বিশ্ব ব্যাঙ্ককে দুদকের সহযোগিতা হবে শর্তাধীন

padma_bridge ছবির কপিরাইট unk
Image caption প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর নকশা

বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নের ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা না হলে কমিশন দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিশ্ব ব্যাঙ্ককে কোনও সহযোগিতা করবে না।

দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বিবিসিকে সরাসরি বলেছেন, তদন্তে সহযোগিতার বিষয়টি নির্ভর করবে সমঝোতার উপর। তবে তিনি উল্লেখ করেছেন, দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে দুদকের তদন্ত অব্যাহত থাকবে।

অন্যদিকে দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা টিআইবি বলেছে, বিশ্ব ব্যাঙ্কের শর্ত অনুযায়ী দুদক যেহেতু একবার তদন্তের তথ্য বিনিময় করতে রাজি হয়েছে, ফলে এখন তা করা না হলে দুদকের তদন্তের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকতে পারে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্ব ব্যাঙ্ক অর্থায়ন বাতিলের পর বাংলাদেশ সরকার এখন তাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সেই প্রক্রিয়ায় বিশ্ব ব্যাঙ্কের সর্বশেষ শর্তগুলোও মেনে নেওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে, যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের তথ্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সাথে শেয়ার করতে রাজি হয়েছিল।

কিন্তু এখন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেছেন, ‘বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাথে দুদকের সহযোগিতার বিষয়টি নির্ভর করছে সমঝোতার উপর। বিশ্ব ব্যাঙ্ক এবং বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সমঝোতা না হলে দুদক তদন্তের তথ্য শেয়ার করবে না।’

তিনি উল্লেখ করেছেন, বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে বিশ্ব ব্যাঙ্ক। ফলে সমঝোতা না হলে সেই প্যানেল গঠন এবং তথ্য শেয়ার করার প্রশ্নও আসবে না।

তিনি আরও বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্ব ব্যাঙ্কের অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত যদি পুনর্বিবেচনা করা হয়, তবে সেটাকেই তিনি সমঝোতা বলে মনে করেন।

দুদকের এ ধরনের অবস্থানের কারণে তদন্তের স্বচ্ছ্বতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি-র নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

তার বক্তব্য হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বিশ্ব ব্যাঙ্কের শর্ত মেনে নিয়েই তদন্তের তথ্য বিশ্ব ব্যাঙ্কের সাথে শেয়ার করার কথা বলা হয়েছিল।

এখন সমঝোতা না হলেও জাতীয় পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ টিম গঠন করে বা বিকল্প কোনও উপায়ে তদন্তের তথ্য শেয়ার বা প্রকাশ করা উচিত, তা না হলে তদন্তের স্বচ্ছ্বতা নিয়ে প্রশ্ন বা সন্দেহ থেকে যাবে বলে ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন।

ছবির কপিরাইট acc
Image caption ঢাকায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সদর দফতর

তবে এমন বক্তব্য মানতে রাজি নন দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। তিনি বলেছেন, তাদের তদন্তে কোন গাফিলতি হবে না এবং স্বচ্ছ্বতার সাথেই তা করা হচ্ছে।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

এই তদন্তে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে বুধবার কমিশনে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

পদত্যাগকারী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ যাদের নাম অভিযোগে এসেছে, তাদের সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলে দুদকের কর্মকর্তারা বলছেন।

কিন্তু তারা এই তদন্ত শেষ করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোন সময়সীমা এখনই বলতে পারছেন না।