ভারতীয় ছাত্র চায় বাংলাদেশের মেডিক্যাল কলেজ

  • ৯ জুলাই ২০১৩
bd_ind_medical
Image caption মেলায় আগত ছাত্রছাত্রীরা

ভারতে মেডিক্যাল পড়াশোনার খরচের প্রায় অর্ধেক খরচে বাংলাদেশে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়া যায় – এই প্রচারে নেমেছে বাংলাদেশের বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলি। তারা বলছে, ভারতের সেরা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলির খরচের চারভাগের একভাগ টাকায় বাংলাদেশ থেকে ডাক্তার হয়ে আসতে পারেন ভারতের ছাত্র-ছাত্রীরা।

ওই প্রচারের অঙ্গ হিসাবে কলকাতায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল এডুকেশন ফেয়ার শুরু হয়েছে বুধবার থেকে৻

তবে ভারতে ডাক্তারী পড়ার সুযোগ না পাওয়া ছাত্রছাত্রীরাই কম খরচে চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার ব্যাপারে বেশী উৎসাহ দেখাচ্ছেন ওই মেলায়।

ভারত সহ সার্কভুক্ত দেশগুলি সহ বিদেশী ছাত্রছাত্রীরা অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পড়াশোনা করতে যাচ্ছেন। আগে সরকারী কলেজগুলিতে নিজেদের অর্থব্যয় করে বিদেশী ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা করতেন। কিন্তু আসনের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সংখ্যাটা সীমিতই থেকেছে।

"এখন বাংলাদেশের মেডিক্যাল কলেজগুলিতে মোট আসনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় আট হাজার৻ আর এই আসনগুলিতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীরা যাতে আরও বেশী সংখ্যায় ভর্তি হন, তার জন্যই এই প্রচার অভিযান"- বলছিলেন বাংলাদেশের বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ডা. মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন৻

তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, কেন তাঁরা আশা করছেন যে ভারত থেকে বেশী সংখ্যায় ছাত্রছাত্রী বাংলাদেশে পড়াশোনা করতে যাবেন৻

ডা. হোসেনের কথায়, "ভারত আর বাংলাদেশের মেডিক্যাল এডুকেশন ব্যবস্থায় কোনও ফারাক নেই৻ দুই দেশের সংস্কৃতিও এক৻ তবে পড়ার খরচে অনেক তফাৎ৻ যেখানে সেরা বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলোর একটা এক কোটি রূপী অবধিও লাগে, সেখানে আমাদের দেশে পাঁচ বছরে ২৫ লক্ষ টাকায় পড়া হয়ে যায়। "

কলকাতার মেডিক্যাল এডুকেশন ফেয়ারে আসা একজন অভিভাবক বলছিলেন এক তো অনেক কম টাকায় তিনি ছেলেকে ডাক্তার করতে পারবেন বাংলাদেশ থেকে৻ "এছাড়া, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বইপত্রগুলোও অনেকটা এক, একই ধরণের রোগীদের দেখতে পাবে বাংলাদেশের ডাক্তারীর ছাত্ররা," বলছিলেন ওই অভিভাবক৻

বাংলাদেশের একটি বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক ডা. এহসামূল আজিম বলছিলেন বেশীরভাগ মানুষই খরচের ব্যাপারেই প্রশ্ন করছেন।

অনেকে প্রশ্ন করছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে ডাক্তারী পাশ করে এলে সেটা কি ভারত স্বীকৃতি দেবে? প্রশ্নটা করেছিলাম কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে।

তিনি বললেন, "মেডিক্যাল কাউন্সির অফ ইন্ডিয়ার একটা পরীক্ষা দিতে হয় বিদেশ থেকে ডাক্তারী পাশ করে আসা ছাত্রদের৻ বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রী নিয়ে এলেও সেই একই পরীক্ষায় বসতে হয়, তবেই ভারতীয়রা প্র্যাকটিস করার সুযোগ পাবেন৻"

মেলায় আসা কয়েকজন অভিভাবকই জানালেন যে তাঁদের ছেলে বা মেয়ে ভারতের সরকারী মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন নি, আবার বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পড়ানোর খরচও অনেক। তাই তাঁরা কম খরচে ডাক্তার করতে চান ছেলে-মেয়েকে।

কিন্তু বাংলাদেশের বেসরকারী কলেজগুলির কোর্স ফি যদি আরও কম হত, তাহলে হয়ত পশ্চিমবঙ্গের সাধারন মানুষ সেই সুযোগ নিতে পারতেন।

বাংলাদেশের বেসরকারী মেডিক্যাল কলেজ এসোসিয়েশন বলছে তাদের কলেজগুলিতে গত চারবছরে ভারত থেকে ৩১২ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন, নেপাল থেকে গেছেন ৬২২ জন আর পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় আটশো।

ভারত থেকে আরও বেশী ছাত্রছাত্রীকে আকৃষ্ট করতে তাঁরা দুদিন ধরে কলকাতায় মেলা করছেন, এর আগে ভারত শাসিত কাশ্মীরের শ্রীনগরে মেলা করেছেন, আর এরপরে তাঁরা প্রচারে যাবেন উত্তরপূর্ব ভারতের রাজ্য আসামের গুয়াহাটিতে।