BBC navigation

সরকার জামায়াতকে দলে ভেড়াতে চায়: বিএনপি

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 11 নভেম্বর, 2012 15:02 GMT 21:02 বাংলাদেশ সময়

সিলেটে পুলিশের হাতে আটককৃত ছাত্রশিবির কর্মী।

বাংলাদেশে গত ক'দিন ধরে সহিংস আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী।

ধারণা করা হচ্ছে দেশটিতে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম থেকে দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাকর্মীদের বাঁচাতে এ ধরণের কর্মসূচী পালন করছে জামায়াত।

সরকারের তরফ থেকেও আন্দোলন দমাতে ব্যাপক তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

এরকম এক পরিস্থিতিতে দেশটির বিরোধী নেত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকারি দল আওয়ামী লীগ এখন চাইছে নানাভাবে জামায়াত ইসলামীকে চাপে ফেলে তাদেরকে নিজেদের সাথে ভেড়াতে।

খালেদা জিয়া এখন দেশটির সৈকত শহর কক্সবাজার সফর করছেন এবং ওই এলাকায় সম্প্রতি সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করছেন।

শনিবার সফরের প্রথম দিন তিনি রামু এলাকায় একটি সংহতি সমাবেশে এ বক্তব্য দেন।

রবিবারও তিনি যখন কক্সবাজার সফর করছেন, তখন ঢাকাতেও বিএনপির অন্যান্য নেতারাও একই ধরণের বক্তব্য দিচ্ছেন।

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াত ইসলামী বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বন্ধু।

সর্বশেষ ২০০১ সালে যখন চার দলীয় জোট নামে যে সরকারটি দেশটির ক্ষমতায় ছিলো সেখানে সরকারে প্রধান দল হিসেবে বিএনপির অন্যতম শরিক ছিলো জামায়াত।

বলা হয়, দু'দলের জোটবদ্ধ রাজনীতি এতটাই সফল এবং কার্যকর যে সহসাই তাদের এই সম্পর্ক নষ্ট হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই আওয়ামীলীগের সাথে জামায়াতের রাজনৈতিক জোট হবার তেমন কোনো সম্ভাবনা দেখা যায় না।

কক্সবাজারের উখিয়ায় সম্প্রীতি সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন খালেদা জিয়া।

কিন্তু বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য এম.কে. আনোয়ার বলছেন, ১৯৯৬ সালেও জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ আন্দোলন করেছে আওয়ামীলীগ।

''আমাদের সাথে এলেই জামায়াত নিকৃষ্ট হয়ে যায়। আর আওয়ামীলীগের সাথে থাকলে জামায়াতের কোনো দোষ থাকে না, তিনি বলেন, ''এইবার ক্ষমতায় আসার পরও আওয়ামীলীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে প্রথম দু বছর চুপ করে ছিলো। এরপর হৈচৈ শুরু করলো। এ থেকে এটা পরিষ্কার তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক এটা চায় না।''

মি. আনোয়ার বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন এভাবে: আওয়ামী লীগ চায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে। বিশেষ করে জামায়াতকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত করার জন্য। সম্পৃক্ত দুভাবে হতে পারে। তাদের সাথে যোগ দেবে অথবা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই একটা নির্বাচনে জামায়াত অংশ নেবে। এজন্যই তাদের উপর রাজনৈতিকভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

"আমাদের সাথে এলেই জামায়াত নিকৃষ্ট হয়ে যায়। আর আওয়ামীলীগের সাথে থাকলে জামায়াতের কোনো দোষ থাকে না।"

এম কে আনোয়ার, স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপ

জামায়াতের একজন কেন্দ্রীয় নেতা তাসনিম আলম অবশ্য বিএনপির এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন।

মি. আলম বলছেন, ''এরকম কিছু নেই। দলে ভেড়ানোর তো প্রশ্নই নেই। বাস্তব অবস্থাও সেটাই প্রমাণ করে। সরকারের কর্মকাণ্ড খুবই পরিষ্কার। তারা জামায়াতকে নেতৃত্বশূন্য করতে চায়। এটাই তাদের টার্গেট।''

জামায়তের কর্মসূচি

যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে গত সোমবার থেকে নানা কর্মসূচী নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে রয়েছে জামায়াত।

প্রথম দিনেই ঢাকায় দলটির নেতাকর্মীদের সাথে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় পুলিশের।

বহু যানবাহন ভাংচুর করা হয়ে এবং দুপক্ষেরই অনেক মানুষ আহত হয়ে।

পরে আরো দু'দিন এ ধরণের সংঘর্ষ হয়েছে এবং সর্বশেষ শনিবার বিকেলে ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি জেলায় একই ধরণের সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।

দফায় দফায় এসব সংঘর্ষে জয়পুরহাটে আহত এক জামায়াত কর্মী পরে হাসপাতালে মারা গেছে এবং প্রতিবাদে সোমবার জয়পুরহাটে দিনব্যাপী হরতাল ডেকেছে দলটি।

সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ব্যাপক তৎপর রয়েছে।

রবিবার বিকেল পর্যন্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বহু জামায়াত-নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবরে জানা যাচ্ছে।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻