BBC navigation

ঢাকায় বিমান কর্মীদের ধর্মঘটে যাত্রী দুর্ভোগ

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 8 জানুয়ারি, 2013 16:18 GMT 22:18 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশে বিমান কর্মীদের সাত ঘন্টার এক ধর্মঘটের ফলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের কার্যক্রম আজ মঙ্গলবার অচল হয়ে পড়েছিল।

এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করে বিমান কর্মীরা কাজে ফিরলেও বিমান বন্দরে যাত্রীদের জট সৃষ্টি হয়েছে। ধর্মঘট চলাকালে নির্ধারিত কোন ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যায়নি।

অন্যদিকে যেসব ফ্লাইট বিমান বন্দরে অবতরণ করে যেসব ফ্লাইটের যাত্রীরা তাদের লাগেজ সংগ্রহ করতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিমান কর্মীদের একটি ট্রেড ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের ডাকে এই ধর্মঘট শুরু হয়।

দুপুর একটার পর বিমান কর্তৃপক্ষ তাদের দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে বিমান কর্মীরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরতে শুরু করে।

কিন্তু সাত ঘন্টার ধর্মঘটের ফলে বিমান বন্দরে প্রচন্ড বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

যাত্রীদের ক্ষোভ

মঙ্গলবার সকাল থেকে চলা ধর্মঘটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নির্ধারিত কোন ফ্লাইট ছেড়ে যায়নি। ১৭ টি নির্ধারিত ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়।

এছাড়া সকালের দিকে কয়েকটি ফ্লাইট বিমানবন্দরে অবতরণ করলেও লাগেজ সংগ্রহ করতে না পারায় সেসব যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন।

এক পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষারত যাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম ক্ষোভ।

রোম থেকে আসা একজন যাত্রী খসরুউদ্দিন খান সকালে পৌঁছালেও লাগেজ পেতে দেরী হবার কারণে বিমানবন্দর থেকে বের হন বিকেল তিনটার দিকে।

তিনি বলেন,“আজ যে এক ধরনের সমঝোতা হলো সেটা যদি আগে করা হতো তাহলে যাত্রীদের এমন ভোগান্তিতে পড়তে হতোনা”।

বিমানবন্দরের একজন ডিউটি অফিসার জানান যাত্রীদের সামাল দিতে কিছুটা কষ্টই হয়েছে তাঁদের। বোর্ডিং পাস নেয়ার পরও যেসব যাত্রী যেতে পারেনি এবং যারা বিমানবন্দরে পৌঁছার পরও লাগেজ না পেয়ে যেতে পারছিলেন না, সেসব যাত্রীদের শান্ত রাখতে চেষ্টা করেছেন তারা।

দুপুরে বিমান কর্তৃপক্ষ শ্রমিক সংগঠনের দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে বিমান শ্রমিকরা তাদের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে কাজে ফিরতে শুরু করে।

দেশের প্রধান বিমানবন্দরে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব ফেলবে কিনা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে কিনা এমন প্রশ্নে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী ফারুক খান বলেন আর্থিক দণ্ডে না হলেও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। যে কোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি দুঃখজনক ঘটনা। বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যে যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এজন্য জন্য তিনি যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পরিচালক নাজমুল আনাম বলছিলেন সবকিছু এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কানেক্টিং ফ্লাইটের যাত্রীদের সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে নিঃসন্দেহে।

যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগ করেন কর্তৃপক্ষ আগাম ব্যবস্থা নিলে হয়তো এমন দুর্ভোগ পোহাতে হতোনা।

এ প্রসঙ্গে মি: আনাম বলেন তারা নিরুপায় ছিলেন, তাদের ধারণা ছিলনা এমনটা হবে। একটা সমঝোতায় আসার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া তাদের আর কিছুই করার ছিল না।

এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এখনই উদ্যোগী হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। তিনি জানান আজ রাতের জন্য রানওয়ে খুলে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা যতদূর সম্ভব চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻