BBC navigation

বাংলাদেশে হরতালের সহিংসতায় পুলিশসহ নিহত ১৬

সর্বশেষ আপডেট রবিবার, 3 মার্চ, 2013 17:15 GMT 23:15 বাংলাদেশ সময়
বগুড়ার সড়কে অবস্থান নিয়েছে জামায়তে ইসলামী এবং ছাত্র শিবিরের কর্মীরা

বগুড়ার সড়কে অবস্থান নিয়েছে জামায়তে ইসলামী এবং ছাত্র শিবিরের কর্মীরা

বাংলাদেশে বিরোধীদলের ডাকা টানা তিনদিনের হরতালের প্রথম দিনে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশসহ ১৬ জনের নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে।

বগুড়া, রাজশাহী, জয়পুরহাট, গাজিপুর এবং ঝিনাইদহে পুলিশের সঙ্গে হরতাল সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় মৃত্যুর এই ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে বগুড়ায় নয় জন, রাজশাহীর গোদাগাড়িতে দু'জন, জয়পুরহাটে তিন জন, ঝিনাইদহতে একজন এবং গাজিপুরের শ্রীপুরে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার বেশ কয়েকটি পুলিস স্টেশনে সকাল থেকে হরতাল সমর্থকদের সাতে পুলিশের যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে তাতে হতাহতের ঘটনা সবচেয়ে বেশি।

বগুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ শহীদ আলম জানান, বগুড়া শহরের পরিস্থিতি এখন অনেকটাই শান্ত।

এদিকে দিনভর হরতাল সমর্থকদের সাথে পুলিসের সংঘর্ষে বগুড়া শহরে এখন থমে থমে অবস্থা বিরাজ করছে। শহরটিতে ১৪৪ ধারা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

শনিবার রাতে রাজশাহীতে ট্রেনে আগুন দেয়া হয়

বগুড়ার একজন বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন বলেন, ''কারফিউ জারি হলে যে অবস্থা হয় তেমন অবস্থা বিরাজ করছে এখানে। এবং মানুষের মনে এত ভয় এবং আতঙ্ক যে কেউ কারও সাথে কোন বিষয়ে আলোচনাও করছে না।''

এর আগে রোববার সকালে দুটি পুলিশ ফাঁড়িতে আগুন জামায়েতে ইসলামীর কর্মীরা। পুলিশ কর্মকর্তা মি. আলম বলেন, পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাময়িকভাবে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় শুধুমাত্র শাহজাহানপুরে।

পরে অবশ্য সেনাবাহিনী তুলে নেওয়া হয়।

এদিকে জয়পুরহাটের একজন পুলিস কর্মকর্তা মি. মিজান জানান জেলার পাঁচবিবি থানায় পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির সদস্যদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের সংঘর্ষ এ পর্যন্ত তিন জন নিহত হয়েছেন।

তবে এই সংঘর্ষে অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় মৃতে সংখ্যার বাড়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর দেশব্যাপী যে সহিংসতা শুরু হয় তার ধারাবাহিকতায় রোববার এই সহিংসতায় ঘটনা ঘটেছে।

এদিক চট্টগ্রাম, ঢাকা খুলনা ও দিনাজপুরে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

হরতালের ঢাকা

ঢাকায় সকাল থেকেই পুলিশের উপস্থিতি ছিলো ব্যাপক। শহরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও স্থাপনা তো বটেই, বিভিন্ন গলির মুখ এবং ভেতরেও দেখা গেছে পুলিশের উপস্থিতি।

তবে সাম্প্রতিক অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঢাকায় যানবাহণের উপস্থিতি ছিল কম। ব্যক্তিগত গাড়ী একদমই দেখা যায়নি। সকালে অনেক অফিসযাত্রীকেই হেঁটে কিংবা বিকল্প যানবাহনে চড়ে অফিসে যেতে দেখা গেছে। এদের কয়েকজন আমাকে বলছিলেন, বাধ্য হয়ে বাইরে বের হলেও তারা বেশ আতঙ্কিত। কিন্তু কর্মক্ষেত্রে পৌছানোর বাধ্যবাধকতা থাকায় তারা বাধ্য হয়েছেন ঘর থেকে বের হতে।

ঢাকায় পিকেটিং:

পুলিশের ব্যাপক হরতালবিরোধী অবস্থানের মধ্যেও দুএকজায়গায় ঝটিকা মিছিল করেছে হরতাল সমর্থকরা।

রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে নিহত এক ব্যক্তি

রাজশাহীতে পুলিশের গুলিতে নিহত এক ব্যক্তি

কোথাও কোথাও চেষ্টা হয়েছে রাস্তা অবরোধের। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রেই হরতালকারীরা অল্প সময়ের মধ্যেই ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে পুলিশের বাঁধার মুখে। এদিন ঢাকায় কোনো সহিংস ঘটনা ঘটার খবর না পাওয়া গেলেও দুপুরের দিকে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হাতে তৈরি বোমা বা ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।

পুলিশের প্রস্তুতি:

গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশ জুড়ে চলছে ব্যপক সহিংসতা। এমনকি শনিবারও বিরোধী দল বিএনপির নেতাকর্মীরা পুলিশের সাথে সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে এদিন গুলি ছুড়তে দেখো যায়। দেশের অন্যান্য স্থানেও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের গুলিতে নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এমন প্রেক্ষাপটে ঢাকায় যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে কি ধরণের নির্দেশনা রয়েছে পুলিশের কাছে? মতিঝিল অঞ্চলের সহকারী পুলিশ কমিশনার মেহেদি হাসান জানান, ''যেখানে দেখছি সাধারণ মানুষ বিপদগ্রস্থ, সম্পদ এবং জীবনের হানী ঘটতে পারে কিংবা আমরা নিজেরা বিপদগ্রস্থ সেখানে আইনের সর্বোচ্চ বিধান আমরা মেনে চলি।''

মি. হাসান আরো বলেন, ''আমরা রাবার বুলেট ব্যবহার করি। আর রাবার বুলেট প্রানহানীকর নয়।''

হরতাল বিরোধী কর্মসূচী:

জামায়াতে ইসলামীর এই হরতাল প্রত্যাখ্যান করে সকালে একটি মিছিল করে শাহবাগের আন্দোলনকারীরা। তারা সম্প্রতি জামায়াতের ডাকা হরতালগুলো প্রতিবারই প্রত্যাখ্যান করার ডাক দিয়ে আসছে এবং এ ধরণের মিছিল করছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে যে সহিংসতা চলছে, সেই প্রেক্ষাপটে শাহবাগের আন্দোলনকারীদের অবস্থান কি?

আন্দোলনকারীদের একজন ব্লগার শাকিল আহমেদ অরন্য বলেন, ''আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। সারা বাংলাদেশে জামায়াত যে সহিংসতা করছে, আমরা তাদের প্রতিরোধের ডাক দিয়েছি। সারাদেশে জনগণ তাদের প্রতিরোধ করছে।''

শাহবাগের আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সরকারী দল আওয়ামীলীগকেও হরতাল বিরোধী অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻