রেশমা উদ্ধার বিতর্ক নিয়ে বাংলাদেশের সংসদে হৈ-চৈ

ধসে পড়া ভবন রানা প্লাজার নিচে থেকে ১৭ দিন পর রেশমা বেগমকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে সাজানো নাটক বলে বর্ণনা করেছে বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপি। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে এ নিয়ে এক বিতর্কে বিএনপির এক সংসদ সদস্য ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন।

রানা প্লাজা ধসে পড়ার ১৭ দিন পর এর নিচে থেকে গার্মেন্টস কর্মী রেশমা বেগমকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করে। কিন্তু ঢাকার একটি দৈনিক ‘আমার দেশ’ এবং লন্ডনের ‘ডেইলি মিরর’ এ প্রকাশিত খবরে দাবি করা হচ্ছে, এটি ছিল সাজানো নাটক।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ‘ডেইলি মিরর’ এ প্রকাশিত খবরকে উদ্ধৃত করে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এ ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

কিন্তু সরকারের একজন মন্ত্রী বলেছেন, রেশমা-উদ্ধারের ঘটনাকে যারা সাজানো বলছেন - তারা পরিষ্কার মিথ্যাচার করছেন।

সেনাবাহিনীর প্রতিবাদ

ইতোমধ্যে ডেইলি মিরর সহ অন্যান্য সংবাদপত্রে রেশমা বেগমকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানায় আন্তবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর বা আইএসপিআর।

কিন্তু মঙ্গলবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাড়িয়ে বিরোধীদল বিএনপির সংসদ সদস্য শহিদউদ্দিন চৌধুরি এ্যানী বলেছেন, সরকার তাদের নেতিবাচক কর্মকান্ড থেকে মানুষের দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে রেশমা বেগমকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা সাজিয়েছিল।

তিনি সংসদে বলছিলেন, ‘রেশমা বেগমকে উদ্ধারের ঘটনা সাজানো নাটক। এটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম দ্য সানডে মিরর এবং ডেইলী মেইল-এ প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরণের ঘটনা দেশের এবং সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে। কারা এই ঘটনা সাজিয়েছে, তা বের করতে যেনো অবিলম্বে একটি বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।’

সরকারের কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরি এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সানডে মিরর এর প্রতিবেদনটিতে রেশমার একজন সহকর্মীকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। কিন্তু সেই সমকর্মীর নাম দেওয়া হয়নি। এছাড়াও প্রতিবেদক রেশমার ঐ সহকর্মীর সাথে কথা না বলে রেকর্ড শুনে বক্তব্য উদ্ধৃত করার কথা বলেছেন। ফলে প্রতিবেদনে তথ্য প্রমাণ নেই বলে মন্ত্রী মনে করেন।

একই সাথে বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করায় বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার লক্ষ্য নিয়ে এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে।’

ঘটনা যাকে কেন্দ্র করে সেই রেশমা বেগমে বক্তব্য তাৎক্ষনিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বাড়ি দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে। সেখান থেকে মোবাইল টেলিফোনে তার এক ভাই মো: জাহিদুল বলেছেন, পত্রিকায় কি প্রকাশ হয়েছে,তা তারা দেখেন নি। কিন্তু লোকমুখে শুনে তার মনে হয়েছে, তার বোনকে উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে অসত্য কথা ছড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলছিলেন, ‘ভবনটি ধ্বসে পড়ার খবর পেয়েই মাকে নিয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম এবং ১৭ দিন অপেক্ষার পর বিকেলে দেখি রেশমা নামের একজনকে উদ্ধার করা হলো। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমারই বোন রেশমা।’

সেনাবাহিনীর সাথে দমকল বাহিনীও উদ্ধারকাজে পুরো সময় ছিল। দমকল বাহিনীর প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী আহমদ খান বলেছেন, তাদের তাদের শ্রম ও কাজকে অসম্মান করার টার্গেট থেকে এসব মিথ্যাচার করা হচ্ছে।