BBC navigation

এই পোশাক শ্রমিকদের পরিচয় শুধু কিছু ক্রমিক নম্বর

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 27 নভেম্বর, 2012 13:29 GMT 19:29 বাংলাদেশ সময়

এদের প্রত্যেকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে

রাজধানীর কাছে আশুলিয়ার তাজরিন গার্মেন্ট কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যেসব শ্রমিক নিহত হয়েছেন তাদের প্রায় অর্ধেকের পরিচয় সম্পর্কে কিছু জানা যায় নি।

এরকম ‘পরিচয়হীন’ মোট ৫২টি মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, যেগুলোকে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার জুরাইন গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনেই ওই মৃতদের জন্য জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

মর্গে এসেও নিহতদের আত্মীয় স্বজনেরা এসে কয়েকটি লাশ সনাক্ত করেন।

জীবন্ত দগ্ধ হয়ে এরা মারা গেছেন এবং তাদের শরীর পুড়ে এরকম অঙ্গার হয়ে গেছে যে তাদেরকে সনাক্ত করাও সম্ভব হয়নি।

এদের মধ্যে কতোজন নারী আর কতোজন পুরুষ কর্তৃপক্ষ সেটাও বলতে পারেনি।

পরে নিহতের কোন আত্মীয় স্বজন যদি দাবি নিয়ে আসেন তখন যাতে তাদেরকে সনাক্ত করা সম্ভব হয় সেজন্যে দাফনের আগে প্রত্যেক শ্রমিকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে।

জুরাইনে সারি সারি কবর

কিশোর লিওন হারিয়েছে চার স্বজন

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে গিয়ে পৌঁছাই দুপুরের একটু পরেই, আগুনে পোড়া লাশগুলো তখন সবেমাত্র গাড়িতে তোলা হচ্ছে।

সেখানে কথা হলো রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আসা লিওনের সাথে।

লাশ সনাক্ত করাতে ঢাকায় এসেছে ১২-১৩ বছর বয়েসী কিশোর লিওন।

জানালেন তার পরিবারের চারজন নিহত হয়েছে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়।

ছোট্ট লিওন, নির্বিকার ভঙ্গিতে বলছিল তার কথা। পরিবারের এতগুলো মানুষের চলে যাওয়ায় শোকে পাথর হয়ে যাওয়া মুখমণ্ডল তার।

চুড়ি দেখে চেনা

মর্গে নিহত স্ত্রীকে সনাক্ত করতে পেরেছেন পাবনার বাবুল।

পিতার আহাজারি

আশুলিয়ার ওই কারখানায় তিনি এবং তার স্ত্রী দু’জনেই অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

বাবুল আমাকে জানান, শনিবার আগুনের ঘটনার সময় তিনি চারতলায় কাজ করছিলেন এবং তার স্ত্রী কাজ করছিলেন ভবনের পঞ্চম তলায়।

নিহত স্ত্রীকে তিনি সনাক্ত করেছেন হাতের চুড়ি দেখে।

আগুনের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বাবুল আরো বলছিলেন, ওই ঘটনার পর তাদের কারখানার মালিক পক্ষের কেউ এসে সান্ত্বনা পর্যন্ত দিতে আসেননি।

বাবুলের সাথে কথা বলতে বলতেই সেখানে আসেন শ্রমমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ এবং তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা।

তারপর শুরু হয় জানাজার নামাজ।

কবরে কিছু ক্রমিক নম্বর

কিছুক্ষণ পরেই আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের পাঁচটি গাড়িতে করে মৃতদেহ রওনা হয় জুরাইন গোরস্তানের দিকে।

মন্ত্রী আর পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠনের কর্মকর্তাদের ভিড় কমে আসতে থাকায় খোঁজ করি কিশোর লিওনের।

পাওয়া যায়না তাকে। অনেক মানুষের ভিড়ে হারিয়ে যায় সেও।

৫২টি 'পরিচয়হীন' মৃতদেহ

হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃতদেহগুলোকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানেও আরেকবার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

মৃতদেহগুলোকে রাখা হয়েছিল একেকটি ব্যাগে। ব্যাগগুলোতে কোনো নাম ঠিকানা লেখা না থাকলেও তাতে একটি নম্বর দেওয়া ছিল।

সেসময় নিখোঁজ অনেক শ্রমিকের স্বজনেরা এসে তাদের খোঁজ করেন।

মৃতদেহগুলো দেখার পর তারাও তাদের প্রিয়জনকে চিনতে পারেননি।

পরে তাদেরকে সারিবদ্ধভাবে খোড়া কবরে দাফন করা হয়।

এই কবরগুলোতে ক্রমিক নম্বর বসানো হয়েছে যাতে প্রয়োজনে তাদেরকে পরে সনাক্ত করা সম্ভব হয়।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻