BBC navigation

পশ্চিমবঙ্গে জমির আন্দোলনে গুলির অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 6 নভেম্বর, 2012 13:16 GMT 19:16 বাংলাদেশ সময়

জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে বীরভূমে গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলায় কয়লা উত্তোলন শিল্প গড়াকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময়ে পুলিশের গুলিতে অন্তত পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রাজ্য পুলিশ গুলি চালানোর কথা অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে যে গ্রামবাসীদের ছোঁড়া তীর ও পাথরের আঘাতে ২৭ জন পুলিশ-কর্মী আহত হয়েছেন।

বীরভূমের দুবরাজপুরে কয়লা উত্তোলন শিল্পের জন্য নেওয়া জমির বদলে বাসিন্দারা জমির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি করছিলেন।

সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেই মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় আসে গতবছর।

এর আগে বামফ্রন্ট সরকার নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের ওপর গুলি চালিয়ে একদিনেই অন্তত ১৪ জন কৃষককে হত্যা করেছিল।

বীরভূম জেলার দুবরাজপুরে আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন মহিলাসহ অন্তত ৫ জন গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জী

গুলি চালানোর আগে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসও ছোঁড়ে।

কিন্তু সংখ্যায় প্রচুর বেশি হওয়ায় মারমুখী গ্রামবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ বাহিনী।

গ্রামবাসীদের ছোঁড়া তীর ও পাথরের আঘাতে কয়েকজন সিনিয়র পুলিশ অফিসারসহ ২৭ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করলেও রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব বাসুদের ব্যানার্জী কলকাতায় এক সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলেন যে পুলিশ গুলি চালায়নি।

স্থানীয় ভূমি রক্ষা কমিটির নেতা জয়দীপ মজুমদার স্বরাষ্ট্র সচিবের দাবিকে নস্যাৎ করে দিয়ে বলছেন যে গুলি চালিয়েছে পুলিশই।

পুলিশ যদি গুলি না চালিয়ে থাকে তাহলে কে গুলি চালালো, সেটা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলি।

সরকারি ও বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে দুবরাজপুরের লোবা গ্রামে কয়লা উত্তোলনের জন্য একটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল।

ওই জমির জন্য যে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজী হয়েছিল কয়লা উত্তোলক সংস্থাটি, কিন্তু গ্রামবাসীরা আরও বেশি টাকা দাবি করেন।

তারপর থেকে সেখানে ভূমি রক্ষার আন্দোলন শুরু হয়। একটি কয়লা উত্তোলন যন্ত্র আটকে রাখেন বাসিন্দারা। ওই যন্ত্র উদ্ধারের জন্য আদালতের নির্দেশেই আজ পুলিশ ওই গ্রামে গিয়েছিল।

তবে ভূমি রক্ষা কমিটির নেতা মি. মজুমদার বলছেন যে কয়লা উত্তোলন শিল্পে তাঁদের আপত্তি নেই যদি বাড়তি ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও চাকরি দেওয়া হয়।

বামফ্রন্ট সরকারের আমলে টাটার জমি অধিগ্রহণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সিঙ্গুর

উল্লেখ্য, বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনকারীদের ওপরে পুলিশের গুলি চালনা ও ১৪ জন কৃষকের মৃত্যু নিয়ে বছর পাঁচেক আগে সারা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।

তারও আগে সিঙ্গুরে টাটা গোষ্ঠীর গাড়ি কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনেও পুলিশী নিগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল।

ওই দুটি আন্দোলনেরই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।

এখন তাঁর সরকারের পুলিশের বিরুদ্ধেই গ্রামবাসীদের ওপরে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠল।

নন্দীগ্রাম আর সিঙ্গুরের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গাতেই জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলেছে আর জমি অধিগ্রহণের এই জটিলতার ফলে রাজ্যে নতুন কোনও বড় শিল্প স্থাপিত হয়নি।

এর জন্য তৃণমূল কংগ্রেসকেই দোষ দিয়ে থাকে শিল্প-বাণিজ্য মহল।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻