BBC navigation

'বিবিসিতে আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন'

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 11 নভেম্বর, 2012 13:27 GMT 19:27 বাংলাদেশ সময়
লর্ড ক্রিস প্যাটেন

লর্ড ক্রিস প্যাটেন

বিবিসির চেয়ারম্যান লর্ড ক্রিস প্যাটেন বলেছেন, মহাপরিচালক জর্জ এনটুইসেলের পদত্যাগের পর বিবিসির কাঠামো এবং পরিচালনায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন এই সংস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি তাঁর বর্তমান দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং দ্রুত মি.এনটুইসেলের একজন উত্তরসূরী নিয়োগ করা হবে।

এই সংকটের মধ্য দিয়ে নতুন বিবিসির আত্মপ্রকাশ ঘটবে বলে তিনি মনে করেন।

গত সেপ্টেম্বর মাসে বিবিসির মহাপরিচালক নিযুক্ত হওয়ার পর মাত্র দু'মাসের মাথায় জর্জ এনটুইসেল পদত্যাগ করেন।

মি. এনটুইসল ১৭ই সেপ্টেম্বর বিবিসির মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিবিসি ওয়ার্ল্ডওয়াইডের প্রধান নির্বাহী টিম ডেইভি এখন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে কাজ করবেন।

ভুল খবরের পরিনাম

গত সপ্তাহে ব্রিটেনে বিবিসির জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান নিউজনাইটে এক প্রতিবেদনে ক্ষমতাসীন টোরি দলের সাবেক এক রাজনীতিককে ভুল করে শিশু সদনে যৌন হয়রানির ঘটনায় জড়িয়ে খবর পরিবেশনের পর বিবিসির মহাপরিচালক জর্জ এনটুইসেল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

"যেহেতু মহাপরিচালক একই সাথে প্রধান সম্পাদক এবং সার্বিকভাবে সব ধরনের তথ্যের জন্য দায়ী, নিউজনাইট অনুষ্ঠানে গত ২রা নভেম্বর প্রচারিত অগ্রহণযোগ্য মানের সাংবাদিকতার প্রেক্ষিতে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে পদত্যাগই হবে সম্মানজনক।"

জর্জ এনটিুইসেল

তবে এরও আগে বিবিসির প্রয়াত তারকা জিমি স্যাভিলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েও তীব্র চাপের মুখে পড়ে বিবিসি।

এই প্রেক্ষিতেই মি. এনটুইসেল শনিবার রাতে তার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, নিউজনাইটের ঐ প্রতিবেদনটি প্রচার করা ঠিক হয়নি এবং সম্মানজনক হবে বলেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ব্রিটিশ সংসদে মিডিয়া বিষয়ক কমিটির প্রধান জন হুইটিংডেইল ব্যাখ্যা করছিলেন, বিবিসির মহাপরিচালকের পদ থেকে জর্জ এনটুইসেলের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেন ঠিক ছিল? তিনি বলেন, জিমি স্যাভিলের ঘটনায় নিউজনাইটের অনুসন্ধান চেপে যাওয়া এবং পরে সামান্য তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে গুরুতর একটি অভিযোগের বিষয়ে অনুষ্ঠান- এ সবকিছু মিলিয়েই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই দুটো ঘটনাই বিবিসির বড়ো ধরনের ক্ষতি করেছে।

''জর্জ এনটুইসেলকে যখন এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে তখন দেখা গেছে এসব অনুষ্ঠান প্রচারের আগ পর্যন্ত এসব বিষয়ে তিনি যে শুধু কিছু জানতেনই না তা নয়, বরং লোকজন যখন জানতে চাইছিল এসব অনুষ্ঠানের তথ্য ঠিক ছিল কীনা তখনও তিনি খুব সামান্য কিছুই করেছেন।''

ব্যাপক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে বিবিসি

এই সঙ্কটের পর বিবিসিকে এখন ঢেলে সাজানোর কথা উঠেছে।

পদত্যাগের বিবৃতি পড়ছেন জর্জ এনটুইসেল। পাশে লর্ড প্যাটেন।

পদত্যাগের বিবৃতি পড়ছেন জর্জ এনটুইসেল। পাশে লর্ড প্যাটেন।

বিবিসির চেয়ারম্যান লর্ড প্যাটেন বলছেন, পুরো কাঠামোতেই এই পরিবর্তনের প্রয়োজন। কারণ আস্থা ও বিশ্বাস ছাড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবিসি ধ্বংস হয়ে যাবে।

প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে ও বাইরে অনেকেই স্বীকার করছেন যে বিবিসি এখন এক কঠিন সময় পার করছে।

চেয়ারম্যান লর্ড প্যাটেন অবশ্য আশা করছেন যে এই সঙ্কটের ভেতর থেকে হয়তো একেবারেই ভিন্ন রকমের এক বিবিসি বেরিয়ে আসতে পারে।

তিনি বলেন, ''আপনি যদি বলেন যে বিবিসির কাঠামোতে আগাগোড়া বড়ো ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন আছে কীনা তাহলে আমি বলবো যে অবশ্যই প্রয়োজন আছে। এবং আমাদেরকে এটাই করতে হবে।''

''কৌতুকের সাথে আমি একটা কথা বলে থাকি- বিবিসিতে আসার পর আমাকে যখন উর্ধতন ম্যানেজারদের সাথে কথা বলতে বলা হলো তখন দেখলাম যে চীনের কমিউন্স্টি পার্টির চেয়েও বিবিসিতে উর্ধবতন নেতার সংখ্যা বেশি। সেজন্যে যতোটা সম্ভব দায়িত্ব হস্তান্তরের কাজটা আমাদের করতে হবে। এর সাথে দায় দায়িত্ব গ্রহণের প্রশ্নটাও আসে। ফলে সাংবাদিকতা ও সম্পাদকীয়র দায়িত্বে যারা আছেন তারা কিন্তু ব্যবস্থাপনারও একটা অংশ।''

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে মিডিয়া বিষয়ক কমিটির প্রধান জন হুইটিংডেইল বলছেন, বিবিসির আস্থা ফিরিয়ে আনতে পরিচালনা কমিটি বিবিসি ট্রাস্টকে এখন অনেক কাজ করতে হবে।

''বিবিসির ব্যাপারে সজাগ থাকার চুড়ান্ত দায়িত্ব বিবিসি ট্রাস্টের চেয়ারম্যান এবং ট্রাস্টের। এসব কীভাবে ঘটলো সেই গুরুতর প্রশ্নগুলো তাদেরকে করতে হবে।''

মি. হুইটিংডেইল বলেন, ''এটা মহাপরিচালকেরই ব্যর্থতা নয়, এই ব্যর্থতা প্রত্যেক স্তরের ব্যবস্থাপকদের। এ ধরনের একটি অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত কীভাবে প্রচার হলো সে বিষয়ে এখনও অনেক প্রশ্নের উত্তর জানা প্রয়োজন।''

বিবিসির চেয়ারম্যান লর্ড প্যাটেন বলেন মহাপরিচালকের এই পদত্যাগ বাজে সাংবাদিকতারই পরিনাম।

প্রতিষ্ঠানটির ওপর দর্শকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতেই এখন তারা চেষ্টা করছেন।

মহাপরিচালকের এই পদত্যাগের প্রতিক্রিয়ায় সরকারের পক্ষ থেকেও দর্শকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্যে বিবিসিকে কাজ করতে বলা হয়েছে।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻