BBC navigation

সিডর-এর পাঁচ বছর: কেমন আছেন আক্রান্তরা?

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 15 নভেম্বর, 2012 16:15 GMT 22:15 বাংলাদেশ সময়
bangladesh_sidr

সিডরের ধ্বংসলীলা

ঠিক পাঁচ বছর আগে আজকের এই দিনে - ২০০৭ সালের ১৫ই নভেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলে আঘাত হেনেছিল সাইক্লোন সিডর।

সেই সাঙ্ঘাতিক ঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতাই ছিল প্রায় ১০ ফুটের মতো। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাগেরহাট জেলার শরণখোলা এবং সাউথখালি এলাকা।

তবে পটুয়াখালী, বরগুনা এবং ঝালকাঠি জেলাতেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। সুন্দরবনের একাংশের উপরও সিডর ধ্বংসলীলা চালায়।

মারা গিয়েছিলেন সাড়ে তিন হাজারের মতো মানুষ, ঘরবাড়ি ভেঙে আশ্রয়হীন হয়েছিলেন আরো হাজার হাজার লোক।

আজ সেই ঘটনার পাঁচ বছর পর এসে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন সেখানকার মানুষজন?

"যেটুকু সহায়তা দেয়া হয়েছিল তাতে এলাকার মানুষ খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পেরেছে - তবে তাদের পুরনো পেশায় ফিরে যেতে যে দীর্ঘমেয়াদি সাহায্য দরকার ছিল তা তারা পাননি।"

সাইফুল ইসলাম, শরণখোলার উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান

সাইক্লোন সিডর আঘাত হানার দিন শরণখোলার দুলাল ফরাজি সুন্দরবনের দুবলার চরে ছিলেন। আঘাতের শেষ মূহুর্ত বর্ণনা করে বললেন, 'সেদিন রাত নটা বা দশটার দিকে সিডর আঘাত হানছিল। তখন মনে হচ্ছিল যেন আজই পৃথিবী শেষ হয়ে যাবে। আমি একটা গাছের সাথে নিজেকে শক্ত করে বেঁধে রেখেছিলাম'।

প্রায় তিন দিন পর অনেক কষ্ট করে শরণখোলায় নিজের বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন তার দুই সন্তানকেই তিনি হারিয়েছেন।

সাউথখালির সবুর হাওয়ালাদার সিডরে পরিবারের সাতজনকে হারিয়েছেন। জানালেন সাইক্লোনের আঘাতের পরদিন দেখেছিলেন তার গ্রামের সবকিছু মাটিতে মিশে গেছে।

আজ পাঁচ বছর পর এসে শরণখোলা ও সাউথখালির মানুষেরা জীবন ও জীবিকা ফিরে পেতে কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পেরেছেন?

bangladesh_sidr

আক্রান্ত অনেকেই নিজ পেশায় ফিরতে পারেননি

সাউথখালির সবুর হাওয়ালাদার এর উত্তরে হতাশার সুরে কথা বললেন। জানালেন সেখানকার ধনী এবং গরীব সবাই এক কাতারে নেমে এসেছে।

সিডরের পরই মরদেহ প্রতি সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের ১০ হাজার করে টাকা দান করেন এবং পরে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ১১ জন করে একত্রে মাছ ধরার ট্রলার দিয়েছিল।

সবুর হাওয়ালাদার বলেন, এনজিও থেকেও কিছু সাহায্য তারা পেয়েছেন। তবে তাতে সবাই পুরোপুরি উঠে দাঁড়াতে পারেননি বলে জানালেন।

শরণখোলা উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খোকন জানান তার এলাকার মানুষ এখনো তাদের পুরনো পেশায় ফিরতে পারেননি।

"এনজিও থেকেও কিছু সাহায্য পেয়েছি, তবে তাতে সবাই পুরোপুরি উঠে দাঁড়াতে পারেননি"

সবুর হাওয়ালাদার, সাউথখালীর বাসিন্দা

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, 'যেটুকু খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা দেয়া হয়েছিল তাতে এলাকার মানুষ খেয়ে পরে বেঁচে থাকতে পেরেছে - তবে তাদের পুরনো পেশায় ফিরে যেতে যে ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সাহায্য দরকার ছিল তা তারা পাননি। আমরা এ ক্ষেত্রে হতাশ হয়েছি। যারা ঘরবাড়ি, গবাদিপশু হারিয়ে পথে বসেছেন তাদের অবস্থার আদৌ কোন পরিবর্তন হয়নি'।

তবে তারপরও খানিকটা আশা দেখা যাচ্ছে বলে তিনি জানালেন।

শরণখোলা ও সাউথাখালির এলাকা এক ফসলি হলেও কিছু বেসরকারি সংস্থার সাহায্যে সেখানে নতুন ধরনের রবি শস্যের চাষ হচ্ছে। তাতে ভাল ফলনও হচ্ছে। আর তার আশায় বুক বেঁধেছেন সেখানকার মানুষ।

ঘুরে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ের সাথে সাথে সারিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন মনের ক্ষত।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻