BBC navigation

গুলি বন্ধের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও সীমান্ত হত্যা বেড়েছে

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 3 জানুয়ারি, 2013 14:45 GMT 20:45 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে ভারতের প্রতিশ্রুতি সত্বেও ২০১২ সালে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশীদের নিহত হবার ঘটনা বেড়েছে।

বিএসএফ-এর দিক থেকে আত্নরক্ষার্থে গুলি চালানোর কথা বলা হলেও বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মী এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারা সেটিকে ‘অযৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করছেন।

বাংলাদেশ ভারত সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সর্বোচ্চ সংযত আচরণ করবে- ভারতের দিক থেকে এমন আশ্বাস বহুবার দেয়া হলেও সেটি তেমন একটা কাজে আসেনি বলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।

এরকম আশ্বাসের পরও মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১২ সালে বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশী নিহত হবার ঘটনা বেড়েছে।

"২০১১ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে ৩১ জন মারা গেলেও ২০১২ সালে নিহতের সংখ্যা ৩৮ জন"

মানবাধিকার সংস্থা 'অধিকার' এর রিপোর্ট

অধিকারের আদিলুর রহমান খান বলছেন, প্রতিটি ঘটনাতেই নিরস্ত্র বাংলাদেশীরা নিহত হয়েছেন।

মি: খান জানান ২০১১ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে ৩১ জন মারা গেলেও ২০১২ সালে নিহতের সংখ্যা ৩৮জন। ২০০৯ সালে বিএসএফ-এর গুলিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ৯৮জন এবং ২০১০ সালে এ সংখ্যা কমে ৭৮জন হয়েছিল। মি: খান বলেন প্রতিটি ঘটনাতেই নিরস্ত্র বাংলাদেশীরা গুলিতে নিহত হয়েছেন।

বিএসএফ- এর গুলিতে যখনই কোন বাংলাদেশী নিহত হয় তখন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাকে গরু চোরাচালানকারী হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা দেখা যায়।

কিন্তু বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক মানুষের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।

রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকার একজন বাসিন্দা আবু আলম বলছিলেন সীমান্তে অন্যান্য অপরাধী তৎপরতার ক্ষেত্রে গুলি চালানোর খবর শোনা যায় না। মি: আলম বলেন যখন ভারত থেকে ফেনসিডিল চোরাচালান হয় তখন বিএসএফ-এর দিক থেকে গুলি করা হয়না।

"গরু চোরাচালানের সাথে ভারতীয়রা জড়িত থাকলেও গুলিতে কেবল বাংলাদেশীরাই নিহত হচ্ছে"

আবু আলম, রাজশাহী সীমান্তের বাসিন্দা

তিনি অভিযোগ করেন গরু চোরাচালানের সাথে ভারতীয়রা জড়িত থাকলেও গুলিতে কেবল বাংলাদেশীরাই নিহত হচ্ছে।

বিএসএফ এর দিক থেকে বলা হয় আত্মরক্ষার্থে তাদের গুলি চালাতে হয়। এছাড়া গতকাল বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরও বলেছেন প্রয়োজনে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি করার অনুমতি রয়েছে।

কিন্তু বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল অব: আজিজুর রহমান মনে করেন আত্নরক্ষার জন্য বিএসএফ-র দিক থেকে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয় সেটি যৌক্তিক নয়। তিনি বলেন সীমান্তে প্রানঘাতি অস্ত্র ব্যবহার সম্পর্কে বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিএসএফ সেটিকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছেনা।

“বিশ্বাসযোগ্য অজুহাত ছাড়া তারা প্রায়ই বলে আত্নরক্ষার্থে তাদের গুলি করতে হয়। সীমান্ত পারাপারকারীরা যদি চোরাকারবারীও হয়, তাহলে তাদের দ্বারা বিএসএফ আক্রান্ত হওয়া মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন বেসামরিক মানুষকে মোকাবেলার জন্য যদি গুলি করতেও হয় তাহলে এমন জায়গায় সেটি করতে হবে যাতে প্রানহানি না হয়।

এদিকে বিএসএফ-এর দিক থেকে সীমান্তে গুলি চালানো নিয়ে বাংলাদেশে যতই ক্ষোভ কিংবা থাকুক না কেন কিছুদিন আগে বিবিসির সাথে এক সাক্ষাৎকারে বিএসএফ প্রধান বলেছিলেন সীমান্তে গুলি চালানো পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻