BBC navigation

বাংলাদেশে জামায়াত নেতা কাদের মোল্লা দোষী, যাবজ্জীবন কারাদন্ড

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 5 ফেব্রুয়ারি, 2013 06:53 GMT 12:53 বাংলাদেশ সময়

আব্দুল কাদের মোল্লা

ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দিয়েছে।

কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে ছ’টি অভিযোগ আনা হয়েছিলো, তাদের মধ্যে ছিলো হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, গণ-ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি।

আদালত পাঁচটি অপরাধে মি: মোল্লাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৫ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়।

তবে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম রায়ে, বিশেষ করে শাস্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মি: আলম বলেছেন, যে দু'টি হত্যা মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন তাতে মৃত্যুদন্ডই উপযুক্ত শাস্তি ছিলো।

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সংঘটিত এই অপরাধগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ঢাকা ও তার আশেপাশের এলাকায়।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মিঃ মোল্লার বিরুদ্ধে মামলা শুরু হয় ২০১২ সালের ২৮শে মে।

বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন।

রায় এবং শাস্তি ঘোষণার সময় অভিযুক্ত মিঃ মোল্লা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় রায়।

তবে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় কোন নেতার বিরেুদ্ধে এটাই প্রথম রায়।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

মিঃ. আযাদ পলাতক রয়েছেন।

মামলা শুরু ২০১২ সালে

মিঃ. মোল্লার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত শুরু হয় ২০১০ সালে।

মিঃ মোল্লার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ঢাকার পল্লবীর কাছে একটি গ্রামে ৩৪৪ জনকে হত্যা করার অপরাধ।

পরে ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপক্ষ কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনে, এবং ২০১২ সালের মে মাসে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ শুরু হয়।

শুরুতে এই মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন ছিল। পরে তা ট্রাইব্যুনাল-২-এ স্থানান্তর করা হয়।

বিচারের সময় ট্রাইব্যুনালে মোট ১২ জন অভিযক্তের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সবগুলো অভিযোগই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

কিন্তু আসামী পক্ষের আইনজীবী বলছেন, কোনো অভিযোগই প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি।

জামায়াতে ইসলামী ট্রাইব্যুনালকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনাল’ বলে অভিহিত করে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবী করছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শীর্ষ নেতাদের বিচার বাতিলের দাবিতে দলটি গত কয়েক দিন ধরেই সহিংস আন্দোলন করছে।

তারা বলছে, আওয়ামী লীগ সরকারের নির্দেশে এই ট্রাইব্যুনাল পরিচালিত হচ্ছে।

দুটি ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন প্রধান গোলাম আযম এবং বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচার চলছে।

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻