BBC navigation

বৌদ্ধদের প্রবারণা পূর্ণিমা অনাড়ম্বরভাবে পালিত

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 29 অক্টোবর, 2012 15:09 GMT 21:09 বাংলাদেশ সময়
বৌদ্ধপল্লীতে চালানো হামলায় ১২টির মতো মন্দির ধ্বংস করা হয়

বৌদ্ধপল্লীতে চালানো হামলায় ১২টির মতো মন্দির ধ্বংস করা হয়

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কক্সবাজার জেলার রামুতে সংখ্যালঘু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসব পরিহার করে ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করছে।

বৌদ্ধদের মন্দির ও বসতবাড়ির ওপর হামলার ঘটনার ঠিক এক মাস পরে তাদের অন্যতম বড় এই ধর্মীয় উৎসবের দিনে বরং হামলার প্রতিবাদে রামুতে নানা রকম কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আয়োজকরা বলছেন, জাতিসত্তার তাগিদ থেকে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচি নেয়া হয়।

তবে সরকারের একজন মন্ত্রী বলছেন, সারাদেশে বৌদ্ধরা উৎসবের সঙ্গে প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করছে এবং বৌদ্ধদের মনে যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, সময়ের সাথে সাথে তা দূর হয়ে যাবে।

ঠিক এক মাস আগে রামুতে বৌদ্ধ মন্দির আর বিহার এবং এই সম্প্রদায়ের মানুষের বেশ কিছু বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।

"আমাদের অন্তরে যে চিড় ধরেছে, তা আর জোড়া লাগার নয়। কাঁচ ভাঙ্গলে কি আর জোড়া লাগে?"

দীপক বড়ুয়া, রামুর বাসিন্দা

আর এই সাম্প্রদায়িক হামলায় অভিযুক্ত পক্ষ হলো মুসলমানরা।

সেদিন প্রথম যে মন্দিরে আগুন দেয়া হয়েছিল, সেই লালচিংয়ে সোমবার শেষ করা হয় কয়েক হাজার মানুষের একটি মৌন মিছিল। শুরু হয়েছিল পুড়ে যাওয়া আরেক মন্দির সীমা বিহার থেকে।

প্রবারণা পূর্ণিমা উৎসবের অনুষঙ্গ বাকখালী নদীতে জাহাজ ভাসানো, এবারে তা করা হয়নি। প্রতীকীভাবে একটি মাত্র ফানুস ওড়ানো হয়েছে।

আর এসব প্রতিবাদের আয়োজন করে রামু বৌদ্ধ যুব পরিষদ। এর আহবায়ক রজত বড়ুয়া বলেন, রামুতে মন্দির পোড়ানোর ঘটনায় বৌদ্ধদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন প্রতিবাদ করা হয়নি। তাই আমরা মনে করেছি এটা করা উচিত।

“আমরা বুদ্ধের সামনে প্রদীপ প্রজ্বলন করি। কিন্তু এখানে আমরা যে প্রদীপ প্রজ্বলন করেছি, এর মাধ্যমে আমরা একটি বিষয় জানাতে চাই যে যারা এ ধরনের কাণ্ড ঘটিয়েছে, তারা যদি আমাদের প্রদীপের আলোকে আলোকিত হতে পারে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পাওনা।“

গত ২৯শে সেপ্টেম্বরে হামলার রাতে রামুতে দশটির বেশি মন্দির পোড়ানো হয় কিংবা ধংস করা হয়। অগ্নিসংযোগ কিংবা হামলার শিকার হয় গোটা পঞ্চাশেক বসতবাড়ি।

"এখন মনের মধ্যে যে বিষয়টি রয়েছে, সে ব্যাপারে বলা যায় টাইম ইজ দি বেস্ট হিলার, সময়ই এই বিষয়গুলো অনেকটা নিরাময় করে দেবে"

দিলীপ বড়ুয়া, শিল্প মন্ত্রী

এখনো অনেকে বাস করছেন তাবুতে।

বৌদ্ধদের ওপর হামলা হয় উখিয়া, টেকনাফেও।

রামু পরিচিতি ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ হিসেবে। এক রাতের হামলায় সেখানে আস্থা আর বিশ্বাসের বন্ধনও ধসে পড়ে বলে মনে করছেন রামুর একজন বাসিন্দা দীপক বড়ুয়া।

তিনি বলেন যে ঐ হামলা ছিল এমন এক ঘটনা, যা তারা সারা জীবনে তাঁরা ভুলতে পারবেন না।

“আমাদের অন্তরে যে চিড় ধরেছে, তা আর জোড়া লাগার নয়। কাঁচ ভাঙ্গলে কি আর জোড়া লাগে? বৌদ্ধরা যে ভয় পেয়েছেন, তা কাটিয়ে ওঠা অনেক কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।“

সীমান্তের ওপারে বার্মার রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে সহিংসতা চলছিল, তার একটি প্রতিক্রিয়া হিসেবে রামুতে বৌদ্ধদের ওপর হামলা হয় বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।

বার্মায় আবার নতুন করে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা শুরু হয়েছে। আর সীমান্তের ওপারের এই ঘটনা আবারো রামুর বৌদ্ধদের শঙ্কিত করে তুলছে বলে জানান দীপক বড়ুয়া।

স্থানীয় বৌদ্ধরা বলছেন, ভেঙ্গে যাওয়া আস্থা এতো সহজে জোড়া লাগার নয়

তিনি বলেন, এখনো যেসব ঘরবাড়ি অক্ষত রয়েছে, সেগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা হতে পারে বলেন স্থানীয় বৌদ্ধরা মনে করছে।

প্রশাসনের ওপর আস্থাহীনতার কথা উল্লেখ করেন দীপক বড়ুয়া। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে প্রশাসনের লোকজনের সামনে দিয়ে যেয়েই বৌদ্ধ মন্দিরগুলো জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে।

রামুর ঘটনার পর সরকারি কমিটি হয়েছিল কারণ অনুসন্ধানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে সম্প্রীতি সম্মেলন করেছেন। বাড়িঘর আর মন্দির পুনর্নির্মাণ এবং মেরামতে সরকার ব্যবস্থাও নিয়েছে।

এসব পদক্ষেপ আস্থা ফেরাতে সাহায্য করছে বলে মনে করেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, কিছু কিছু অতিউৎসাহী যুবকরা যে কথাগুলো বলছে, সেগুলো আমরা প্রশমিত করতে পারবো। যেভাবে সারা দেশের মানুষ রামুর ঘটনাকে ধিক্কার দিয়েছে, সেটি একটি রক্ষাকবচ।

“এখন মনের মধ্যে যে বিষয়টি রয়েছে, সে ব্যাপারে বলা যায় টাইম ইজ দি বেস্ট হিলার, সময়ই এই বিষয়গুলো অনেকটা নিরাময় করে দেবে।“

দিলীপ বড়ুয়া দাবী করেন, ফানুস উড়িয়েই দেশের অন্যান্য এলাকায় বৌদ্ধরা প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করছে।

আর বার্মায় রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যকার নতুন সহিংসতার কারণে প্রয়োজনে রামুর মতো বৌদ্ধ অধ্যুষিত এলাকায় নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻