্রমাণ করতে পারছেন।

সৌদি শো-জাম্পার দালমা রুশদী মালহাস

দানায়ার বোন লিনার কথায়, ‘খেলাধুলোয় অংশ নিতে চেয়ে আমরা এমন কিছু দাবি করছি না যেটা আমাদের সংস্কৃতি বা ধর্মের পরিপন্থী!’

তিনি আরও বলছেন, আরব বিশ্বে বা দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্তে সব মুসলিম দেশের মেয়েরাই এখন বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

বছরকয়েক আগে বাহরাইনে এক মহিলা অ্যাথলিট তো নিকাব পরেই ১০০ মিটার স্প্রিন্ট দৌড়েছিলেন, সেই দৃষ্টান্তও দিচ্ছেন লিনা।

তবে সৌদির ধর্মীয় নেতাদের সবাই মেয়েদের এই সব যুক্তি মানতে রাজি নন, তাদের দিক থেকে মেয়েদের খেলাধুলো করতে দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিরোধও আছে যথেষ্ট।

কিন্তু সব কিছু সত্ত্বেও আসন্ন লন্ডন অলিম্পিক গেমসে শেষ পর্যন্ত হয়তো সৌদি আরবের মহিলাদের অংশ নিতে দেখা যাবে – আর সেটা হবে নীরব এক বিপ্লবের সামিল।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻