BBC navigation

বাংলাদেশে মঙ্গলবার হরতাল। ১৮, ১৯শে মার্চেও হরতালের হুমকি

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 12 মার্চ, 2013 01:22 GMT 07:22 বাংলাদেশ সময়
নয়া পল্টনে বিরোধীদলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ

নয়া পল্টনে বিরোধীদলীয় কর্মীদের বিক্ষোভ

বাংলাদেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ডাকে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল শুরু হয়েছে। এছাড়া আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে পুলিশ দলটির আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি না দিলে ১৮ই এবং ১৯শে মার্চ হরতাল পালনের ডাক দিয়েছে।

সোমবার রাতে ঢাকার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটি এবং ১৮-দলীয় জোটের নেতাদের এক বৈঠক শেষে আজকের হরতালের অতিরিক্ত দু’দিনের এই হরতালের ঘোষণা করা হয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ১৯শে মার্চ বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল স্থগিতও করা হয়েছে।

বিএনপির তরফে এই ঘোষণার আগে সোমবার সন্ধ্যেবেলায় পুলিশ দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দুজন কেন্দ্রীয় নেতা -- জয়নাল আবদীন ফারুক এবং সাদেক হোসেন খোকাকে আটক করে।

বিরোধীদলীয় নেতা-কর্মীদের, বিএনপির ভাষায়, গণহত্যার প্রতিবাদে ১৮-দলীয় জোট সোমবার একটি বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করেছিল।

সেখানে উপস্থিত বিবিসি একজন সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে নয়া পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল।

সমাবেশের শেষ বক্তা হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বক্তব্য শুরুর কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই কিছুটা দূরে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ

এই বিস্ফোরণের পর প্রচন্ড হুড়োহুড়ি করে সমাবেশ থেকে লোকজনকে ছুটাছুটি করতে দেখা যায়।

এসময় বিএনপি অফিসের সামনের রাস্তায় তাদের কর্মীরা রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। লম্বা সময় ধরে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

বিএনপির কর্মীরা পুরো পরিস্থিতির জন্য পুলিশকে দায়ী করেন। বিএনপির কর্মীরা অভিযোগ করেন সমাবেশ ভন্ডুল করারই জন্যই পুলিশ এই পরিস্থিতির তৈরি করছে।

বিএনপির একজন কর্মী বলেন, তাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তায় থাকবেন বলে জানান বিএনপির আরেকজন কর্মী।

এক পর্যায়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি করা শুরু করে। এসময় বিএনপির কর্মীরা আশপাশের ভবন এবং দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান নেয়।

পুলিশ এক পর্যায়ে দুই পাশ থেকে ধীরে ধীরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নেয়।

পুলিশ পুরো পরিস্থিতির জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সহ-পুলিশ কমিশনার মেহেদী হাসান বলেন, “তারা নিজেরাই এই বোমাগুলোর বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। তারা আগামিকাল হরতাল ঘোষণার জন্যই এ কাজটি করেছে।” এই ঘটানয় পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য্য দেখিয়েছে বলে মি: হাসান মন্তব্য করেন।

এর কিছুক্ষন পরেই পুলিশ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভেতরে ঢুকে তল্লাশি চালায় এবং বিএনপি মহাসচিবসহ বেশ ক'জন সিনিয়র নেতাকে আটক করে নিয়ে যায়।

এদিকে, ককটেল বিস্ফোরণ ও অন্যদিকে পুলিশের ফাঁকা গুলির কারণে পল্টন, বিজয় নগর, মতিঝিলসহ আশেপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻