BBC navigation

আওয়ামী লীগ নেতাদের সতর্ক করেছে ট্রাইব্যুনাল

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 13 নভেম্বর, 2012 15:44 GMT 21:44 বাংলাদেশ সময়
tribunal

বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ (মঙ্গলবার) ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দকে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করার ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছে।

আওয়ামীলীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এবং মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্য নিয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

সেই অভিযোগের নিষ্পত্তি করে দেয়া আদেশে আজ ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা বলেন, ।

একইসাথে তাঁরা বলেছেন, ৭১’র মানবতা-বিরোধী অপরাধের মামলার বিচারের রায় কবে হবে, সে বিষয়েও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কাল্পনিক বিভিন্ন সময় দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন বলে ট্রাইব্যুনাল আশা করে।

তবে ট্রাইব্যুনাল সাজেদা চৌধুরী এবং মতিয়া চৌধুরীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নেয়নি। আদেশে বলা হয় এই দুই রজনীতিকের বক্তব্য অবমাননা সম্পর্কিত আইনের আওতায় পড়ে না।

"সরকার বা দায়িত্বশীল পদে অধিষ্ঠিতদের বিচারাধীন বিষয় নিয়ে ভেবে চিন্তে মন্তব্য করা উচিত"

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আদালত বলেছে, আওয়ামী লীগের দু’জন নেত্রীর বক্তব্য বিচার কার্যক্রমে সরাসরি কোন প্রভাব ফেলেনি।

তবে আদালত এক পর্যবেক্ষণে বলেছে, সরকার বা দায়িত্বশীল পদে যারা রয়েছেন, ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন বিষয়ে তাদের ভেবে-চিন্তে বক্তব্য দেওয়া উচিত।

ট্রাইব্যুনালের আইনজীবী প্যানেলের অন্যতম সদস্য জিয়াদ আল মালুম বলেছেন, বিচারাধীন কোন বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টিই উঠে এসেছে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে।

মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আদালত অবমাননার অভিযোগ যে আনা হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী বলেছিলেন, রাজাকাররা আইন মেনে ৭১’এ নির্যাতন করেনি। "কাজেই এতে আইন না দেখে দু’একটাকে ঝুলিয়ে দিলেই কপচানি বন্ধ হবে"।

আরেক অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর বক্তব্য ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে যারা সাফাই সাক্ষী দেবে, তারাই রাজাকার ।

"বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নয়, আমরা আমাদের আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বক্তব্য তুলে ধরছি"

মতিয়া চৌধুরী, কৃষি মন্ত্রী

এসব বক্তব্যের ব্যাপারে আনা অভিযোগ এখন আদালতে নিষ্পত্তি হলো।

মন্ত্রী এবং আওয়ামীলীগ নেত্রী মতিয়া চৌধুরী বিবিসিকে বলছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধের বিচার চোরাগোপ্তা-ভাবে করা হচ্ছে না। আওয়ামীলীগের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী এই বিচার হচ্ছে। ফলে আমরা বিষয়টাতে বিভিন্ন সময় আমাদের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরছি।’

মানবতা-বিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের অনেক নেতা বিভিন্ন সময়ে নানা রকম বক্তব্য তুলে ধরেছেন, যা অনেক সময়ই সমালোচনার মুখে পড়েছে।

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার অভিযোগ আনা হচ্ছে।

তবে আওয়ামীলীগ নেত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, বিচার কার্যক্রমকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নয়, তারা তাদের আকাঙ্ক্ষা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বক্তব্য তুলে ধরেন।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻