BBC navigation

মোবাইল টকটাইমের খুচরো বিক্রেতারা ধর্মঘটে

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 7 অক্টোবর, 2012 15:30 GMT 21:30 বাংলাদেশ সময়
mobile phone

বাংলাদেশে প্রিপেইড মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছে খুচরা পর্যায়ে টকটাইম বিক্রি, স্থানীয়ভাবে যা রিচার্জ বলে পরিচিত, সেই ব্যবসায়ীরা সারা দেশে গত এক মাস ধরে বিচ্ছিন্নভাবে ধর্মঘট পালন করছে।

তাদের দাবি, ফোন কোম্পানিগুলো থেকে রিচার্জ বাবদ তারা যে কমিশন পান সেটা বাড়াতে হবে। এই ধর্মঘটের ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন মোবাইল ফোনের গ্রাহকেরা।

সংবাদদাতারা বলছেন, লক্ষ লক্ষ মানুষ এই ব্যবসার সাথে আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে জড়িত। বেকারত্ব দূরীকরণের একটি উপায় হিসেবে এই রিচার্জ ব্যবসা ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

"যে টাকা কমিশন পাই তাতে আমাদের টিকে থাকাই দায় হয়ে গেছে"

আবদুল হালিম, খুচরো টকটাইম বিক্রেতা

কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই বিচ্ছিন্ন ধর্মঘট ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক রূপ পাচ্ছে, এবং সেটা ব্যাপকভিত্তিক গ্রাহক ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। যদিও মোবাইল ফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, তারা এখনো এই কমিশন বাড়ানোর কথা কিছু ভাবছে না।

পটুয়াখালী থেকে একজন গ্রাহক আবদুল লতিফ মোল্লা জানাচ্ছেন, তার এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে টকটাইম বিক্রি করছে না বিক্রেতারা। তিনি কয়েকদিন বিচ্ছিন্ন থাকবার পর অবশেষে রবিবার ঢাকায় তার একজন আত্মীয়ের সাথে যোগাযোগ করে কিছু টকটাইম কিনেছেন।

ঢাকার একজন গ্রাহক উৎপল দাস বলছিলেন, শনিবার থেকে শুরু করে রবিবার পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি টকটাইম কিনতে পারেননি। বিক্রেতারা তার কাছে টকটাইম বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

ঢাকার কাফরুলের একজন খুচরা টকটাইম বিক্রেতা আব্দুল হালিম বলছিলেন, 'যে টাকা তারা কমিশন পাই তাতে টিকে থাকাই দায় হয়ে গেছে, একারণে আন্দোলনে নামতে হয়েছে।'

মি. হালিমের ভাষায়, তারা এখন অতিরিক্ত কমিশনের দাবিতে সংঘবদ্ধ হচ্ছেন্। খুব শিগগিরই তাদের আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে দাবি করছেন তিনি।

"আপাতত কমিশনের হার বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই"

সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক, গ্রামীণফোন

মূলত বাংলাদেশে মোবাইল ফোনে যখন থেকে প্রিপেইড পদ্ধতি যুক্ত করা হয়, তখন থেকেই এই সেবাটি ব্যাপক ভিত্তিতে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকরা বলছেন দেশটিতে বর্তমানে যত মোবাইল ফোন গ্রাহক আছে তার শতকরা আটানব্বই ভাগই প্রিপেইড সংযোগ ব্যবহার করেন।

প্রথম দিকে প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে আগাম টকটাইম কেনা যেতো এই সংযোগগুলোর জন্য। পরবর্তীতে ব্যাপকভিত্তিতে প্রিপেইড ফোন জনপ্রিয় হয়ে ও্ঠার সাথে সাথে এই কার্ড ব্যবস্থার পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে সরাসরি টকটাইম বিক্রি শুরু করে সেবাদাতারা, যেটি প্রতিষ্ঠান ভেদে ফ্লেক্সিলোড, আইটপআপ, রিচার্জ এমন বিভিন্ন নামে পরিচিত।

সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত এলাকাভিত্তিক ডিলারের মাধ্যমে এই টকটাইম খুচরা পর্যায়ে পৌছে দেন, এজন্য ডিলারদেরকে তারা শতকার সাড়ে আট টাকা হারে এবং খুচরা বিক্রেতাদের পৌনে তিন টাকা হারে কমিশন দেন।

সারা দেশে এখন কি পরিমাণ এমন খুচরা বিক্রেতা আছে তা জানা যায়নি, তবে দেশটির সবচাইতে বড় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন বলছে, তাদের ফ্লেক্সিলোড নামে পরিচিত টকটাইম বিক্রি করে এমন বিক্রেতার সংখ্যা এক লাখ ষাট হাজার। সংস্থাটির হেড অব কর্পোরেট কমিউনিকেশন সৈয়দ তাহমিদ আজিজুল হক বলছেন, শতকরা ২ টাকা ৭৫ পয়সা হারে যে কমিশন তারা দিচ্ছেন এটা যথেষ্ট।

তিনি বলছেন, এটা যেহেতু সবগুলো সেবাদাতার একটি সম্মিলিত প্রয়াস সেহেতু চাইলেই এটা বদলানো সম্ভব না। আর আপাতত কমিশনের হার বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনাও তাদের নেই।

"কটি মাত্র সুনির্দিষ্ট পণ্য বা একটি মাত্র সেবা বিক্রি করে কারো পক্ষে কিন্তু সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা কিন্তু মানতেই হবে"

আবু সাঈদ খান, টেলিকম বিশেষজ্ঞ

এই পরিস্থিতিতে যারা আন্দোলন করছেন তাদের এই দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত?

টেলিকমিউনিকেশন খাতের একজন বিশ্লেষক আবু সাইদ খান বলছেন,‘বর্তমানে মোবাইল ফোন শিল্পটি সেবার পর্যায়ে একটি পণ্য হিসেবেই বেশী বিবেচিত হচ্ছে এবং পণ্য হিসেবেই এর বিভিন্ন সেবা বিক্রি করা হচ্ছে। এখানে একটি মাত্র সুনির্দিষ্ট পণ্য বা একটি মাত্র সেবা বিক্রি করে কারো পক্ষে কিন্তু সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব নয়। এই বাস্তবতা কিন্তু মানতেই হবে।‘

মি. খান আরো বলছেন, এখন পর্যন্ত খুচরা পর্যায়ে এই টকটাইম বিক্রির পেশাটি অনেক ক্ষেত্রেই একটি অনানুষ্ঠানিক খাত হিসেবে বিবেচিত এবং এটি করের আওতামুক্ত রয়েছে।

তবে তিনি বলছেন, খুচরা বিক্রেতারা সংঘবদ্ধ আন্দোলন করার মাধ্যমে যদি নিজেদের দাবি আদায় করে ফেলতে পারেন এবং প্রমাণ করেন যে শুধুমাত্র টকটাইম বিক্রি করেই ভালোভাবে টিকে থাকা যায়, তাহলে হয়তো নিজের অজান্তেই তারা রাজস্ব বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে যাচ্ছেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻