BBC navigation

রামু নিয়ে রাজনীতি, স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 10 অক্টোবর, 2012 11:35 GMT 17:35 বাংলাদেশ সময়

হামলার পর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। সেনা সদস্যদের টহল


বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে বড়ো ধরনের ঘটনাগুলোতে বড়ো দুটো রাজনৈতিক দল পরস্পরকে যেভাবে দোষারোপ করে রামুর ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলায় বৌদ্ধ বসতিতে হামলার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে যখন তদন্ত চলছে তখন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এই হামলার জন্যে পরস্পরকে দায়ী করছে।

পারস্পরিক এই দোষারোপের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হয়েছে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে।

"আওয়ামী লীগ দোষারোপ করছে বিএনপিকে, আর বিএনপি আওয়ামী লীগকে। আমাদের নিয়ে এখন একটা ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছে। ফায়দা লুটার জন্যে"

স্থানীয় ভিক্ষু

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি বৌদ্ধ মন্দিরের ভিক্ষু বলছেন, ‘কি করে বলবো কে এই হামলা করেছে। বিষয়টিতেতো এখন জড়িয়ে পড়েছে রাজনীতি। আওয়ামী লীগ দোষারোপ করছে বিএনপিকে, আর বিএনপি আওয়ামী লীগকে। আমাদের নিয়ে এখন একটা ছিনিমিনি খেলা শুরু হয়েছে। ফায়দা লুটার জন্যে।‘

সন্দেহভাজন হামলাকারীদের ধরতে রামুতে পুলিশের তল্লাশি অভিযানও চলছে।

স্থানীয় কয়েকজন বলেছেন, এই ঘটনায় যেভাবে রাজনৈতিক দোষারোপের খেলা শুরু হয়েছে তাতে প্রকৃত অপরাধীদের কতোটা সনাক্ত করা যাবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

এরকম একজন বলছেন, ‘এইরকম পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে আর কোন বিচার হবে না। বিএনপি আওয়ামী লীগকে দায়ী করবে, আওয়ামী লীগ দায়ী করবে বিএনপিকে, তিন চার মাস অথবা বছর খানেক পর এটা সমাপ্ত হয়ে যাবে। আমরা এর কোন বিচার পাবো না বলে মনে হচ্ছে।‘

‘আমার মনে হয় না যে বিচার হবে। ওরা হয়তো আমাদেরকে কিছু ক্ষতিপূরণ দেবে। তারপর বিচার শেষ হয়ে যাবে।‘ বললেন আরেকজন এলাকাবাসী।

"এইরকম পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়ে আর কোন বিচার হবে না। তিন চার মাস অথবা বছর খানেক পর এটা সমাপ্ত হয়ে যাবে। আমরা কোন বিচার পাবো না"

স্থানীয় গ্রামবাসী

বৌদ্ধপল্লীর বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলার আগে বিএনপি থেকে নির্বাচিত স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আওয়ামী লীগ। আবার প্রথম দফা বিক্ষোভ মিছিলে আওয়ামী লীগের স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

রামু উপজেলার চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর সারওয়ার কাজল বলছেন, এ বিষয়ে অনেকের মধ্যেই সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শুধু আওয়ামী লীগ বিএনপি নয়, বৌদ্ধদের মধ্যেও এক ধরনের রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। মুসলমানদের মধ্যেতো আছেই। বিএনপি, আওয়ামী লীগের মধ্যেও আছে।‘

‘তবে আমি ও এমপি সাহেব দুজনেই যদি সমন্বয় করে মাঠে থাকতাম তাহলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া আমাদের জন্যে সহজ হতো।‘

তিনি বলছেন যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করা হলে আসল ঘটনাতো কিছু চাপা পড়বেই।

রামুতে ১২টি মন্দির ও ৩০টির মতো বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়

রামুতে ১২টি মন্দির ও ৩০টির মতো বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়

এ বিষয়ে কথা বলতে চাননি স্থানীয় কোন বিএনপি নেতা। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা বলে আসছেন এই হামলার জন্যে সরকারের ব্যর্থতাই দায়ী।

রাজনীতির সাথে সরাসরি যুক্ত নন এরকম একজন শিক্ষাবিদ মুশতাক আহমেদ মনে করেন, তদন্ত ঠিকমতো হলে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব।

‘এ বিষয়টিকে রাজনীতির সাথে জড়ানো হলে ভীষণ অন্যায় হবে। কারণ তার নিচে সত্য ঢাকা পড়ে যাবে। সবাই চান দোষী যে দলেরই হোক তার যেন বিচার হয়।‘ বলেন মি. আহমেদ।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

তদন্ত কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ ও আলামতের ভিত্তিতেই তারা তদন্ত করছেন। তাদের ওপর রাজনৈতিক কোন চাপ নেই।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻