BBC navigation

ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের বিশাল সমাবেশ, সোমবার হরতালের ডাক

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 6 এপ্রিল, 2013 11:44 GMT 17:44 বাংলাদেশ সময়

মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের বিশাল সমাবেশ

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় ইসলামপন্থী দলগুলোর বিশাল এক জনসমাবেশ থেকে আগামী ৮ই এপ্রিল সোমবার দেশজুড়ে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে।

‘হেফাজতে ইসলাম’ নামের একটি সংগঠন তাদের ‘লং মার্চ’ শেষে ঢাকায় এই মহাসমাবেশের আয়োজন করে।

মতিঝিলের এই সমাবেশে সারাদেশ থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ যোগ দেন। মতিঝিল শাপলা চত্বরকে ঘিরে চারপাশের এলাকা বিরাট এক জনসমূদ্রে পরিণত হয়।

হেফাজতে ইসলাম এই লংমার্চ এবং মহাসমাবেশ ডেকেছিল তাদের ভাষায় নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি এবং ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারীদের কঠোর শাস্তির বিধান সহ ব্লাসফেমি আইন করার দাবিতে।

তবে শনিবার শাপলা চত্বরের সমাবেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের নেতারা ১৩ দফা দাবি ঘোষণা করে সেগুলো মেনে নেয়ার জন্য আগামি ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছেন।

এই দাবিতে তারা আগামী ৮ই এপ্রিল সোমবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছেন।

যদি ৩০শে এপ্রিলের মধ্যে সরকার তাদের দাবি মেনে না নেয় তাহলে ৫ই মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেন হেফাজতে ইসলামের নেতারা।

মতিঝিলের বিশাল সমাবেশে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহম্মদ শফী।

নাস্তিক ব্লগারদের শাস্তি এবং ব্লাসফেমি আইন ছাড়াও হেফাজতে ইসলামের দাবিতে আরও আছে নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ বন্ধ করা, ‘ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন’ বন্ধ করা এবং নারী নীতি ও শিক্ষা নীতি বাতিল করা।

বিশাল জনসমূদ্র

ভোর থেকেই খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে শাপলা চত্বরের দিকে আসতে থাকে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকরা।

মিছিলে অংশগ্রহনকারীরা ‘আল্লাহু আকবর’ এবং নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসি এবং গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধ শ্লোগান দেন।

শাপলা চত্বরে তৈরি বিশাল মঞ্চ থেকে সারাদিন ধরে বক্তৃতা দেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ।

দুপুরের পর শাপলা চত্বরকে ঘিরে পুরো এলাকাটি এক বিশাল জনসমূদ্রে পরিণত হয়।

শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে বায়তুল মোকারম পর্যন্ত রাস্তাটি ছিল মানুষের ভিড়ে ঠাসা। মতিঝিলকে ঘিরে আশে-পাশের রাস্তাগুলোতেও ছিল মানুষের স্রোত।

হেফাজতে ইসলামের লং মার্চ এবং মহাসমাবেশ ঠেকাতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, গণজাগরণ মঞ্চ এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন হরতাল এবং অবরোধ ডেকেছিল। এছাড়া বিভিন্ন জেলা শহরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়ক এবং রেল যোগাযোগও বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

কিন্তু তা সত্ত্বেও সারাদেশ থেকে হেফাজতে ইসলামের হাজার হাজার সমর্থক গাড়ীতে এবং পায়ে হেঁটে ঢাকায় এসে পৌঁছান।

“আমাদের শেরপুর থেকে কোন দূরপাল্লার বাস নেই। পরে আমরা ‘ভটভটি’ দিয়ে ভাঙ্গা ভাঙ্গা জার্নি করে ঢাকায় এসেছি”, বলছিলেন শেরপুর থেকে আসা হেফাজতে ইসলামের এক সমর্থক।

“ ফরিদপুর থেকে সরকার লঞ্চ বন্ধ করে দিয়েছে, ফেরি পারাপার বন্ধ করে দিয়েছে। আমি লোকাল গাড়িতে চড়ে, চার পাঁচ জায়গায় পায়ে হেঁটে ঢাকায় এসেছি”, বলছিলেন ফরিদপুর থেকে আসা আরেকজন।

অনেকে জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধে যেহেতু গাড়ি চলবে না, তাই তারা আগে-ভাগেই ঢাকা শহরে চলে আসেন।

জাতীয় পার্টি এবং ইসলামপন্থী বিভিন্ন দল সমাবেশে আসা লোকজনকে খাবার পানি এবং শুকনো খাবার সরবরাহ করে।

হেফাজতে ইসলামের নেতারা দাবি করেছিলেন যে তাদের আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। তাদের মূল দাবি ইসলাম র্ধমের অবমাননাকারীদের শাস্তি।

কিন্তু এই সমাবেশে যোগ দিতে আসা অনেককে সরকার এবং গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে মূলত বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদেরই প্রাধান্য ছিল।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আগেই এই সমাবেশের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। দলের নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সমাবেশস্থলে গিয়ে হেফাজতে ইসলামের দাবির প্রতি তাদের সংহতি জানান।

একই ধরনের খবর

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻