BBC navigation

৯ই ডিসেম্বর সারাদেশে রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 28 নভেম্বর, 2012 16:54 GMT 22:54 বাংলাদেশ সময়
বিএনপি সমাবেশ

নয়া পল্টনে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে ১৮ দলীয় জোটের সমাবেশ

বাংলাদেশে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী ৯ই ডিসেম্বর সারাদেশে রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি দিয়েছে।

ঢাকায় এই জোটের জনসভায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তাদের কর্মসূচিতে বাধা দিলে তারা লাগাতার হরতালের মতো কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন।

খালেদা জিয়া বলেছেন, তাঁর ভাষায় সরকার ক্ষমতায় টিঁকে থাকতে জরুরি অবস্থা বা কারফিউ দিলে, তা জনগণ মেনে নেবে না।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ শেষে এখন ঢাকায় জনসভা করে নতুন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করলো।

১৮ দলীয় জোট ডিসেম্বর মাস জুড়ে সমাবেশ ,মিছিল এবং গণসংযোগের যে কর্মসূচি নিয়েছে, এর মধ্যে ৯ই ডিসেম্বর সারাদেশে রাজপথ অবরোধের কর্মসূচি ছাড়াও ২৬শে ডিসেম্বর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ঢাকায় গণসংযোগের কর্মসূচিও রয়েছে।

খালেদা জিয়া

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সমাবেশে খালেদা জিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বর্তমান সরকার সংবিধানে যে সংশোধনী এনেছে, এর সমালোচনা করেছেন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, সরকার ক্ষমতা স্থায়ী করতে ঐ পদক্ষেপ নিয়েছিল।

"বহু ফিস-ফিস, গুজ-গুজ শোনা যায় যে, দরকার হলে সরকার জরুরি অবস্থা দেবে। আমি বললাম জরুরি অবস্থা দিলে, সেটাই সরকারের জন্য কাল হবে।"

খালেদা জিয়া, বিএনপি চেয়ারপার্সন

‘এ সরকারের অধীনে আর কিছু নয় এবং কোন কিছু দিলেও তা মানা হবে না। বহু ফিস-ফিস ,গুজ-গুজ শোনা যায় যে, দরকার হলে সরকার জরুরি অবস্থা দেবে। আমি বললাম জরুরি অবস্থা দিলে, সেটাই সরকারের জন্য কাল হবে। জরুরি অবস্থা বা কারফিউ কোন কিছুই এদেশের মানুষ মানবে না’ মন্তব্য করেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির পক্ষ থেকে এর আগে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, যদিও ঢাকার জনসভায় খালেদা জিয়া এ বিষয়ে কিছু বলেননি এবং রাজপথেই নতুন কর্মসূচি দিয়েছেন।

কিন্তু বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের একজন নেতা জানিয়েছেন, তাদের আন্দোলন চলবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার বিষয়ে এখন তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

খালেদা জিয়াও তাঁর ভাষণে বলেছেন, তারা যথাসময়ে নির্বাচন চান।

‘নির্বাচন আমরা চাই। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। অন্যকিছু আমরা দেখতে চাই না। ফলে যথা সময়ে নির্বাচন দিন। আর সেই নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে’ বলেছেন বিএনপি চেয়ারপরর্সন।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভাতেও অনেকটা নির্বাচনী আবহ ছিল। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা জোটের নেতা কর্মীদের মিছিলে রং-বেরংয়ের ফেস্টুন, ব্যানার, বাদ্যদল এবং নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহার করতে দেখা যায়।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ভাষণেও একটা বড় অংশ জুড়ে ছিল নানান প্রতিশ্রুতির কথা।

তিনি বলেছেন, 'রাজতন্ত্র, বা কোন পরিবারতন্ত্রের জন্য বাংলাদেশ নয়। গণপ্রজাতন্ত্রী এই বাংলাদেশ জনগণের দেশ। তাই আপনাদের বলতে চাই, একবার সুযোগ দেবেন, আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্রমুক্ত করবো। দেশকে স্বাবলম্বী করবো। তা না করতে পারলে আপনারা যে শাস্তি দেবেন, সেটা মেনে নেবো’।

সম্প্রতি ঢাকায় গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকান্ডে এবং চট্টগ্রামে নির্মণাধীন ফ্লাইওভারের গার্ডার পড়ে নিহতদের স্মরণে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের এই জনসভায় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

এসব ঘটনার জন্য খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারকে দায়ী করেছেন।

ঢাকার এই জনসভায় জোটের শরিক দলগুলোর নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনা করা হয়।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻