BBC navigation

বাস্কেটবল সুপারস্টার লুওল ডেং

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 5 জুলাই, 2012 11:25 GMT 17:25 বাংলাদেশ সময়
luol deng

লম্বায় ছয় ফুট নয় ইঞ্চি। ওজন একশো চার কেজির বেশি। কল্পনা করুন বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইন্যালে এরকম বিশাল দেহী এক সেন্টার ফরোয়ার্ড প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের লিলিপুট সাইজের ফুটবলারদের পরাস্ত করে ইংল্যান্ডের পক্ষে জয়সূচক গোলটি করেছেন।

না, পিটার ক্রাউচ হঠাৎ করে মানব পর্বতে রূপান্তরিত হন নি। যার বর্ণনা দেয়া হলো তিনি হচ্ছেন বাস্কেটবলের উজ্জ্বল তারকা শিকাগো বুলসের লুওল ডেং। যদি বাস্কেটবলের পরিবর্তে তিনি ফুটবল খেলাতেই বেশি মনোযোগী হতেন, তাহলে এরকম একটা ঘটনা বাস্তবে ঘটা অসম্ভব ছিল না।

লুওল ডেং অবশ্য ফুটবল এখনো পছন্দ করেন। ইংলিশ ফুটবল ক্লাব আর্সেনালের সমর্থক তিনি। লন্ডনে শৈশবে এই ক্লাবের পক্ষে খেলার স্বপ্নও দেখতেন তিনি।

কিন্তু নিয়তি তাকে নিয়ে গেল বাস্কেটবলের দিকে। লন্ডনের টাইমস পত্রিকা খেলাধুলার জগতের শীর্ষ ধনী দশ তারকার যে তালিকা প্রকাশ করেছে, লুওল ডেং তাদের একজন।

কিন্তু ওয়েন রুনি বা লুইস হ্যামিলটনের মতো ক্রীড়া জগতের অন্য তারকাদের সঙ্গে তুলনা করলে, ব্রিটেনে লুওল ডেং কে খুব কম মানুষই চেনেন।

luol deng

লুওল ডেং

আটলান্টিকের অন্য তীরে অবশ্য চিত্রটা ভিন্ন। বাস্কেটবলে তার যে জাদুকরী প্রতিভা, তা লুওল ডেংকে এই গ্রহের সবচেয়ে দামী খেলোয়াড়দের একজনে পরিণত করেছে।

কিংবদন্তীতুল্য ক্লাব শিকাগো বুলসের সবচেয়ে অপরিহার্য খেলোয়াড়দের একজন হচ্ছেন লুওল ডেং। শিকাগো বুলস আবার মাইকেল জর্ডানের সময়ের সেই গৌরবময় যুগে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, সেই স্বপ্ন পূরণে তারা সবচেয়ে বেশি নির্ভর করছে লুওল ডেং এর ওপরেই।

প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম

ডেং এর জন্য এরকম চ্যালেঞ্জ অবশ্য নতুন কিছু নয়। তার পুরো জীবনটাই আসলে প্রতিকুলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে বিজয়ী হওয়ার কাহিনী।

লুওল ডেং এর জন্ম সুদানে। বাবা-মার নয় সন্তানের মধ্য লুওল হচ্ছেন আট নম্বর। তাঁর বাবা ছিলেন সুদানের পার্লামেন্টের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তাদের পরিবারকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। প্রথমে তারা যান মিশরেরর আলেকজান্দ্রিয়ায়। সেখান থেকে তারা আবার পালিয়ে আসেন লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে।

আট বছর বয়সে ডেং যখন প্রথম লন্ডনে এসেছিলেন তখন এক বর্ণ ইংরেজী বলতে পারতেন না। কিন্তু ফুটবল মাঠে তার খেলা শীঘ্রই অনেকের নজর কাড়লো।

luol deng

লুওল ডেং

দক্ষিণ লন্ডনে ব্রিক্সটন টপক্যাট ক্লাবে বাস্কেটবল খেলা শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন লুওল ডেং। শীঘ্রই ফুটবল ছেড়ে বাস্কেটবলে আগ্রহী হয়ে উঠলেন তিনি। মাত্র ১৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্লেয়ার একাডেমী হাই স্কুলে একটি স্কলারশীপও পেয়ে গেলেন ডেং।

স্কুলে ওপরের ক্লাসে থাকতেই লুওল ডেং যুক্তরাষ্ট্রের হাই স্কুল পর্যায়ের দ্বিতীয় সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন।

ডিউক ইউনিভার্সিটিতে এক বছর পড়াশোনার পরই ২০০৪ সালে এনবিএতে খেলার জন্য ডাক পেলেন। সেবছর এনবিএতে যারা খেলার ডাক পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে লুওল ডেং ছিলেন সপ্তম।

লুওল ডেং কে এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় নি। বাস্কেটবলে তার জাদুকরী খেলা যেন প্রতি মৌসুমে নতুন মাত্রায় উন্নীত হয়েছে। শিকাগো বুলসের সঙ্গে ২০০৮ সালে ডেং যে সাত বছরের চুক্তি করেছেন, তাতে তিনি আয় করবেন সাত কোটি দশ লক্ষ ডলার।

শিকাগো বুলসের সঙ্গে এই চুক্তি করার আগে দরকষাকষিতে তিনি যে সময় নিয়েছেন, তাতে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। পুরো খেলোয়াড় জীবনে এটাই ছিল ডেং এর প্রথম কোন সমালোচনা।

শৈশব হতেই ডেং কে যেভাবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে, তার একটা ভালো দিক হচ্ছে নানা সংস্কৃতি আর ভাষায় সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। ইংরেজী, আরবী এবং ডিনকা—এই তিন ভাষাতেই অনর্গল কথা বলতে পারেন তিনি।

২০০৬ সালে লুওল ডেং ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকসে তিনি ব্রিটেনের বাস্কেটবল দলের নেতৃত্ব দেবেন।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻