'বাংলাদেশ বিদ্যুৎ পেলে খুশি হবে ত্রিপুরা'

  • ২৫ জুন ২০১৩
manik_sarkar_tripura
Image caption ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার (ছবি : পিটিআই)

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেছেন, ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে চেয়ে বাংলাদেশ সরকার তাদের অনুরোধ জানানোর পর বিষয়টি তারা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে জানিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বিবিসিকে বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে তাদের কোনও আপত্তি তো নেইই, বরং সেটা করা গেলে তারা খুবই আনন্দিত হবেন।

বাংলাদেশ তাদের ভূখন্ডের ভেতর দিয়ে ও আশুগঞ্জ নদী-বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম পরিবহন করতে দেওয়ার ফলেই ত্রিপুরার পালাটানাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ অনেক সহজ হয়েছে।

এখন ত্রিপুরা সরকার মনে করছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে এই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশের ‘নৈতিক অধিকার’ আছে এই কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ পাওয়ার!

বাংলাদেশ সরকারও আগেই ত্রিপুরাকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করেছে, যার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ঢাকাকে বলেছেন ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাজ্য নয় – বরং কেন্দ্রীয় সরকারই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে এর পাশাপাশি ত্রিপুরা সরকার দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র ও বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কেও চিঠি লিখে জানিয়েছে, যেহেতু পালাটানায় উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটা ত্রিপুরার কাজে লাগবে না – তাই তারা চান, সেই উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে পাঠানো হোক।

এর উত্তরে ভারত সরকারও ত্রিপুরাকে লিখেছে, বাংলাদেশে ভারত থেকে বিদ্যুৎ পাঠানোর জন্য দুদেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই সমঝোতা হয়েছে, তাই দিল্লি ঢাকাকে বিদ্যুৎ দিতে অনেক আগে থেকেই অঙ্গীকারাবদ্ধ – কিন্তু কোন কেন্দ্র থেকে সেই বিদ্যুৎ যাবে সেটা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারই স্থির করবে।

সেই কারণেই মানিক সরকার বলছেন, পালাটানায় উৎপাদিত বিদ্যুৎই শেষ পর্যন্ত ত্রিপুরায় যাবে কি না তা এখনও নিশ্চিত নয় – তবে ভারত সরকার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে অনেক আগে থেকেই।

তবে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের হিসেব অনুযায়ী, এই মুহুর্তে রাজ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকলেও পালাটানায় যখন উৎপাদন শুরু হবে – তখন রাজ্যে বিদ্যুৎ অবশ্যই উদ্বৃত্ত হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানিয়েছেন, পালাটানা থেকে ১৯৬ মেগাওয়াট ও নতুন আর একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আরও ১০৪ মেগাওয়াট – অচিরেই তারা প্রায় ৩০০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ রাজ্যে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

এর মধ্য থেকে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ত্রিপুরার জন্য উদ্বৃত্ত হবে, আর সেটা অন্য কোনও রাজ্যে বা বিদেশে যে রফতানি করতেই হবে – মুখ্যমন্ত্রী সে কথাও জানিয়েছেন।

কিন্তু বাড়তি এই বিদ্যুৎটা বাংলাদেশে পাঠানো হলেই যে তারা সবচেয়ে বেশি খুশি হবেন, বিবিসিকে সে কথা গোপন করেননি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার।