BBC navigation

বাংলাদেশে সংশোধিত ট্রাইব্যুনাল আইনে দন্ডের স্পষ্ট বিধান নেই

সর্বশেষ আপডেট সোমবার, 18 ফেব্রুয়ারি, 2013 15:25 GMT 21:25 বাংলাদেশ সময়
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংশোধন বিল-২০১৩-এ স্বাক্ষর করেছেন।

তার এই স্বাক্ষরের মধ্যে দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হলো এবং এর মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচার করা যাবে।

কিন্তু এই বিচারে কোনো একটি সংগঠন মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে কী দণ্ডের সম্মুখীন হবে তা আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই।

বাংলাদেশে ৭১-এর যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩-এর সংশোধনী জাতীয় সংসদে রবিবার পাশ হবার পর আজ রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান এই বিলে স্বাক্ষর করলে তা আইনে পরিণত হয়।

বিলটিতে দুটি সংশোধনী আনেন মহাজোট সরকারের অন্যতম শরীক দল ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন এবং তার প্রস্তাবেই সংগঠনকে বিচারের আওতায় আনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু দণ্ডের বিষয়টি কেন উল্লেখ নেই এ প্রশ্নে মি মেনন বলেন আইনে সুর্নির্দিষ্ট করে দন্ডের কথা না বলা হলেও বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রয়োজন হলে তা আবার সংশোধনী এনে করা যেতে পারে ।

"আইনের মধ্যেই রয়েছে যে বিচারক শাস্তি র্নিধারণ করতে পারবেন।"

রাশেদ খান মেনন, ওয়ার্কার্স পার্টি নেতা

''আইনে বিষয়টি পরিস্কারভাবে নেই। কিন্তু আইনের মধ্যেই রয়েছে যে বিচারক শাস্তি র্নিধারণ করতে পারবেন।''

মি. মেনন বলেন তার মতে এখানে বড়ধরনের অসুবিধা নেই, কিন্তু তারপরও যদি বিষয়টি আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজন হয় কিংবা কোন সংশোধনী আনা প্রয়োজন হয় তাহলে তা পরবর্তীকালে আনা যাবে।

''তবে আমার মনে হয় এখনো যেটুকু আছে তা বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য যথেষ্ট। তবে এটা অবশ্যই আমাদের বিবেচনার মধ্যে নেওয়া প্রয়োজন।''

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সৈয়দ আমিরুল ইসলামও বলছেন কী দণ্ড হবে না হবে তা নির্ভর করবে ট্রাইবুনালের বিচারকের ওপর।

"সংগঠনের যখন বিচার হবে তখন তাদের হয় জরিমানা করা যাবে নাহয় তাদের নিষিদ্ধ বা বিলুপ্ত করা যাবে যা এই বিধানের আওতায়ই আসবে। "

সৈয়দ আমিরুল ইসলাম, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি

''এই আইনে বলা আছে যে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা গেলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা তার নিচে যে কোন শাস্তি দেয়া যাবে। একই রকমভাবে সংগঠনের যখন বিচার হবে তখন তাদের হয় জরিমানা করা যাবে নাহয় তাদের নিষিদ্ধ বা বিলুপ্ত করা যাবে যা এই বিধানের আওতায়ই আসবে বলে আমি মনে করি। তবে শাস্তি বিচারকের ওপরই নির্ভর করছে।''

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেওয়ার পর ঢাকার শাহবাগে যে আন্দোলন শুরু হয় সেখান থেকে দাবি উঠেছে জামায়াতে ইসলামী সহ যেসব সংগঠন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল সে দলগুলো নিষিদ্ধ করতে হবে।

সে সময়কার দলগুলোকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিও।

নির্মূল কমিটির নেতা শাহরিয়ার কবির বলছেন আইনে কোন অস্পষ্টতা নেই, ট্রাইব্যুনাল কোনো সংগঠনকে দোষী সাব্যস্ত করলে সরকারকে তখন বাকি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, ন্যুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল যে দৃষ্টান্ত রেখেছে তাতে দলকে ট্রাইব্যুনাল অপরাধী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করলে তারপর বিষয়টি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে যাবে এবং তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করাসহ অন্যান্য সব কিছুই সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে হবে।

তবে সুনির্দিষ্টভাবে আইনে দন্ডের বিধান কেন রাখা হয়নি এমন প্রশ্ন করা হলে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ এ বিষয়ে আজ কোন কথা বলতে রাজি হননি।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻