ত্রিপুরায় মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি কবরস্থান চিহ্নিত

tripura map
Image caption আগরতলার দুটি জায়গায় কবর খুঁজে পাওয়া গেছে

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের দুটি কবরস্থান চিহ্নিত করা গেছে৻

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে যেসব মুক্তিযোদ্ধা ত্রিপুরার বিভিন্ন সেক্টরে মারা গিয়েছিলেন, তাঁদের সেখানেই কবর দেওয়া হয়েছিল৻

কিন্তু ঠিক কোন কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়েছিল, সেটা এখন খুঁজে বার করেছে ত্রিপুরা সরকার৻

বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজনকে ভারতে আহ্বান করা হয়েছে, যাতে তাঁরা প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার দাফনের বিবরন যাচাই করতে পারেন৻

তারপরে মৃত যোদ্ধাদের দেহাবশেষ বাংলাদেশের হাতে ফিরিয়ে দেবে ত্রিপুরা৻

পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ও বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলাশাসকের মধ্যে এক বৈঠকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৻

পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক কিরণ গীতে বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, “মৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটা বড় তালিকা দেওয়া হয় গতবছর৻ অনেক চেষ্টা করে আগরতলার দুটি জায়গা চিহ্নিত করতে পেরেছি, যেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর দেওয়া হয়েছিল৻ রামনগর আর গোলচক্কর এলাকায় মুক্তিবাহিনীর সদস্যদের কবর দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে৻ চারদশকেরও বেশি সময় আগের ঘটনা হলেও যাঁদের কবর দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের তথ্য খুঁজে বার করা হয়েছে৻”

তথ্য সংগ্রহে সাহায্য নেওয়া হয়েছে ওই এলাকার প্রবীণ মানুষ আর ইতিহাসবিদদেরও৻

“ওই কবরগুলি যে সত্যি মুক্তিযোদ্ধাদের, সেটা নিশ্চিত করার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের একটা দল আসবে৻ তাঁরাই পারবেন নিশ্চিত করে বলতে যে কোন কোন মুক্তিযোদ্ধাকে কোথায় কবর দেওয়া হয়েছিল”, বলছিলেন মি. গীতে৻

Image caption ১৯৭১এর মুক্তিযুদ্ধ (ফাইল ছবি)

এর আগে, ২০০৭ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুর রহমানের কবর খুঁজে বার করা গিয়েছিল ত্রিপুরার কমলাপুর থেকে৻

বাংলাদেশ সরকার তাঁর দেহাবশেষ নিজেদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করেছিল৻

১৯৭১ সালে উত্তর পূর্ব ভারতের পাঁচটি সেক্টরে যুদ্ধ চলেছিল আর মুক্তিবাহিনীর সদস্যরা ছয়-সাতটি শিবিরে থাকতেন বলে জানা যায়৻

ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে যেখানেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, সেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের কবর৻

কিছু কিছু কবর খুঁজে পাওয়া গেলেও এখনও পর্যন্ত বেশিরভাগ কবরেরই কোনও খোঁজ নেই৻

সরকারি প্রচেষ্টা ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের কয়েকজন ব্যক্তিগত উদ্যোগেও মৃত সহযোদ্ধাদের কবর খুঁজে বার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন৻