বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাজারে অশনি সংকেত

গমের ক্ষেত ছবির কপিরাইট unian
Image caption গমের ক্ষেত

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও বলছে, জুলাই মাসে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য ও চিনির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

এফএও খাদ্যের দামের সূচক সাধারণত বছরের এই সময়টায় প্রকাশ করে না।

কিন্তু এবার তারা করেছে কারণ অস্বাভাবিক আবহওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের বাজারে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

এফএও বলছে, এ বছর অতিবৃষ্টি বা খরার মতো চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ার কারণে জুলাই নাগাদ সারা বিশ্বেই খাদ্যের দাম বেড়েছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খরা, ব্রাজিলে অসময়ে বৃষ্টিপাত, আর রাশিয়ায় উৎপাদন-প্রক্রিয়ার সংকটের কারণে এ সমস্যা গুরুতর চেহারা নেয়।

এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাস ধরে খাদ্যের দাম কম ছিল, কিন্তু জুলাই মাসে দাম বেড়েছে ৬%।

খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বলছে, আমেরিকায় খরার কারণে ভুট্টার ফলন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার পর ভুট্টার দাম বেড়েছে ৩৩%।

ব্রাজিলে অসময়ে বৃষ্টিপাতে আখের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর চিনির দাম বেড়েছে ১২%। আর শস্যদানা থেকে তৈরি খাদ্যের দাম বেড়েছে ১৭%।

ছবির কপিরাইট WikimediaCommons
Image caption ব্রাজিলের আখ সময়মতো ঘরে ওঠেনি।

একই সঙ্গে ভারতে বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে দেরিতে, আর অস্ট্রেলিয়ায় হয়েছে খরা। এগুলোও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভুমিকা রেখেছে।

তবে এফএও বলছে, চাল এবং দুগ্ধজাত পণ্যের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তা ছাড়া মাংসের দাম ১.৭% কমেছে ।

কিন্তু সার্বিক ভাবে যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে তাতে একটা আশংকা দেখা দিচ্ছে যে ২০০৭-২০০৮ সালে বিশ্বব্যাপী যে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছিল, এবং যে ক্ষতির অভিঘাত বিশ্বের দরিদ্র মানুষের ওপরই পড়েছিল সবেচেয়ে বেশি, হয়তো এবারও তার একটা পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।

চার বছর আগের ওই সংকটের সময় হাইতি আর মিশরে সহিংস বিক্ষোভ হয়েছিল।

এফএও'র উর্ধতন অর্থনীতিবিদ আবদোলরেজা আব্বাসিয়ান বলছেন, সঠিক নীতি গ্রহণ না করলে ২০০৭-২০০৮ এর মতো পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার হবার সম্ভাবনা আছে।

তবে খাদ্যের মূল্য ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সর্বকালের সর্বোচ্চ যে স্তরে পৌঁছেছিল - এফএও'র হিসেবমতো বর্তমান সূচক এখনও তার চাইতে বেশ নিচে রয়েছে।