BBC navigation

মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুর্নবাসন শুরু না হওয়ার অভিযোগ

সর্বশেষ আপডেট মঙ্গলবার, 21 মে, 2013 17:22 GMT 23:22 বাংলাদেশ সময়
mahasen aftermath bhola

পুর্নবাসনের কাজ এখনও শুরু হয়নি বলে ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ

বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের কাজ এখনও শুরু হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ জরুরি ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনেকে অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনেক জায়গায় যে চাল সাহায্য দেওয়া হচ্ছে, তা তারা পচ্ছেন পরিমাণে অনেক কম।

সরকারি হিসেবেই মহাসেনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি জেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সরকার দাবি করছে, পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পাঁচদিন পরও বরগুনা জেলার একটা বড় অংশ পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। সেখানে চাষ করা মাছ এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

প্রত্যন্ত গ্রাম তালতলীর সুমন মিয়া সুদে টাকা ধার করে এক লাখ ৭২ হাজার টাকার মাছের চাষ করেছিলেন। পুরোটাই ঝড় ধ্বংস করে দিয়ে গেছে।

"আমি এখন নি:স্ব অবস্থায় আছি। নিজে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেই উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।"

সুমন মিয়া, মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্ত

তিনি বলছিলেন,‘আমি এখন নি:স্ব অবস্থায় আছি। নিজে কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব, সেই উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’

পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়ার গ্রামগুলোতেও মানুষ এখনও পুনর্বাসনের কোন উদ্যোগ দেখছেন না।

লালুয়া ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুর রব হাওলাদার জরুরি সাহায্যটুকুও পান নি কারও কাছ থেকে। তিনি বলেছেন, ‘সরকার বা কোন এনজিও কেউ সাহায্যে এগিয়ে আসেনি।’

লালুয়া ইউনিয়নেরই একজন কাউন্সিলর মজিবুর রহমান হাওলাদারের বক্তব্য হচ্ছে, সরকার থেকে ত্রাণ হিসেবে তারা পাচ্ছেন শুধু চাল। সেটাও যথেষ্ট নয়।

তিনি বলছিলেন, ‘আমার ওয়ার্ডেই তিনটি গ্রামে মাত্র ৬০টি পরিবারকে দশ কেজি করে চাল দিয়েছি। যেখানে দু’শয়ের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

"ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেক পরিবারকে বিশ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর কম দেওয়া যাবে না।"

মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াজেদ, মহাপরিচালক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর

দ্বীপ জেলা ভোলার ক্ষতিগ্রস্ত চরগুলোতেও অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে এখনও খোলা আকাশের নিচে রয়েছে। চর কুকড়িমুকড়ি’র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাশেম মহাজন বলেছেন, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে বা পুনর্বাসনের ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে তার মনে হচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ মানতে রাজি নন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো:আব্দুল ওয়াজেদ।

তিনি বলেছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেক পরিবারকে বিশ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর কম দেওয়া যাবে না। তবে অনেক গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, এমন মানুষও ভিড় করছে সাহায্যের জন্য। তখন হয়তো বিশ কেজির কম দিয়ে থাকতে পারে। তবে বিষয়টাতে তদন্ত করা হবে।’

তিনি বলেছেন, তাদের হিসাবে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৪ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৮২। আর বেশি ক্ষতি হয়েছে ,এমন পরিবারের সংখ্যা ৭২ হাজার ৬৫৪।

তিনি আরও জানিয়েছেন, বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে।

এখন মাঠপর্যায়ে তাদের পুনর্বাসনের কাজ শুরু করতে খুব বেশি হলে সপ্তাহ খানেক সময় লেগে যেতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻