BBC navigation

গণমাধ্যমের বিচার নিয়ে আদালতের প্রশ্ন

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 6 ডিসেম্বর, 2012 16:41 GMT 22:41 বাংলাদেশ সময়
criminal labelling

বাংলাদেশে অভিযুক্তদের প্রায়ই সংবাদ সম্মেলনে হাজির করা হয় গায়ে স্টিকার লাগানো অবস্থায় (র‍্যাবের ওয়েবসাইট থেকে)

বাংলাদেশে একজন বিচারককে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি নেওয়ার ঘটনায় পুলিশের পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।

আদালত বলছে, ভোলার জ্যেষ্ঠ সহকারী জজ জাবেদ ইমামকে কেন মিডিয়ার সামনে হাজির করা হয়েছিল- এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।

বিচারক জাবেদ ইমামকে ১লা ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকা থেকে ব্যাগভর্তি ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে আনা হয় সাংবাদিকদের সামনে।

যশোর থেকে ফেনসিডিল আনার কথা তিনি স্বীকার করেন এবং বলেন, টাকার বিনিময়ে তিনি ওই ফেনসিডিল আরেকজনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন।

আদালতের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে ব্যখ্যা চাওয়া হয়েছে ওই বিচারককে কেন সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছিল। ঢাকা মহানগরের হাকিম আদালতকে, পুলিশের কর্মকর্তারা সন্তুষ্ট করতে পারেননি, বলেছেন আদালতে উপস্থিত আসামীপক্ষের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।

তিনি জানান, পুলিশের প্রত্যেক কর্মকর্তার কাছে আদালত জানতে চায় তারা বাংলাদেশে প্রচলিত কোন্‌ আইনের ভিত্তিতে আসামীকে টেলিমিডিয়ায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।

"পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন পুরো বিষয়টি ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সাংবাদিকদের দ্বারা একতরফাভাবে করা।"

কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, আসামীপক্ষের আইনজীবী

তিনি বলেন, ‘পুলিশ কর্মকর্তারা এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন নি এবং বলার চেষ্টা করেছেন যে পুরো বিষয়টি ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সাংবাদিকদের দ্বারা একতরফাভাবে করা।‘

আটক ব্যক্তিকে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করার বিষয়টি বাংলাদেশে খুবই সাধারণ ঘটনা।

পুলিশ ও র‍্যাবের সংবাদ সম্মেলনে প্রায়শই আটক ব্যক্তিকে হাজির করা হয় যাদের গায়ে লাগানো স্টিকারে লেখা থাকে অপরাধী, ঘাতক, খুনী, হত্যাকারী ইত্যাদি।

এক পর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কথাও বলতে দেওয়া হয় সাংবাদিকদের সাথে।

এ ধরনের ঘটনায়, আগে কখনও প্রতিক্রিয়া না হলেও বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এবারই প্রথম এই প্রতিক্রিয়া হলো।

পুলিশ ও র‍্যাব কেন আটক ব্যক্তিকে মিডিয়ার সামনে হাজির করে সে বিষয়ে এই দুটো বাহিনীর কোন কর্মকর্তাই কথা বলতে রাজি হননি।

"মিডিয়াতে নৈতিকতার মানদণ্ডের একটি প্রচলিত ধারণা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মিডিয়াতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে।"

মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, বৈশাখী টেলিভিশন বার্তা প্রধান

কিন্তু টেলিভিশনে কেন এইধরনের খবর এভাবে প্রচার করা হয়- জানতে চাইলে বৈশাখী টেলিভিশনের বার্তা প্রধান মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল বলেন, মিডিয়া তথ্য চায়। কিন্তু যেভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে সামনে হাজির করা হয় সেজন্যে মিডিয়াকে এককভাবে দায়ি করা যাবে না।

‘আমাদের মিডিয়াতে নৈতিকতার মানদণ্ডের একটি প্রচলিত ধারণা প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মিডিয়াতে কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসবে।‘ বলেন সাংবাদিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল।

সংবাদপত্রে প্রকাশিত কোনো খবরে কারো মানহানি হলে প্রেস কাউন্সিলে সে ব্যাপারে মামলা করার সুযোগ রয়েছে এবং কাউন্সিল শুধুমাত্র তখনই এর বিচার করতে পারে।

তবে শাস্তি দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায়ের ক্ষমতা তাদের নেই।

এছাড়াও রেডিও টেলিভিশন প্রেস কাউন্সিলের আওতার বাইরে বলে এইসব সংবাদ মাধ্যমের বেলায় তাদের কোন কিছু করার নেই বলে বলছেন কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী এবাদুল হক।

"একজন লোক যদি বিচারে নিরাপরাধ সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে বিচারের আগেই সংবাদপত্রে অপরাধী বলে প্রচার করা আইন কর্তৃক সমর্থিত নয়।"

কাজী এবাদুল হক, সাবেক চেয়ারম্যান, প্রেস কাউন্সিল

তিনি বলেন, ‘একজন লোক যদি বিচারে নিরাপরাধ সাব্যস্ত হন তাহলে তাকে বিচারের আগেই সংবাদপত্রে অপরাধী বলে প্রচার করা আইন কর্তৃক সমর্থিত নয়। এতে ব্যক্তির মানহানি হয়।‘

আদালত বলছে, টেলিভিশনে বিচারের আগেই আসামী কর্তৃক বক্তব্য উপস্থাপন ন্যায় বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে।

পুলিশ ও র‍্যাবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এবং জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্যেই তারা এটা করে থাকেন।

কাগজে খুনী বা হত্যাকারী লিখে গলায় ঝুলিয়ে দেওয়ার কথা র‍্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা অস্বীকার করেছেন।

কিন্তু র‍্যাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত কতোগুলো ছবিতে আজ বৃহস্পতিবারেও দেখা যাচ্ছে যে আটক ব্যক্তিদের গায়ে লাগানো কাগজে লেখা – অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, খুনী।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻