যুদ্ধাপরাধের বিচার: সাতজন এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ

  • ২০ জুন ২০১৩
court

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের আইনে সংশোধনীর কার্যকারিতা জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে কি না, সেই প্রশ্নে আইনী ব্যাখ্যা জানতে আপিল বিভাগ এ্যামিকাস কিউরি হিসেবে শীর্ষস্থানীয় সাতজন আইনজীবীকে নিয়োগ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল আইনে সংশোধনীর মাধ্যমে সাজার ক্ষেত্রে সরকার বা রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতার পক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, ট্রাইবুনালে সাজা হওয়ার পর ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে আইনের সংশোধন করা হয়েছিল, এবং সে কারণেই তারা বিষয়টিতে প্রশ্ন তুলেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখন শুধু আব্দুল কাদের মোল্লার মামলাতেই শুনানী চলছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার থাকা জামায়াতের শীর্ষপর্যায়ের নেতাদের মধ্যে প্রথম, আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে রায় হয়েছিল গত ৫ই ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের এই রায়ে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।

কিন্তু তার মৃত্যুদন্ড না হওয়ায় সেই রায়ের বিরুদ্ধে তখন ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। অন্যদিকে, সেই সাজার বিষয়কে কেন্দ্র করে সরকার বা রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুযোগও ছিল না। এই পটভূমিতেই সরকারের আপিলের সুযোগ সৃষ্টি করে আইন সংশোধন করা হয়েছিল।

এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, "আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার রায় হয় ৫ই ফেব্রুয়ারি। আর সরকারের আপিলের সুযোগ দিয়ে আইনের সংশোধন করা হয় ১৮ই ফেব্রুয়ারি। এখন সাজা হয়ে যাওয়ার পর যে সংশোধনী আনা হয়েছে, সেটা এই মামলায় কার্যকর হবে কি না, সেই প্রশ্নে আইনগত ব্যাখ্যা জানতে আদালত সাতজন সিনিয়র আইনজীবীকে এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করেছে।"

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল থেকে এপর্যন্ত যে চারজনের বিচারকাজ শেষ হয়েছে, তাদের মধ্যে জামায়াতের শীর্ষপর্যায়ের নেতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী , মুহাম্মদ কামারুজ্জামান এবং দলটির সাবেক নেতা আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

শুধু আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছে। সেখানে মি: মোল্লার আপিল আবেদন ছাড়াও সর্ব্বোচ্চ সাজা চেয়ে সরকার পক্ষ থেকেও আপিল করা হয়েছে।

জামায়াতের অন্য দুজন নেতার আইনজীবীরা নির্ধারিত সময়েই আপিল করেছেন। আবুল কালাম আযাদ পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে কোন আপিল হয়নি। তবে জামায়াতের তিনজন নেতার আপিল আবেদনের মধ্যে এতদিন শুধু আব্দুল কাদের মোল্লার আবেদনের উপরই শুনানি হয়েছে।

শুনানিতে আইনের সংশোধনীর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মি: মোল্লার পক্ষের প্রধান কৌসুলী ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলছিলেন, "একটি মামলায় বিচার কাজ শেষ হওয়ার পর সেটাকে ঘিরে আইন পরিবর্তন করে ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দেখানো হচ্ছে। এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও ঘটেনি।"

এর পাল্টা যুক্তি আদালতে তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা দিয়ে আইন সংশোধনের অনেক নজির বাংলাদেশে রয়েছে।

বিষয়টাতে এ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবীরা হলেন, টি,এইচ খান, রফিকুল হক, আমির-উল-ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, রোকনউদ্দিন মাহমুদ, আজমালুল হোসেন এবং হাসান আরিফ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারপতির সমন্বয়ে আপিল বিভাগের বেঞ্চ এখন ৮ই জুলাই শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন।