BBC navigation

পুর্নবাসন নিয়ে উদ্বিগ্ন সাভার দুর্ঘটনায় পঙ্গু শ্রমিকরা

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 18 মে, 2013 16:28 GMT 22:28 বাংলাদেশ সময়
savar victim

রানা প্লাজার দুর্ঘটনায় পঙ্গু হয়ে গেছেন বহু গার্মেন্ট শ্রমিক

বাংলাদেশের সাভারে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনায় যে শত শত মানুষ শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে গেছেন, তাদের অনেকেই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় বের হয়ে আসতে পারলেও এরা শারীরিক প্রতিবন্ধিতার কারণে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে।

গত কয়েক সপ্তাহে সরকার এবং বহু দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এদের পুনর্বাসনে অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে।

সাভারে ভবন ধসের ঘটনায় আহত অসংখ্য শ্রমিক যারা দুর্ঘটনায় প্রতিবন্ধী হয়ে গেছেন, তাদের পরিবারগুলো পড়েছে গভীর অনিশ্চয়তায়।

তবে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে কোন শ্রমিককেই যেন অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয় সেটি তারা নিশ্চিত করবেন প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিয়ে।

সাভারে গত ২৪শে এপ্রিল নয় তলা ভবন রানা প্লাজা ধসের ঘটনার পর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছিলো ১১২৭ জনের। আহত হয়েছে অসংখ্য মানুষ যাদের অধিকাংশই ওই ভবনের থাকা কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিক।

"কি করে খাব জানিনা। ডান হাত আর ডান পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেছে। সুস্থ হয়েও তো কিছু করতে পারবো না। "

দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ব বরণ করা এক শ্রমিক

এদের মধ্যে গুরুতর আহতদের অনেকেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাজধানী ঢাকা ও সাভারের হাসপাতালগুলোতে, যাদের অনেককেই জীবন বাঁচাতে পঙ্গুত্ব বরন করতে হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এই শ্রমিকদের অনেকেই ছিলেন তাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস আর তাই অসহনীয় শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি তারা অন্ধকার দেখছেন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েই।

আহতদের কেউ কেউ বলেছেন চিকিৎসা সেবা ছাড়াও ব্যক্তিগত উদ্যোগে নানা সহায়তা তারা পেয়েছেন। তবে তারা মনে করছেন এ ধরনের ব্যক্তি উদ্যোগে আসা সহায়তা বেশি দিন পাওয়া যাবেনা। তাই ভবিষ্যতে চিকিৎসার বিপুল পরিমাণ অর্থ ছাড়াও পরিবারের ভরন পোষণ হবে কীভাবে তা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।

হাসপাতাল থেকে একজন শ্রমিক ফোনে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “অনেক কষ্ট ভাই। হাত আর পা গেছে। কথা বলতেও সমস্যা হয়। কি করে খাব জানিনা। ডান হাত আর ডান পায়ের হাড় ভেঙ্গে গেছে। সুস্থ হয়েও তো কিছু করতে পারবো না। আমাকে তো একটা উপায় করে দিতে হবে। সেগুলো কেউ কিছু বলেনি এখনো আমাকে।”

আরেকজন শ্রমিক বলেন, “জানিনা, উপরওয়ালার ইচ্ছা কীভাবে চলবে সংসার।”

গার্মেন্ট শ্রমিক

আহত শ্রমিকরা পুর্নবাসিত হবেন কীনা তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন

অপর একজন শ্রমিক বলেন, “উঠতে বসতে এমনকী শুয়ে থাকতেও পারিনা। সংসার কীভাবে চলবে কেউ কিছু বলেনি”।

তবে তৈরি পোশাক শিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে সরকার, এনজিও, ও বিদেশি ক্রেতাদের ফোরাম সবাইকে নিয়েই তারা একটি সমন্বিত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করছেন যাতে যার যে ধরনের সহায়তা প্রয়োজন সেটি নিশ্চিত করা হবে।

সংগঠনটির সহসভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ৩০০ র বেশি গুরুতর আহত ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হতে পারে। তবে বিজিএমএই সেটি করবে।

“ যারা চাকুরির উপযুক্ত তাদের অন্য কারখানায় চাকুরির ব্যবস্থা করছি। যাতে শ্রমিকদের অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয় তার জন্য একটা ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা করা হবে।”

যারা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যাবেন তাদের কি হবে জানতে চাইলে মিঃ মাহমুদ বলেন তাদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করবো।

"যাতে শ্রমিকদের অন্য কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয় তার জন্য একটা ক্ষতিপূরণ পরিকল্পনা করা হবে।"

রিয়াজ বিন মাহমুদ, বিজিএমইএ সহসভাপতি

তিনি জানান প্রায় সাড়ে তিনশ জনের দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের প্রয়োজন হবে এবং সেজন্য বিজিএমইএ- সরকার, এনজিও এবং বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছে।

এদিকে বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার তৎপরতার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন আহত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত কোন তালিকা করতে পারেনি।

তবে অঙ্গহানি বা গুরুতর আহত হয়েছেন এমন ৭২ জন ব্যক্তির নামের তালিকা দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে।

সাভারের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মোল্লা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন এতদিন উদ্ধার তৎপরতা ও নিহতদের নিয়ে সবাই সর্বাত্মক কাজ করেছে। এখন তারা আহতদের বিষয়ে সামগ্রিক তথ্য সংগ্রহ করছেন। সাভারের বাইরের হাসপাতালগুলো থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মিঃ হাসান বলেন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে আহতদের নগদ অর্থসহ বিভিন্ন ভাবে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻