BBC navigation

মৃত্যুদন্ড মওকুফ নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনের প্রশ্ন

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 15 নভেম্বর, 2012 15:41 GMT 21:41 বাংলাদেশ সময়
death sentence

বাংলাদেশে বর্তমান আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ২১ জনের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনাই মূল বিষয় ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে দেশটির একটি মানবাধিকার সংগঠন।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের অনেকই বলছেন, সাজা মওকুফের কোনও নীতিমালা না থাকায় এবং সিদ্ধান্তের পর তা গোপন রাখার কারণেই এ নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠছে। অবশ্য সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

এর আগে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে প্রকাশ পায়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ৪০ বছরে রাষ্ট্রপতি তাঁর ক্ষমতাবলে মোট ২৫ জনের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করেছেন। কিন্তু তার মধ্যে ২১ জনই মাফ পেয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মেয়াদে।

"আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মেয়াদে যাদের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই কোন না কোন ভাবে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে "

আদিলুর রহমান খান, অধিকার

যে পরিসংখ্যান সংসদে উঠে এসেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালে এক বছর সময়কালের মধ্যেই ক্ষমা করা হয়েছে ১৮ জনকে।

এর মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলার আওয়ামীলীগ নেতা আবু তাহেরের ছেলে এইচ এম বিপ্লব রয়েছেন। সেখানকার বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলায় তার ফাঁসি হয়েছিল। এ ঘটনা ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

শীর্ষ পর্যায়ের একটি মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর আদিলুর রহমান খান বলছিলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বর্তমান মেয়াদে যাদের মৃত্যূদন্ড মওকুফ করা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকেরই কোন না কোন ভাবে আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অধিকারের গবেষণায় উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, সে কারণেই মৃত্যূদন্ড মাফ করার এসব সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করেছে বলে তাদের মনে হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়ার বাইরে কোন প্রশাসনিক আদেশে কারও সাজা মওকুফ করা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি নতুন করে অবিচার করা হয়।

"মৃত্যুদন্ড মওকুফ করার ক্ষেত্রে কোন মাপকাঠি না থাকায় নানান প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে এই ক্ষমা করার কথা বলা হলেও কখনও এ ব্যাপারে যুক্তি বা কারণ প্রকাশ করা হয় না বলেও সন্দেহ দেখা দেয়"

শাহদীন মালিক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ

এ ব্যাপারে সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক মনে করেন, মৃত্যুদন্ড মওকুফ করার ক্ষেত্রে কোন মাপকাঠি না থাকায় নানান প্রশ্ন উঠছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে এই ক্ষমা করার কথা বলা হলেও কখনও এ ব্যাপারে যুক্তি বা কারণ প্রকাশ করা হয় না বলেও সন্দেহ দেখা দেয়।

তিনি আরও বলেছেন, 'রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাবলে ক্ষমা করার কথা বলা হলেও সিদ্ধান্ত আসে সরকার থেকেই। আইন অনুযায়ী সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সব বিষয় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর মতামত পাওয়ার পর তা যায় রাষ্ট্রপতির কাছে।' তার ভিত্তিতেই রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত আসে বলে মি. মালিক উল্লেখ করেছেন।

বর্তমান সরকারের সময়ে বড় সংখ্যায় ফাঁসির আসামীর সাজা মওকুফ করার ঘটনাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবারও ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাজা মওকুফের এসব ঘটনা সমালোচনা করেছেন বিরোধীদল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে আইন মন্ত্রী শফিক আহমেদ রাজনৈতিক বিবেচনায় ফাঁসির আসামীর সাজা মওকুফের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে আইন বা বিধানের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।

বাংলাদেশে জেনারেল এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৬ সালে প্রথম একজন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে ক্ষমা করা হয়।

২০০৫সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়ও ক্ষমা করা হয়েছিল দু’জনকে। এছাড়া বিগত তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও একজন ক্ষমা পেয়েছেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻