গাজীপুর নিয়ে আবার এরশাদের নতুন অবস্থান

  • ৪ জুলাই ২০১৩
general ershad
Image caption মহাজোটে থাকার প্রশ্নে জেনারেল এরশাদ বিভিন্ন সময় নানা ধরণের বক্তব্য তুলে ধরে আসছিলেন।

বাংলাদেশে আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জেনারেল এরশাদ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দিয়ে একইসাথে তিনি বলেছেন, তাঁর দল জাতীয় পার্টি এখন ক্ষমতাসীন মহাজোটে থাকলেও আগামী সংসদ নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতীয় পার্টি মহাজোট থেকে বেরিয়ে গেলে অন্য কোনো দলের লাভ হবে , এমন সুযোগও তিনি দিতে রাজি নন। তবে মহাজোটে থাকা না থাকা প্রশ্নে জেনারেল এরশাদ বিভিন্ন সময় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তুলে ধরে আসছেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি, প্রধান দুই দলই জাতীয় পার্টিকে সাথে নিতে চাইছে ,যা এই দুই দলের তৎপরতায় প্রকাশ পাচ্ছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও, গাজীপুর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি- প্রধান দুই দলের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে কাছে টানার চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দলের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীরাও জাতীয় পার্টির নেতা জেনারেল এরশাদের সাথে দেখা করে সমর্থন এবং দোয়া চেয়েছেন। জাতীয় পার্টির মধ্যেও বিভক্তি প্রকাশ পেয়েছে।

দলটির স্থানীয় নেতারা বিভক্ত হয়ে প্রধান দুই দলের প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন দিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের দুইদিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে জেনারেল এরশাদ আওয়ামী লীগ বা এর জোটের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, "মহাজোটের শরীক দল হিসাবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে। এর মাধ্যমে সব ধুম্রজালের অবসান হবে।"

তবে মহাজোটে থাকা না থাকা প্রশ্নে জেনারেল এরশাদ বিভিন্ন সময় নানা ধরণের বক্তব্য তুলে ধরছিলেন। এমন সব বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রশ্নেও রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক আলোচনা হয়েছে।

অনেক সময়ই জাতীয় পার্টির সাথে ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরীক আওয়ামী লীগের সম্পর্কের দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছিল।

এখন আবার গাজীপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পাশাপাশি জেনারেল এরশাদ আগামী সংসদ নির্বাচনে এককভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেছেন, "ভোটের রাজনীতির ক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির একটি ভোটব্যাংক রয়েছে এবং সেটা আমরা বিবেচনায় রাখি।"

মি. হানিফ আরো বলেছেন, জেনারেল এরশাদ যে বিভিন্ন সময় নানারকম বক্তব্য তুলে ধরেন, সেগুলো তার দলকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা রাজনৈতিক কৌশল হিসাবেই দেখে আওয়ামী লীগ।

এদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি আগামী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করলেও বলেছে, নির্দলীয় সরকার ছাড়া তারা কোনভাবেই নির্বাচনে অংশ নেবে না। কিন্তু সেই সরকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেই বিএনপি জাতীয় পার্টিকে পাশে চায়।

একই সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ভোটের হিসাব নিকাশও তারা বিবেচনায় নেন।

মি. আলমগীরের বক্তব্য হচ্ছে, তাদের জোটে এমন অনেক দল আছে, যাদের সংসদে কোন প্রতিনিধিত্ব নেই।

"কিন্তু জাতীয় পার্টির সংসদে অনেকগুলো আসন রয়েছে। সে কারণেই জাতীয় পার্টিকে বিরোধীদের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আহবান আমরা জানিয়েছি।"

জেনারেল এরশাদের বক্তব্য হচ্ছে, তার দল এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি রাখছে। তবে মহাজোট থেকে বেরিয়ে গেলে অন্য একটি দল লাভবান হবে, সে সুযোগও তিনি দিতে রাজি নন।

তবে জেনারেল এরশাদের দিক থেকেও পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার একটা চেষ্টা রয়েছে বলে জাতীয় পার্টির নেতাদের সাথে কথা বলে মনে হয়েছে।

প্রধান দুই দল প্রকাশ্যে ইতিবাচক বক্তব্য তুলে ধরলেও তাদের মধ্যে একটা সন্দেহ কাজ করছে যে, এরশাদ আসলে কী অবস্থান নেবেন।