BBC navigation

রাঙামাটিতে ব্রাশফায়ারে তিনজন নিহত

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 12 মার্চ, 2013 12:55 GMT 18:55 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশের পার্বত্য জেলা রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএসের একটি অংশ অভিযোগ করেছে সংগঠনটির তিনজন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে ।

পুলিশ বলেছে, এই ঘটনা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির দুই অংশের মধ্যেকার অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে।

সংস্কারপন্থী বলে পরিচিত পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির এম এন লারমা অংশের নেতারা দাবি করেছেন সংগঠনটির যে অংশ সন্তু লারমা'র অনুগত তাদের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা ব্রাশ-ফায়ার করে তাদের নেতাকর্মীদের হত্যা করেছে।

তবে সন্তু লারমার অংশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ।

নিহত তিনজন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এমএন লারমা অংশের সদস্য বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

নিহতদের অন্যতম সুদীর্ঘ চাকমা এই সংগঠনের রাঙামাটি জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক বলে জানিয়েছেন দলের নেতারা।

"প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জেএসএস এবং জেএসএস সংস্কারপন্থী এই দুই গ্রুপের মধ্যে ঐ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের কারণেই এ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটেছে"

আশরাফুজ্জামান, পুলিশ সুপার, রাঙামাটি

অন্য দু’জন হচ্ছেন জীবন চাকমা ও জ্ঞানেন্দু চাকমা।

এছাড়াও আলো চাকমা নামে আরেক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তারা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এম এন লারমা অংশের কো-চেয়ারম্যান সুধা সিন্ধু খীসা বিবিসি বাংলাকে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা অংশের ক্যাডাররা তাদের কর্মীদের ‘ব্রাশ-ফায়ার’ করে হত্যা করেছে।

“আমাদের ছাত্র-পরিষদের কর্মীরা লংগদুতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবার জন্য গিয়েছিল। মাঝপথে ১২জন সন্ত্রাসী অস্ত্র নিয়ে চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। এতে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান।”

তবে পুলিশ জানিয়েছে বিবদমান দুটি দলের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের কারণেই মূলত এ সংঘাত ঘটেছে।

জেএসএস একাংশের নেতা সন্তু লারমা

রাঙামাটি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বিবিসিকে বলেন যে, থানা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে ধ্বজপাড়া নামে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা আজ দুপুরে তিনটি লাশ উদ্ধার করেছে।

“প্রাথমিকভাবে জানা গেছে জেএসএস এবং জেএসএস সংস্কারপন্থী এই দুই গ্রুপের মধ্যে ঐ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ের কারণেই এ রক্তক্ষয়ী সংঘাত ঘটেছে।”

মি. জামান জানিয়েছেন যে ঐ এলাকা পুলিশ ও সেনাবাহিনী কর্ডন করে রেখেছে।

তবে এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছেন মি. জামান।

অন্যদিকে, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা বলেছেন, তাদের সংগঠন এই ঘটনার সঙ্গে কোনভাবেই সম্পৃক্ত নয়।

“জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এবং এটি আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বলা হচ্ছে। তবে আমরা শুনেছি ইদানীং ইউপিডিএফ এবং সংস্কারপন্থীদের মধ্যে চাদা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে, সে কারণে হলো কিনা আমরা জানি না।”

২০১১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা অংশের সঙ্গে মতাদর্শিক ভিন্নতার কারণে সংগঠন থেকে কিছু সদস্য বেরিয়ে যায়।

পরে তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি এম এন লারমা গঠন করেন।

এরপর থেকেই এই দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েকদফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ এবং জনসংহতির দুই অংশের নেতারা।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻