BBC navigation

ঢাকায় ৮ দলের নিরুত্তাপ হরতাল

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 24 ফেব্রুয়ারি, 2013 16:13 GMT 22:13 বাংলাদেশ সময়
হরতালের দিনে ঢাকার রাস্তা

হরতালের দিনে ঢাকার রাস্তা

বাংলাদেশে আটটি ইসলামপন্থী দলের ডাকে রোববার এক হরতাল রাজধানী ঢাকায় ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে।

বিভিন্ন ব্লগে ইসলামধর্মের অবমাননা করা হয়েছে এমন অভিযোগে শুক্রবার ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপকভিত্তিক সহিংস বিক্ষোভ পালনের পর দলগুলো এই হরতাল ডাকে।

তবে ঢাকায় হরতাল সমর্থকেরা কার্যত মাঠে নামেনি।

দু'একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সহিংসতার তেমন কোনো খবরও পাওয়া যায়নি।

হরতালে নেই পিকেটিং:

ঢাকার পুরোনো অংশ কামরাঙ্গীর চরে একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে ২০০-৩০০ মানুষ একটি মিছিল করে।

রবিবারের হরতালের সমর্থনে আহ্বানকারী আটটি ইসলামী দলের এটিই ছিলো ঢাকায় পালিত উল্লেখ করার মতো একমাত্র কর্মসূচি।

এই কর্মসূচি থেকে ব্লগারদের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়।

মোড়ে মোড়ে পুলিশী প্রহরা

মোড়ে মোড়ে পুলিশী প্রহরা

ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ব্লগে ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে এমন অভিযোগে শুক্রবার এই দলগুলো ঢাকা-সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভিত্তিক সহিংস বিক্ষোভ দেখায়। এই বিক্ষোভে বহু মানুষ আহত হয়।

কয়েকটি স্থানে নিহত হবার ঘটনা ছাড়াও শহীদ মিনার ভাংচুর ও জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে খবর প্রকাশিত হয়।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন তরফ থেকে অভিযোগ রয়েছে, জামায়াতে ইসলাম ও ইসলামী ছাত্রশিবির এসব ঘটনার নেতৃত্বে ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে রবিবারের হরতাল আহ্বানকারী আটটি ইসলামী দলের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সহকারী মহাসচিব মজিবর রহমান হামিদি বিবিসিকে বলছিলেন, তার ভাষায়, ইসলামের অবমাননাকারী নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি, ইসলামী রাজনীতি নিষিদ্ধ করার পায়তারা বন্ধ ও শুক্রবার গ্রেপ্তার করা নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে তাদের এই হরতাল।

মি. হামিদি আরো বলেন, ''যদি সরকার আমাদের দাবি না মানে তাহলে আমরা আরো কঠোর কর্মসূচি দেব। প্রয়োজনে অসহযোগ কর্মসূচী দেব। যেইভাবে সম্ভব সরকারকে অচল করে দেব।''

হরতাল-বিরোধী কর্মসূচী:

এদিকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে গত ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ব্লগাররা রোববারের হরতালের বিরোধিতা করে মিছিল করেছে।

সকালে তাদের এই মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেয়।

ঢাকার বিভিন্ন পাড়া ও মহল্লায় সরকারী দল আওয়ামীলীগেরও হরতালবিরোধী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে।

জনজীবনে মিশ্র প্রভাব:

হরতাল চলাকালে ঢাকার রাস্তাগুলোতে বিক্ষিপ্তভাবে যানবাহণ চলাচল করতে দেখা গেছে।

জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সবশেষ হরতালে সরকারিভাবে ঘোষণা দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা রাখা হলেও রবিবার ঢাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল, এমনকি এদিন মাধ্যমিক পর্যায়ের একটি পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

ঢাকার অনেক বিপনী বিতান ও দোকানপাটও বন্ধ ছিল। অবশ্য ঢাকার সবচাইতে বড় বিপনী বিতান বসুন্ধরা শপিং মল খোলা ছিল। কম হলেও অল্পবিস্তর ক্রেতাকেও আসতে দেখা গেছে।

আটটি ইসলামী দলের এই হরতালে বিরোধী দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী এর আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻